যারা সিগারেট খায় তাদের নামাজ কী সহীয় হয়?
2 Answers
সিগারেট খাওয়ার বিষয়ে আলেমদের দীর্ঘ বক্তব্য রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ বক্তব্য হচ্ছে, সিগারেট খাওয়া হারাম। এটি মাকরুহ নয়। মাকরুহ হচ্ছে, যেটা অপছন্দনীয়, আর হারাম হচ্ছে যেটা নিষিদ্ধ। কোরআনুল কারিমে যে মূল নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার মধ্যে সিগারেট অবশ্যই পড়ে। নিকৃষ্ট জিনিসগুলো, ক্ষতিকর জিনিসগুলো ইসলামে হারাম করে দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, ধূমপান হারাম হওয়ার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই এবং এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। যেসব বন্ধু ধূমপান করেন তারা সতর্কতা আবলম্বন করুন। আপনারা নিজেরই ক্ষতি করছেন।
আর কেউ যদি জানে ধূমপান হারাম, ক্ষতিকর তার পরও যদি তিনি সিগারেট খান, তাহলে তিনি গুনাহগার হবেন।
আর আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,(সূরা-বাকারা,অধ্যায়-২,আয়াত-১৯৫)“তোমরা নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।”
তার মানে নিজেকে মেরে ফেলো না। যেহেতু ধূমপান এক ধরনের ধীর গতি সম্পন্ন বিষক্রিয়া,তাই এটা আত্মহত্যা করার মত। বিষক্রিয়া,প্রত্যেক দিন আপনার ক্ষতি হবেই। এর উপর ভিত্তি করে বেশির ভাগ ফতোয়া দেওয়া হয়েছে যে ধূমপান করা হারাম।
>>কিন্তু.............. সিগারেট খেলে নামায হবে না–এই মর্মে কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতির ফতওয়া নেই।
আর নামায তো পড়তেই হবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا ‘مَّوْقُوتًا
নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। (সূরা নিসা ১০৩)
সুতরাং -যে ব্যাক্তি ধুমপান করে সেও যেন নামাজ না ছাড়ে৷ "নিশ্চয় নামাজের জন্য পবিত্রতা শর্ত ",ভালোভাবে অযু-কালাম করে পবিত্র হয়ে নামাজ পড়বে৷
যারা সিগারেট খায় তাদের নামায সহীহ হয়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি (কাঁচা) রসুন বা পিঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের নিকট থেকে দূরে অবস্থান করে অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে। মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে যে, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব গাছের কোন একটি খায় অর্থাৎ রসুন বা অনুরূপ স্বাদ ও গন্ধের কোন কিছু খায় সে যেন মাসজিদে না আসে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বরঃ ১১৩৫ হাদিসের মানঃ সহিহ)। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি (কাঁচা) পিঁয়াজ রসুন ও লীক পাতা খায়, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কেননা, ফিরিশতাগণ সেই জিনিসে কষ্ট পান, যাতে আদম সন্তান কষ্ট পায়। কাঁচা পিঁয়াজ রসুন লীক পাতা নামাযের আগে খাওয়া উচিৎ নয়। খেতে বাধ্য হলে এবং মুখ এর গন্ধ দূরীভূত না করতে পারলে জামাআতে শামিল হওয়া বৈধ নয়। তবে একাকী ও জামাআতে নামায পড়লে নামায শুদ্ধ হয়ে যায়। অনুরূপ বিড়ি সিগারেট খাওয়ার ফলে মুখ বা লেবাসে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। তা খাওয়া হারাম এবং তার দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে বা জামাআতে আসাও অবৈধ। বিড়ি, সিগারেট ও তামাক জাতীয় সব বস্তু হারাম; আর তাতে রয়েছে উৎকৃষ্ট দুৰ্গন্ধ- যা পরিত্যাগ করা প্রত্যেক মুসল্লীর অত্যাবশ্যক।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy