1 Answers
জান্নাতের নেয়ামত অজস্র সংখ্যায় বিদ্যমান। তবে কিছু কিছু নেয়ামতের কথা কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী অবগত হওয়া যায়। যেমনঃ →জান্নাতীদের প্রত্যেকের অট্টালিকায় তাঁবু থাকবে যেখানে হুরেরা অবস্থান করবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, "তাঁবুতে সুরক্ষিত থাকবে সুলোচনা সুন্দরীরা।" (আর রাহমান - ৭২)। →জান্নাতে অসংখ্য ফল-মূল দ্বারা পরিপূর্ণ থাকবে। কুরআনে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, "তাতে আছে ফলমূল, আর খেজুর আর ডালিম।" (সূরা আর-রহমান - ৬৮)। →জান্নাতের নদীসমূহের পানির রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, "তাতে আছে নির্মল পানির ঝর্ণা, আর আছে দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নদী আর পরিশোধিত মধুর নদী"। (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত নং ১৫)। এ সম্পর্কে রাছূল (সঃ) বলেন, "জান্নাতে পানির সাগর, মধুর সাগর, দুধের সাগর ও শরাবের সাগর রয়েছে। এগুলো থেকে পরে আরো নহরের শাখা-প্রশাখা বের হবে"। (তিরমিজী)। →জান্নাতের বৃক্ষসমূহ হবে কাঁটা বিহীন ও তাদের ছায়া অনেক লম্বা হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, "আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল! তারা থাকবে কাঁটা বিহীন বরই গাছগুলোর মাঝে। কলা গাছের মাঝে যাতে আছে থরে থরে সাজানো কলা, বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছায়া, অবিরাম প্রবাহমান পানির ধারে, আর পর্যাপ্ত ফলমূল পরিবেষ্টিত হয়ে।" (সূরা ওয়াক্বিআহঃ ২৭-৩২)। →জান্নাতের বৃক্ষসমূহ সর্বদা শস্য-শ্যামল থাকবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, "ঘন সবুজ এ বাগান দু'টি।" (সূরা আর রাহমান ৬৪)। →জান্নাতের বৃক্ষসমূহের শাখাগুলো লম্বা ও ঘন হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, "দু'টোই শাখা পল্লবে ভরপুর।" (সূরা আর রাহমান ৪৮)। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ সম্পর্কে বলেন, "জান্নাতের প্রতিটি বৃক্ষের মূল হবে স্বর্ণের"। (তিরমিজী)৷ →এছাড়াও, জান্নাতের ঝর্ণা সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, "সেখানে থাকবে প্রবাহমান ঝর্ণা"। (সূরা আল-গাশিয়াহঃ ১২)। মহান আল্লাহ্ বলেন, "নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগান আর ঝর্ণার মাঝে"। (সূরা আদ্-দুখান, ৫১-৫২)। আল্লাহ্ তায়ালা আরো বলেন, "মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া আর ঝর্ণাধারার মাঝে, আর তাদের জন্য থাকবে ফলমূল-যেটি তাদের মন চাইবে"। (সূরা আল-মুরসালাত, আয়াত নং ৪১-৪২) →জান্নাতীরা ষাট হাত লম্বা হবেঃ আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূল (সঃ) বলেছেন, "জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তি আদম (আঃ)-এর ন্যায় ষাট হাত লম্বা হবে"। (সহীহ মুসলিম) →জান্নাতীদের চেহারা ও বয়সঃ "মোয়াজ বিন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সঃ) বলেছেন, "জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের চেহারায় কোন দাড়ি-গোঁফ থাকবে না। চক্ষুদ্বয় লাজুক হবে। বয়স হবে ত্রিশ থেকে তেত্রিশ এর মাঝামাঝি"। (তিরমিজী)। মহোদয়! জান্নাতের নেয়ামতের কথা লিখতে গেলে লিখে তা শেষ করা যাবে না। এ বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামীন-ই ভাল জানেন। তাছাড়া তাঁর মতো করে ভালোভাবে বিশ্লেষন আর কেওই করতে পারবে না।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy