নামাযের মধ্যে সব সময় অসওয়াসা আসলে কি করব?

আমি নামায পড়তে গেলে মনে মনে চলে নানান খারাপ চিন্তা চলে আসে। আমি মাঝে মাঝে মনে মনে বলেও ফেলি যে ওমুক এর খারাপ হুক। আমার নিজের খারাপ চাই। আমি আল্লাহর কাছে মুখ দিয়ে ভালো দুয়া করলেও মনে মনে অইগুলা চলে আসে। দিনের অনেক সময় ই এমন হয়। যখন আজান হয় তখন তো দুয়া কবুল এর সময়। তখন খারাপ দুয়া মনে মনে করে ফেলি নিজে না চাইলেও। আর মনে হয় আল্লাহ মনে হয় আমার খারাপ দুয়া গুলা কবুল করে ফেলসে। এটা মনে হয় হয়ে যাবে। এসব ভেবে সারাদিন কোনো কাজ করতে পারি না। কারোর সাথে কথা বলতে ইচ্চে করে না। মানসিক ভাবে  অনেক ভেংগে পরেছি। দয়া করে আমাকে কোনো পরামর্শ দিবেন। খুব অশান্তিতে আছি।   
2811 views

2 Answers

নামাজ মনোযোগ দিয়ে আদায় করার চেষ্টা করুন । সূরা,কিরাত সব কিছু ভালো ভাবে পড়ুন । আর নামাজের বাইরে মনে খারাপ চিন্তা আসলে পড়ুন, "আউজু বিল্লাহি মিনা শাইতনির রজীম। আমাংতু বিল্লাহি অমালাইকাতিহি অকুতুবিহি অরুসুলিহি অল ইয়াওমিল আখির । অল ক্বদরি খয়রিহি অশার্রিহি মিনাল্লহি তায়ালা অল বা'ছি বা'দাল মাউত ।

2811 views Answered

আমাদের উচিৎ শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা৷ 

শয়তানের কুমন্ত্রণা ভয়ঙ্কর একটি বিষয়। শয়তানের কুমন্ত্রণায় মানুষের ঈমান দূর্বল হয়ে যায়। শুধু তাই নয় অনেক সময় মুমিনের জীবনকে বিপন্ন করে তুলে শয়তানের কুমন্ত্রণা।

সৃষ্টির শুরু থেকেই শয়তান মানুষকে নানাভাবে কুমন্ত্রণা দিয়ে আসছে। দুনিয়াতে একজন মুমিন অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় শয়তানের এ কাজ অবশিষ্ট থাকবে। সাহাবিরাও এমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, সাহাবিদের একটি দল হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো, আমরা আমাদের অন্তরে কখনো কখনো এমন বিষয় অনুভব করি, যা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা আমাদের কাছে খুব কঠিন মনে হয়। হজরত রাসূল (সা.) বললেন, সত্যিই কি তোমরা এ রকম পেয়ে থাক? তারা বললেন, হ্যাঁ; আমরা এ রকম অনুভব করি। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এটি তোমাদের ঈমানের স্পষ্ট প্রমাণ।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তার কিতাবুল ঈমানে বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি শয়তানের প্ররোচণায় কখনো কুফরির মতো কুমন্ত্রণায় পতিত হয়। এতে তাদের অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যায়।

মুমিন ব্যক্তির এমন কুমন্ত্রণাকে অপছন্দ করা সত্বেও তার মনে এর উদয় হওয়া এবং তা প্রতিহত করতে প্রাণপন চেষ্টা করা তার ঈমানদার হওয়ার প্রমাণ বহন করে। 

সুতরাং -আপনি হতাশ হবেন না!আপনার জন্য এটা খুবই সুসংবাদ যে, নবী সাঃ এর ভাষ্যমতে আপনি একজন মুমিন" তাই শয়তান আপনাকে ওয়াসওয়াসা দেয় বা আপনার পিছনে লেগে আছে৷ 

বস্তুত কোনো মানুষ যখন বুঝবে শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রসঙ্গে, তখন তার উচিৎ কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। সেই সঙ্গে মনে রাখা, এমন কুমন্ত্রণায় কোনো গোনাহ হয় না। 

আরো স্পষ্ট হলো যে,শুধুমাত্র মনের ওয়াসওয়াসা'র কারণে আপনি গোনাহগার হবেন না৷ 

এ প্রসঙ্গে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘(শয়তানের কুমন্ত্রণা)আমলে পরিণত করা অথবা মুখে উচ্চারণ না করা পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা আমার উম্মতের মনের কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।’

কিন্তু.... বাঁচার উপায়-নবী করিম (সা.) শয়তানের ওয়াস্ওয়াসা থেকে বাঁচার পন্থাও আমাদের জন্য বর্ণনা করেছেন। প্রথমতঃ এসব ধারণা থেকে বিরত থাকা এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। 

যখন কোনো মুমিন শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় ইবাদতে মশগুল হয়- তখন তার অন্তর থেকে কুমন্ত্রণা চলে যায়। সুতরাং মানুষের অন্তরে শয়তানের কুমন্ত্রণা জাতীয় যা কিছু উদয় হলে, তা থেকে নির্লিপ্ত থাকতে হবে। সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে, এসবের কোনো অস্তিত্ব নেই; বরং তা ভিত্তিহীন মনের কল্পনা মাত্র।

অতএব, সতর্ক থাকা যে,মনের ওয়াসওয়াসা'র কারণে আমরা যেন কোন কুফরি কথা/কাজে লিপ্ত না হয়,এবং শয়তানকে প্রতিহত করার চেষ্টা করি সবসময়৷ 


2811 views Answered

Related Questions

Next steps