1 Answers

নিজ নিজ স্থান থেকে তারা উভয়ে আল্লাহর দরবারে মর্যাদাবান! তবে শর্ত হলো-প্রকৃত আলেম ও প্রকৃত হাফেজ হতে হবে৷

উল্লেখ্য -আপনি যদি হাফেজ বলতে শুধু হাফেজ,যে কোরান মুখস্থ করেছে কিন্তু নাহু-সরফও ফিকাহের জ্ঞান অর্জন করেনি, তাদের বুঝান!তাহলে নিশ্চয় আলেমদের মর্যাদা বেশি৷

তবে যদি হাফেজ সে যদি কোরানের যথাযথ সম্মান  দেই এবং তার মুখস্থকৃত কোরানকে হেফাজত করে,তবে সেও মর্যাদাবান৷তবে আলেমের সমপরিমাণ হবে না!!

এবার আসুন-আলেম সম্পর্কে একটু আলোচনা করি!

প্রকৃত আলেমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে ব্যক্তি ফিকাহ শাস্ত্রের ইলম হাসিল করেছেন কিন্তু তাসাঊফ হাসিল করেননি, তিনি হচ্ছেন ফাসেক। আর যে ব্যক্তি কেবল তাসাউফ বিদ্যা লাভ করেছে, কিন্তু ফিকাহ শাস্ত্রের বিদ্যা আর্জন করেনি, সে হচ্ছে যিন্দিক। আর যে ব্যক্তি উভয় প্রকার (ফিকাহ ও তাসাউফ) ইলেম উপার্জন করেছেন, তিনি হচ্ছেন মুহাক্কিক বা পরিপূর্ণ ও প্রকৃত আলেম।

আল্লাহ পাক কুরআনে আলেমের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাকের বান্দাদের মধ্য হতে শুধুমাত্র আলেমগণই আল্লাহপাককে ভয় করে।” [সূরা ফাতির : ২৮]

এ আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম, ইমামুল আইম্মা, শায়খুল মুহাদ্দেসীন হযরত আহমদ বিন হাম্মল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যার ভিতর যত বেশি আল্লাহভীতি রয়েছে তিনি তত বড় আলেম।”

যারা প্রকৃত আলেম তাদের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে অতি উচ্চে। সাধারণ মানুষের মাঝে আলেমরা হলেন নক্ষত্ররাজিতুল্য। যাদেরকে অনুসরণ করার মাধ্যমে মানুষ সঠিক পথের সন্ধ্যান লাভ করে থাকে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পৃথিবীতে আলেমদের উদাহরণ হলো নক্ষত্ররাজির মতো। এদের সাহায্যে জল ও স্থলের অন্ধকারে পথের দিশা পাওয়া যায়। আর যদি তারকারাজি নির্মিলিত হয়ে যায়, তবে পথিকদের পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। [মুসনাদে আহমাদ ও জামিউস সগীর]

কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে আলেমদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সূরা জুমার এর ৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, “যারা আলেম এবং যারা আলেম না; তারা কী সমান হতে পারে?” কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কী সমান হতে পারে?”[সূরা রাদ : ১৬]

সুতরাং -নিশ্চয় আলেমের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে অনেক উপরে! 

2845 views

Related Questions