4 Answers

স্বামী-স্ত্রী কিভাবে ঘুমাবে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই৷ প্রত্যেক ব্যাক্তিরই ঘুমানোর সময় ডান কাতে শোয়া সুন্নাত৷ এরপরে যে কোনভাবে (উপুড় হওয়া ছাড়া) শুইতে পারে৷

6679 views Answered

স্ত্রী স্বামীর কোন দিকে শুবে এই বিষয়ে হাদিসে কোন স্পষ্ট আলোচনা নেই। তবে প্রত্যেককেই ডান কাত হয়ে ঘুমানোর কথা হাদিসে আছে।     

6679 views Answered

স্বামী -স্ত্রী কে কোন পাশে ঘুমাবে–এব্যাপারে কোন বিধি-নিষেধ নেই; বরং প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য ডান কাতে ঘুমানো সুন্নাত। কেননা রাসূল বলেছেন, إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلَاةِ ، ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الْأَيْمَنِ ‘যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন নামাযের ওযুর মত ওযু করবে। অতঃপর ডান কাত হয়ে ঘুমাও। (মুসলিম ২৭১০)

উপুড় হয়ে ঘুমানো মাকরূহ। কেননা রাসূল বলেছেন, إنها ضجعة يبغضها الله عز وجل ‘এটি এমন শয়ন, যাকে আল্লাহ তাআলা  খুব অপছন্দ করেন।’ (আবু দাউদ ৫০০১)
6679 views Answered

হ্যা!নিশ্চয় স্বামী বা স্ত্রী,ছেলে বা মেয়ে প্রত্যেকের উচিৎ সুন্নাত তরিকায় ঘুমানো!এব্যাপারে অন্যান্য ভাইয়েরা আলোচনা করেছে!স্বামী -স্ত্রী যখন একসাথে ঘুমাবে তখন যেভাবে /যে যে পাশে মন চাই ঘুমাবে৷ এব্যাপারে শরীয়তে কোন বিধিনিষেধ নেই৷ কারণ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা জেন রেখ, তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের ওপর অধিকার আছে। আর তোমাদের স্ত্রীদেরও অধিকার আছে তোমাদের ওপর।’(স্ত্রীকে স্বামীর ডানপাশে ঘুমাতে হবে,কিংবা স্ত্রীকে স্বামীর উপর ঘুমানো যাবেনা!ইত্যাদি ইত্যাদি কোন বিধিনিষেধ নেই! দু'জনেরই ইচ্ছামতো ঘুমাবে,দু'জনেরই অধিকার আছে৷) 

পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে অন্য হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা স্ত্রীদের প্রতি কল্যাণকামী হও।’স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক বা ভালোবাসা কেমন হবে; দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক কেমন হবে; তার বিবরণ ফুটে ওঠেছে স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পারিবারিক জীবনে। যা মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে খেলাধূলা করতেন। একবার তিনি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা দিয়ে ইচ্ছা করে হেরে যান। কিছুদিন পর পুনরায় দৌঁড় প্রতিযোগিতায় হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হেরে যান।অতপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আয়েশা! আজ আমি তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি, তুমি আমার সঙ্গে পারনি। এটা হলো প্রথম প্রতিযোগিতায় জিতে যাওয়ার বদলা।'

তিনি স্ত্রীগণকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাদের চুমু দিতেন এবং কখনো কখনো তাদের উরুতে মাথা রেখে শুয়ে বিশ্রাম নিতেন।

" হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পাত্রের যে স্থানে মুখ দিয়ে পানি পান করতেন, বিশ্বনবিও সে স্থানে মুখ দিয়েই পানি পান করতেন।আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাঁড়ের যে জায়গা থেকে গোস্ত খাওয়া শুরু করতেন হজরত আশয়া রাদিয়াল্লাহু আনহাও হাড়ের ঐ জায়গা থেকে গোস্ত খাওয়া শুরু করতেন।’এ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, বিশ্বনবির দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীদের সঙ্গে কত মধুর সম্পর্ক ছিল।" হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত খুশি মনে মুচকি হাসতে হাসতে গৃহে প্রবেশ করতেন এবং দরদমাখা কণ্ঠে সালাম দিতেন। বিশ্রামের সময় বিছানার ব্যাপারে কোনো দোষ ধরতেন না, এমনকি বিছানা যেভাবে পেতেন তার উপরই শুয়ে পড়তেন।"রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম স্বামী যে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে। আমি আমার স্ত্রীদের সঙ্গে সবার চাইতে ভাল ব্যবহার করি।

সুতরাং -এসব আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে,আলোচ্য এব্যাপারে ইসলামে কোন বিধিনিষেধ নেই৷ 

পরিশেষে...বিশ্বনবির দাম্পত্য জীবনের আলোকে বুঝা যায় যে, সুখ ও শান্তিময় জীবন যাপনে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে বিকল্প নেই। জীবনকে সুখ-শান্তি ও আনন্দময় করে তুলতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণ আবশ্যক কর্তব্য।

6679 views Answered

Related Questions

Next steps