আচ্ছা ভাবছি ঈসা(আঃ) বা ইমাম মাহদী যখন আগমন করবেন তখন এতো মডার্ণ টেকনোলোজি থাকলেও মুসলমান রা কীভাবে জিতবে?
3 Answers
আপনার সম্ভবত ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন ধারণা নেই। মুসলমানরা কখনোই অস্ত্র, লোকবল দ্বারা জয়ী হয়নি। বরং জয়ী হয়েছে আল্লাহ এর প্রতি অকুন্ঠ বিশ্বাস ও দ্বীনি জযবা দ্বারা। ইসলামের প্রাথমিক যুগের সকল যুদ্ধেই মুসলমানরা অস্ত্র ও লোকসংখ্যায় কাফিরদের চেয়ে কয়েকগুণ পিছিয়ে থাকার পরও জয়ী হয়েছে। আবার ষোড়শ শতাব্দীতে পৃথিবীর সেরা সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ছিল ওসমানীয় খিলাফত (অটোমান সাম্রাজ্য) এর। কিন্তু তারা ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে পড়ায় সেখান হতে তাদের পতন ঘটেছে। তাই ইমাম মাহদী আঃ এর সৈন্যরা ঈমানি চেতনায় যুদ্ধ করেই কুফফারদের পরাজিত করবে।
কুরআনুল কারিমের সুরা আল-ইমরানের ১২নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘(হে রাসুল!) আপনি অবিশ্বাসীদের বলে দিন, অচিরেই বিজয় আসবে............!
পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তরে ইসলামের বিজয় নিশান উড়বে এমন ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন বিশ্বনবি। তিনি বলেছিলেন মুসলিমরা সমুদ্রের বুক চিরে ইসলামের বিজয় পতাকা নিয়ে ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়। কুরআন এবং হাদিসে প্রিয়নবির সে ভবিষ্যদ্বাণী সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে।
তাফসিরে ইবনে কাসিরে ইসলামের বিশ্ব বিজয়ের কথা এসেছে এভাবে-হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহার মা হজরত উম্মে ফজল রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, এক রাতে মক্কাবাসীকে লক্ষ্য করে মক্কা নগরীতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চ স্বরে বলতে লাগলেন-- হে লোকেরা! আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছি?- হে লোকেরা! আমি কি তোমাদের তাবলিগ করেছি?- আমি কি তোমাদের কাছ আল্লাহর একত্ববাদ এবং আমার রেসালাতের পয়গাম পৌঁছে দিতে পেরেছি?
তখন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি অবশ্যই আমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন।পরদিন সকালে প্রিয়নবি (বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিজয়ের কথা) ঘোষণা করলেন, ‘তোমরা সবাই শোন!-- একদিন ইসলামের বিজয় হবে।- ইসলামের প্রচার হবে অত্যন্ত বেশি।- কুফরের (অবিশ্বাসের) অমানিশা (অন্ধকার) কেটে যাবে।- (এমনকি) অন্ধকার যুগের অবসান ঘটবে।
(সর্বোপরি)-‘ইসলামের পয়গাম (বিজয় নিশান) নিয়ে সমুদ্রের বুক চিরে সারা বিশ্ব ছড়িয়ে পড়বে (মুসলিম উম্মাহ) এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসারে (তারা) বিশ্বব্যাপী আত্মনিয়োগ করবে।’
তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে-এমন সময়ও আসবে যখন মানুষ (অহংকারের সঙ্গে) কুরআন কারিম শিক্ষা করবে, তেলাওয়াত করবে। আর বলবে, আমি ক্বারি, আমি আলেম, আমার থেকে বড় কে? প্রিয়নবি (উপস্থিত লোকদেরকে) জিজ্ঞাসা করবে, ‘এ লেঅকদের মধ্যে কি কোনো কল্যাণ থাকবে?
উপস্থিত লোকেরা প্রিয়নবিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এ লোকদের পরিচয় কী? তখন তিনি ইরশাদ করলেন, ‘তারা তোমাদের মুসলমানদের মধ্য থেকেই হবে। কিন্তু মনে রাখবে, এরা হবে দোজখের ইন্ধন।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)
উল্লেখিত হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, একদিন বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিজয় নিশান উড়বে। আবার মুসলিমদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে অহংকারী লোক। যারা ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সতর্কতাপ্রিয়নবি ঘোষিত হাদিসে বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিজয়ের সুসংবাদে যেমন রয়েছে আনন্দ ঠিক তেমনি কুরআন হাদিসের ইলমধারী লোকদের অহংকারের দুঃসংবাদও রয়েছে। হাদিসের শিক্ষানুযায়ী ইসলামকে বিশ্বব্যাপী বিজয়ী করতে নিজেদের অংশগ্রহণ যেমন জরুরি ঠিক তেমনি অহংকার থেকে মুক্ত থাকাও ঈমানের একান্ত দাবি।
ইসলাম কখনো তলোয়ার/অস্ত্রের জুরে বিজয় হয়নি,ইসলাম বিজয় হয়েছে মুসলমানদের দৃঢ় বিশ্বাস এর কারণে, ঈমানের জুরে৷ আজ মুসলমানরা প্রতিটি জনপদে নির্যাতিত নিপীড়িত সত্য,এটাও আল্লাহর রাসূল বলে গেছেন৷ মুসলমানরা যখন নিজেদের ঈমানি চেতনা থেকে দূরে যাবে,তখন এই অবস্থা হবে৷
কিন্তু বিজয় সুনিশ্চিত৷ এটা আল্লাহ ও তার নবীর বাণী!এবং আমাদের বিশ্বাস৷
ভাই আপনি হয়ত জানেন না যে, রাখে আল্লাহ মারে কে। আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব। এক হাজার যুদ্দ্বাস্র সহ কাফেরদের পরাজিত করেছিলেন মাত্র ৩১৩ জন অস্রবিহীন মুসলিম সাহাবীদের দ্বারা।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy