জ্বীন ও শয়তানদের কি আযাব হবে না?

তাদের আযাব কেমন হবে?
2733 views

3 Answers

হ্যা অবশ্যয় হবে  

2733 views Answered

পাপী জ্বিন ও শয়তানের অবশ্যই আযাব হবে। তাদেরকেও মানুষের মত জ্বলন্ত আগুনসহ বিভিন্ন শাস্তির উপকরণ দ্বারা শাস্তি দেওয়া হবে।  এখন হয়তো আপনি প্রশ্ন করতে পারেন যে, আগুনের তৈরী জ্বিন/শয়তান কে আগুন দ্বারা কিভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। এর উত্তরে মুফাসসিরীনে কেরাম আমাদের মাজহাবের ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)  এর একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন।যার সারমর্ম এই, "মাটির তৈরি ইট দ্বারা মাটির তৈরি মানুষকে মারলে মানুষ যেমন কষ্ট পায়, তেমনি আগুনের তৈরী জ্বিন ও শয়তান একইভাবে জাহান্নামের আগুনের শাস্তি আস্বাদন করবে।"

2733 views Answered

আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমের মধ্যে এরশাদ করেছেন, শয়তান মূলত জিন জাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। জিন জাতির মধ্যে শয়তান থাকে, তবে সব জিনই শয়তান নয় এবং মানুষের জন্য যেমন মৃত্যু অবধারিত একটি বিষয়, অনুরূপভাবে জিন ও শয়তানদের জন্যও অবধারিত একটি বিষয়। শুধু ইবলিশকে আল্লাহু তায়ালা একেবারে কেয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে সে অবকাশপ্রাপ্ত। মানবজাতির মধ্যে যেমন ভালো-মন্দ আছে, তেমনি জিনদের মধ্যেও ইমানদার আছে, আবার বেইমানও আছে। তারাও মানুষের মত ইবাদত করে। কোরআনে কারিমের মধ্যে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, আমি জিন ও মানুষকে কেবলমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি। (সূরা আয-যারিয়াতঃ ৫৬) এই আয়াতে আল্লাহ তার বিধিগত (শরয়ী) ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন, যা তিনি ভালবাসেন ও চান। আর তা হলো সমস্ত মানুষ ও জিন কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং আনুগত্যও শুধু তারই করবে। এর সম্পর্ক যদি তার সৃষ্টিগত ইচ্ছার সাথে হত, তবে কোন মানুষ ও জিন আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখতা অবলম্বন করার কোন ক্ষমতাই রাখত না। অর্থাৎ, এই আয়াতে সকল মানুষ ও জিনকে জীবনের সেই উদ্দেশ্যের কথা স্মরণ করানো হয়েছে, যেটাকে তারা ভুলে গেলে পরকালে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসিত হবে এবং এই পরীক্ষায় তারা অসফল গণ্য হবে, যাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে ইচ্ছা ও এখতিয়ারের স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছেন। কোরআনে কারিমের মধ্যে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, আর যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্র করবেন এবং বলবেন, হে জিন সম্প্রদায়! তোমারা তো অনেক লোককে পথভ্রষ্ট করেছিলে’ এবং মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক অপর কিছু সংখ্যক দ্বারা লাভবান হয়েছে এবং আপনি আমাদের জন্য যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন এখন আমারা তাতে উপনীত হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, আগুনই তোমাদের বাসস্থান,তোমারা সেখানে স্থায়ী হবে, যদি না আল্লাহ অন্য রকম ইচ্ছে করেন। নিশ্চয় আপনার রব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। (আন-আমঃ ১২৮) এ আয়াতে হাশরের ময়দানে সব জিন ও মানবকে একত্রিত করার পর উভয় দলের সম্পর্কে একটি প্রশ্ন ও উত্তর বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা শয়তান জিনদেরকে সম্বোধন করে তাদের অপরাধ ব্যক্ত করবেন এবং বলবেন, তোমরা মানব জাতিকে পথভ্রষ্ট করার কাজে ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছ। তাদেরকে তোমরা আল্লাহর পথ থেকে দূরে রেখেছ। আর তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলে। তোমরা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করেছ। সুতরাং আজ তোমাদের উপর আমার লা'নত অবশ্যম্ভাবী, আমার শাস্তি অপ্রতিরোধ্য। তোমাদের অপরাধ অনুপাতে আমি তোমাদেরকে শাস্তি দিব। কিভাবে তোমরা আমার নিষিদ্ধ বিষয়ে অগ্রগামী হলে? কিভাবে আমার রাসূল ও নেক বান্দাদের বিরোধিতায় লিপ্ত হলে? অন্যদের পথভ্রষ্ট করার ব্যাপারে তোমাদের কোন ওজর আপত্তি শোনা হবে না। আজ তোমাদের পক্ষে সুপারিশ করারও কেউ নেই। তখন তাদের উপর যে শাস্তি, অপমান ও লাঞ্ছনা আপতিত হবে সেটা অবর্ণনীয়। এর উত্তরে জিনরা কি বলবে, কুরআন তা উল্লেখ করেনি। তবে এটা বোঝা যায় যে, মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ তায়ালার সামনে স্বীকারোক্তি করা ছাড়া গতি নেই। কিন্তু তাদের স্বীকারোক্তি উল্লেখ না করার মধ্যেই ইঙ্গিত রয়েছে যে, এ প্রশ্ন শুনে তারা এমন হতবাক হয়ে যাবে যে, উত্তর দেয়ার জন্য মুখই খুলতে পারবে না। কোরআনে কারিমের মধ্যে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, আমি বহু সংখ্যক জিন আর মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে শোনে না, তারা জন্তু-জানোয়ারের মত, বরং তার চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারা একেবারে বে-খবর। শেষ কথা হলোঃ জিন ও শয়তানদের আযাব হবে। যারা অন্যায়কারী তারা জাহান্নামের ইন্ধন। আখিরাতে জিন ও মানবজাতি উভয়কে তাদের অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া হবে।

2733 views Answered

Related Questions

Next steps