5 Answers
ইসলামে প্রেম করা হারাম কারন যদি আপনি প্রেম করেন তাহলে আপনি সীমা লঙ্ঘন করতেও বেশি দূরে নেই।স্বাভাবিক ভাবেই প্রেম করলে একজন আরেকজনের আকৃষ্ট হয় এবং প্রতি পদক্ষেপর ভুল করার সিন্ধান্ত থাকে।যার পরিনতি হতে পারে ভয়াবহ। তাছাড়া বিবাহের আগে কোন ছেলে কোন মেয়েকে স্পর্শ বা তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া বা চলাফেরা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর আমার বা আপনার মাঝে এই ভুলগুলো হতেই পারে।যার জন্য এটিকে ইসলাম সমর্থন করে না।
ইসলামে প্রেম হারাম হওয়ার কারণ হলো: ছেলে মেয়ে বিয়ের আগে প্রেম,ভালোবাসা, শারিরীক সম্পর্ক এবং এ সম্পর্কে তাদের ধ্যানধারণা যা তাদের মতে আধুনিকত ও সামাজিকতারসঙ্গে তাল মেলানো বলে সেসবের ইসলামে কোন অনুমোদন নেই। রাসূল (সা.) বলেছেন, যার সঙ্গে বিবাহহারাম নয় এই রকম কোনো নারীর সঙ্গে একাকী অবস্থাননিষেধ , অনুরুপ বিবাহ হারাম নয় এই রকম পুরুষেরসঙ্গেও একাকি অবস্থান নিষেধ, কেননা সেখানে শয়তানতৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে থাকে।’ (সহীহ মুসলিম) ইসলামের মধ্যে সবচেয়ে নিবিড় বন্ধন একটাই, সেটা হলোবিয়ের বন্ধন। বিয়ের বন্ধনে প্রেম-ভালোবাসা সবই আছে।বিয়ের আগে প্রেম করাটা ইসলামে নিষিদ্ধ। এমনকি ইসলামের বিধিবিধান অনুসারে বিয়ের আগে প্রেম-ভালোবাসা হারাম। কারণ এইধরনের সম্পর্ক একজন মুসলমানের জন্য ঈমানী, চারিত্রিক, সামাজিক ইত্যাদি দিকথেকে ক্ষতিকর। আর এ সম্পর্কে কোরআন মাজীদে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে, তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দেন, পবিত্র ও উত্তম বস্তুআর হারাম করে দেন অপবিত্র ও ক্ষতিকর বস্তু (সূরা:আল আরাফ, আয়াত: ১৫৭)
প্রেম মানেই দুইটা ছেলেমেয়ে কথা বলা , ছুঁয়ে দেখা , পরবর্তীতে বিছানা পর্যন্ত যায় । যেটা ইসলামে পুরোটাই হারাম । ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকানো হারাম । পর্দা ছাড়া কথা বলা হারাম । বিয়ের আগে বিছানায় যাওয়া তো বিরাট শাস্তির কথা বলা আছে । প্রেম করা হারাম কেন , এর কোন উত্তর নেই । এটা আল্লাহ র বিধান ।
প্রেম করা হারাম নয়। বিয়ের আগে প্রেম হারাম. বিয়ের পর প্রেম করতে কোন বাধা নেই বরং সওয়াব হবে। বিয়ের আগে একজন পুরুষ ওপর মহিলার সামনে যাওয়া ই হারাম প্রেম তো অনেক দুরের কথা
শুধু এভাবে বললে ভুল হবে যে,ইসলামে প্রেম ভালোবাসা হারাম।বরং ইসলামে বিবাহ পূর্ব প্রেম-ভালোবাসা হারাম ও অবৈধ।কারণ ইসলামি শরীয়ত এটাকে নিষিদ্ধ করেছে।অর্থাৎ আল্লাহ ও তার রাসুল সাঃ এই কাজ থেকে আমাদের নিষেধ করেছে।ইসলামে ঐ সমস্ত কিছুই হারাম যা আল্লাহ ও তার রাসুল সাঃ নিষিদ্ধ করেছে,পত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।
আমাদের সমাজে অবিবাহিত ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রেম-ভালবাসা যেন একটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে। তবে এই প্রেম সম্পর্কে ইসলাম কী বলেছে? মুসলমান হিসেবে আমাদের সবারই জানা দরকার। এবার দেখুন এ সমপর্কে ইসলাম কী বলছে-
বেগানা পুরুষের সাথে বেগানা মহিলার প্রেম পিরিত হারাম। প্রেম জায়েজ তবে সেটা আপনার বিবাহিত স্ত্রীর সাথে ইসলামে প্রেম করা জায়েজ। কিন্তু সেই প্রেম হতে হবে বাবার প্রতি সন্তানের যে প্রেম থাকে, প্রতিবেশির প্রতি প্রতিবেশির যে প্রেম থাকে। যদি আপনার কোন যুবতী মেয়ের প্রতি যৌন উত্তেজিত প্রেম থাকে তাহলে সেই প্রেম একেবারেই জায়েজ নয়।
বিবাহ পূর্ব প্রেম হারাম।
“স্বাধীনভাবে লালসা পূরণ কিংবা গোপনে লুকিয়ে প্রেমলীলা করবে না” (সূরা আল মায়িদা: ৫)
এরপর সূরা নূর এর ৩০ নং আয়াতে পুরুষদের চোখ নীচু রাখতে এবং লজ্জা স্থান হিফাজত করতে বলা হয়েছে।
৩১ নং আয়াতে নারীদেরও একই কথা বলা হয়েছে, পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর নারীরা কাদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবে তাদের একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে।
সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে পর্দা করার নির্দেশ আরো পরিস্কার ভাষায় বলা হয়েছে। যেখানে দৃষ্টি নীচু ও সংযত রাখা, লজ্জা স্থান হিফাজত করার কথা এবং পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর সূরা মায়িদাতে গোপন প্রেমলীলাকে নিষেধ করা হয়েছে সেখানে বিবাহ পূর্ব প্রেম বৈধ হতে পারে কি করে? এটা হারাম।
জিনা তথা অবৈধ শারীরীক সম্পর্ক হারাম। (সূরা ইসরা আয়াতঃ ৩২) (সূরা ফুরকানঃ ৬৮)জিনার নিকট যাওয়াই নিষেধ অর্থাৎ যে সকল জিনিস জিনার নিকটবর্তী করে দেয় তার কাছে যাওয়াই নিষেধ। বিবাহ পূর্ব প্রেম নর-নারীকে জিনার নিকটবর্তী করে দেয় আর জিনা মারাত্মক একটি কবিরা গুণাহ।
বিবাহপূর্ব প্রেম অনেক সময় বান্দাহকে শিরকের নিকটবর্তী করে দেয়। কারণ অনেক সময় তারা একে অপরকে এতটাই ভালবাসা শুরু করে দেয় যে প্রকার ভালবাসা পাওয়ার দাবীদার একমাত্র আল্লাহ। (সূরা বাকারাঃ১৬৫)
শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে? সূরা আল মায়েদাহ, আয়াত নং ৯০ থেকে ৯১।
আসলে ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন উপায় বলে দেয়।প্রেম করলে শয়তান অবশ্যই জিনা করতে প্রলুব্ধ করবে। ইসলামে বিয়ের আগে প্রেম করা হারাম।