2 Answers
না!তওবা করার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই।এমনকি বিশেষভাবে হাত তুলে তওবা করারও প্রয়োজন নেই।আপনি যখনই কোন পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে গেলেন সাথে সাথে আল্লাহর কাছে নিজ কৃতকর্মের উপর লজ্জিত হয়ে পানা চান (তওবা করুন)।তওবা সম্পর্কে কোরানের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরা তওবা। এছাড়া সূরা নুর, সূরা সূরা তাহরিম, সূরা বাকারা, সূরা ফুরকানসহ কুরআনের আরও অনেক স্থানে তওবা এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। আর হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন (তওবা) কর, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার। — কুরআন, সূরা ২৪ (আল-নুর), আয়াত ৩১[৭] হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সমীপে খাঁটি তওবা কর, এই আশায় যে তোমাদের প্রভু তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন আর তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে উপবিষ্ট করবেন যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে... — কুরআন, সূরা ৬৬ (আল-তাহরিম), আয়াত ৮[৮] নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর কাছে তওবা করে, এবং তিনি তাদেরকে ভালবাসেন যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে। — কুরআন, সূরা ২ (আল-বাকারা), আয়াত ২২২[৯] অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে, এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন; আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন মাথার উপর মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে - আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফুরি(অবাধ্য) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। — কুরআন, সূরা ৪ (আন-নিসা), আয়াত ১৭-১৮[১০] এমনি ভাবে আল্লাহর নবী সঃ এর অনেক হাদিসেও তওবার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। সহিহ বুখারীতে, আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল বলেন, "তোমাদের কেও মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হয়, আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবাতে তাঁর চেয়েও বেশি খুশি হন।" — সহীহ বুখারী, ৮:৭৫:৩২১(ইংরেজি) আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, "আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও অধিক বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তওবা করে তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করি।" — সহীহ বুখারী, ৮:৭৫:৩১৯(ইংরেজি) নিচের এই হাদিসটি এ বিষয়ের প্রতি ইংগিত করে যে,তওবার কোন সময় সিমা নেই।