নটরডেম কলেজ এ ভাইভা সম্পর্কে কিছু জানালে ভালো হয়?

পোশাক পরিচ্ছদ   প্রশ্ন প্রস্তুতি যে যা জানেন বলেন  
3081 views

1 Answers

মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি


নটর ডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষার মনোনয়নের অন্যতম একটি ধাপ হল সাক্ষাৎকার। লিখিত পরীক্ষা শেষে একটি নির্দিষ্ট রুমে কয়েকজন শিক্ষকের সম্মুখীন হতে হবে তোমাকে। এই বিষয়ে কিছু প্রশ্নোত্তরের জবাব দেওয়া হল।


পোশাক নির্বাচনঃ


অনেকেই চিন্তায় পড়ে যায় কি পোশাক পড়ে গেলে সবচেয়ে মার্জিত ও দৃষ্টিনন্দন দেখা যায়। পোশাক নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামানোর কিছু নেই। এটা শুধুমাত্র একটি আবরণ তোমার জন্যে, আর খুব বেশি চাকচিক্যতা বেনিফিট বয়ে আনবা না। তুমি ফর্মাল পড়তে চাইলে, পড়তে পারো। একটা মার্জিত শার্ট, প্যান্ট, স্যান্ডেল পড়লেও পড়তে পারো। ভাইভার পোশাকে তোমার রুচিশীলতা আর আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে। এই নিয়ে সাক্ষাৎকার বোর্ডের কারো কাছে একটি বেশি প্রায়োরিটি এনে দিবে না। মার্জিত, দৃষ্টিকটু না এমন যা কিছু ইচ্ছে পড়ো। 


এটিকেটঃ


সালাম দিয়ে প্রবেশ করার ভদ্রতাজ্ঞান। সেখানের টিচার কোন ধর্মের হবেন সেটা ফ্যাক্ট না, তুমি যে ধর্মের হবে সেই ধর্মমতে সালাম, আদাব দিয়ে প্রবেশ করবে।


প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ 


আগামীকাল প্রাথমিক মনোনয়নের যে নোটিশ দিবে, সেখানে উল্লেখ করা থাকবে মৌখিকের সময় কি কি নিয়ে আসতে হবে। মূলত তোমার এসএসসি পরীক্ষার সকল সনদ, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, টেস্টিমনিয়ালের মেইন কপি ও ফটোকপি, ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, কোটাধারীদের কোটা সংশ্লিষ্ট কাগজাদির মেইন কপি ও ফটোকপি নিয়ে যেতে বলবে। এছাড়াও স্কুলজীবনে অর্জিত সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে অর্জিত সকল কিছুর সনদের ফটোকপি নিয়ে যেতে পারো।


সাক্ষাৎকারে দুই থেকে ততোধিকের কলেজের শিক্ষক থাকতে পারেন। কয়েকটি কাগজ তোমার সামনে শো করবেন তারা। যেকোনো একটি চ্যুজ করতে হবে তোমাকে। ওখানে বেস কিছু প্রশ্ন থাকে। মূলত সেইসব প্রশ্নই করা হয়ে থাকে মৌখিক পরীক্ষায়। দশটির মতো প্রশ্ন থাকতে পারে। যেসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারো-


১। শিক্ষা বলতে কি বুঝ?

২। এখানে কেন পড়তে চাও।

৩। ভর্তি হলে পড়াশুনা ভাল করে করবে কিনা?

৪। অন্য কলেজের চেয়ে এখানের কি তোমাকে বেশি অভিভূত করে?

৫। কোনো ক্রনিক ডিজিস আছে কিনা যেমন- হাপানী। যারা সারাবছর অসুস্থ থাকে তাদের এই কলেজে পড়াশুনা করতে উৎসাহিত করা হয় না।

৬। সিগারেট খাও কিনা।

৭। এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজের সাথে জড়িত কিনা।

৮। স্কুলে থাকতে ক্লাব করতে কিনা।

৯। ঢাকায় থেকে পড়াশুনা করতে পারবে কিনা।

১০। কলেজের নির্দিষ্ট পোশাক ও আইডি কার্ড পড়বে কিনা।


এ ছাড়াও খুব কম ক্ষেত্রে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক তার সাব্জেক্ট রিলেটেড কিছু জিগ্যেস করে।


এখন প্রশ্নগুলো যতো আত্মবিশ্বাসের সাথে ও যথাযথ দিতে পারবে, সেটার উপর শিক্ষকদের সুনজর নির্ভর করবে। যত বেশি সত্য কথা বলবে সব বিষয়ে, ততো বেশি সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ধরো, ধূমপান করার পরেও মিথ্যে বললে যে করো না, তাহলে ধরে নেও তোমার সম্ভাবনাই নেই। সত্য বললে, সেটা আরো বেশি তোমাকে সৎ প্রমাণ করবে। তখন শিক্ষকরা সৎ কিছু পরামর্শ দিবেন। 


সব প্রশ্নের উত্তরই নিজের মতো করে মাথায় সাজিয়ে রাখতে পারো। এর বাইরেও অনেক কিছু থেকে জিগ্যেস করবে তোমাকে। স্বভাবত একটা শীটের সবগুলো কোয়েশ্চেন একজনকে করা হয় না যদি শিক্ষক মনে করেন ছাত্রটির কনফিডেন্ট লেভেল জিরো এবং বানিয়ে বানিয়ে বলছে। 



3081 views Answered

Related Questions

Next steps