মৃত্যুর সংবাদ কি এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা যাবে?
কোনো মহিলা যখন মারা যায়, তখন তার মৃত্যুর সংবাদ দেওয়ার জন্য এলাকার মসজিদের মাইকে কি ঘোষনা করা যাবে? এ ব্যাপারে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং ক্বিয়াস কী বলে?
1 Answers
মসজিদে হারানো বিজ্ঞপ্তি ও পুরুষ মহিলার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা এটা সম্পূর্ণ শরীআত বিরোধী এবং মসজিদের মর্যাদার পরিপন্থী। মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা জাহেলী আদর্শ। এ ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলে আমার মৃত্যু হলে এই বিষয়ে তোমরা কোন ঘোষণা দিবে না। আমার ভয় হয় যে, এটা মৃত্যুর সংবাদ প্রচার বলে ধরা হবে। আমি মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিষেধ করতে শুনেছি। (সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৮৬ হাদিসের মানঃ হাসান)। মৃত্যু সংবাদ প্রচারের নামে শোক প্রকাশ করে কোন লাভ হয় না। শুধু লোক দেখানোই হয়। তার প্রমাণ হল, সব জানাযাতে লোকের সংখ্যা এক রকম হয় না। কারো জানাযায় হাযার হাযার লোক হয়, আবার কারো জানাযায় একশ লোকও জুটে না। অথচ সব মাইয়েতের জন্যই মাইকিং করা হয়। সুতরাং এতে কোন ফায়েদা নেই। এটা মূলতঃ ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ও গুণের কারণ। তাছাড়া শুভাকাঙ্খী হলে এমনিতেই সে মৃত্যু সংবাদ শুনতে পাবে, মাইকিং করে জানানো লাগবে না। উল্লেখ্য যে, মারা যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিৎ তার উত্তরসূরী ও আত্মীয়-স্বজনকে অছিয়ত করে যাওয়া, যেন তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদআতী কর্মকান্ড অনুষ্ঠিত না হয়। বিশেষ করে বিলাপ করা ও বিভিন্ন কথার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করা। কারণ সাবধান করে না গেলে বা এর প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে এ জন্য তাকে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে। রাসূল (সাঃ) বলেন, তোমরা কি শুননি, নিশ্চয়ই আল্লাহ চোখের কান্না ও অন্তরের চিন্তার কারণে শাস্তি দিবেন না; বরং তিনি শাস্তি দিবেন এর কারণে। অতঃপর তিনি তার জিহবার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা তার উপর রহম করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মাইয়েতকে তার পরিবারের কান্নার কারণে শাস্তি দেন। ওমর (রাঃ) এজন্য লাঠিপেটা করতেন, পাথর মারতেন এবং মাটি নিক্ষেপ করতেন। জানাযার নামাযে উপস্থিত হওয়ার জন্য নিকটাত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবকে সংবাদ দেয়া এধরণের সংবাদ প্রদান বৈধ। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাজাশীর মৃত্যু দিনে তার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেন। তাছাড়া মসজিদে নববীর ঝাড়ু-র কাজে নিয়োজিত মহিলাটি মৃত্যু বরণ করলে সাহাবীগণ তাঁকে না জানিয়েই দাফন করে দেয়। তখন তিনি সাহাবীদেরকে বলেন, কেন তোমরা আমাকে জানালে না? অতএব সাধারণভাবে মৃত্যু সংবাদ প্রদান করতে কোন দোষ নেই। কেননা এর উদাহরণ হাদীসে পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে জানাযা নামাযে উপস্থিত হওয়ার জন্য নিকটাত্মীয় ও শুভাকাংখীদেরকে সংবাদ দেয়াতেও কোন দোষ নেই। কিন্তু যে বিষয় নিষিদ্ধ তা হচ্ছে, ঘটা করে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা। এর জন্য অর্থ ব্যায় করে মাইকিং করা বা রেডিও, টিভিতে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা। কেননা হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নাবী (সাঃ) মৃত্যু সংবাদ পরিবেশন করতে নিষেধ করেছেন। বিলাল ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হুযাইফা (রাঃ) এর উপস্থিতিতে কেউ মারা গেলে তিনি বলতেন, তার (মৃত্যু) সম্পর্কে তোমরা কাউকে খবর দিয়ো না। কেননা আমি তার জন্য বিলাপের আশঙ্কা করছি। আমি আমার এই দুই কানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিলাপ করতে নিষেধ করতে শুনেছি। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ১৪৭৬ হাদিসের মানঃ হাসান)। তিনি আরও বলেন তোমরা মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা থেকে সাবধান! কেননা মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা জাহেলিয়াতের রীতি (তিরমিজি অধ্যায়ঃ জানাযা)
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy