গাছের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য উপাদান একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে সরবরাহ করা মাটির সহজাত অভ্যাস। একেই মাটির উর্বরতা বলা হয়। 

গাছের বৃদ্ধি মাটিতে উপস্থিত প্রয়োজনীয় পরিপোষক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।                     

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটির শস্য উৎপাদন ক্ষমতাকে মাটির উৎপাদিকা শক্তি বলে।

 

মাটির জৈবিক উর্বরতা : 

মাটিতে অবস্থিত জীবের কার্যক্রমের সাহায্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও মানের উন্নতিকরণই মাটির জৈবিক উর্বরতা। 

মাটির প্রগতিশীল প্রাকৃতিক কারণে মাটি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরীক্ষণের সুযোগ প্রদান করে। 

মৃত্তিকার জৈবিক প্রকৃতি আমাদের ভূমিক্ষয় সম্বন্ধে আমাদের আগাম সতর্ক করে এবং চিরস্থায়ী ভূমি রক্ষণাবেক্ষণ অনুশীলনে সাহায্য করে। 

মাটি জীবন্ত, এখানে অনেক জীবন বসবাস করে। যেমন ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক, নিমাটোড,কেঁচো, পোকামাকড় এবং কিছু সন্ধিপদ প্রাণী। 

এই জীবাণুগুলি মাটির জৈব পদার্থের উপর বাস করে অথবা অন্যান্য জীবাণুর উপর এবং মাটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়া বিক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

অন্যান্য জীবাণু গুলি অজৈব অণু তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ  করে। মাটির খুবই কম সংখ্যক কীট জাতীয় জীবাণু থাকে।    মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে জীবাণুর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে -

  • মাটির আদি শিলার থেকে মাটি তৈরিতে সাহায্য করে।
  • মাটি কণার একত্রিকরণে সহযোগিতা করে। 
  • পুষ্টি চক্রের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়। 
  • মাটির উপাদানের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর ঘটায়। 
  • মাটি থেকে পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করে। 
  • বিষাক্ত পদার্থের ক্ষয় ঘটায়। 
  • গাছের রোগ কমায়। 
  • মাটিতে জলের অনুপ্রবেশ ঘটাতে কিংবা বাধা দিতে সাহায্য করে। 

মাটির জীববিদ্যা একটু জটিল এবং মাটির রাসায়নিক এবং ভৌত উর্বরতার উপর জৈবিক উপাদানের যে প্রভাব তার একটি মধ্যম পথ আমাদের বুঝে নেওয়ার প্রয়োজন। 

মাটির উর্বরতা এবং উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য আমাদের মাটির জীবাণুর কার্যকলাপ, সংখ্যা, বৈচিত্র নির্ধারণ করতে হবে। 

 

মাটির জৈবিক উর্বরতার মূলনীতি :

মাটির জৈবিক উপাদানগুলির মাটির উর্ব্বরতা নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগুলি হলো -

  • মাটির উপরিস্তরে মাটির জীবাণু খুব বেশি পরিমাণে থাকে। 
  • মাটির পুষ্টিচক্র এবং মাটির একত্রীকরণে মাটির জৈব পদার্থ খুবই প্রয়োজনীয়। 
  • মাটির জৈব বৈচিত্র বেশিরভাগ সময় মাটির জৈব পদার্থ এবং মাটির আবাস্থলের বৈচিত্রের উপর নির্ভর করে। 
  • নাইট্রোজেন স্থায়ীকরণ অবস্থার ব্যাক্টেরিয়াগুলি বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে শিম্বজাতীয় শস্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট সমিতি স্থাপন করে। 
  • মাটির জৈব পদার্থ যখন ভেঙে যায় মাটির মধ্যে অথবা মাটির জৈবপুঞ্জের মধ্যে নাইট্রোজেন বেরিয়ে আসে। 
  • আরবাসকুলাস মাইকোরাইজা ফসফেট বিহীন মাটিতে ফসফেট গ্রহণে সাহায্য করে। 
  • মাটির জীবাণু ভৌত ও রাসায়নিক পরিবেশের পরিবর্তন করে। 
  • কিছু কিছু শস্য চক্র এবং কর্ষণ পদ্ধতি মাধ্যমে গাছের প্যাথোজেনস কমানো যায়। 
  • মাটির জৈবিক উর্বরতার উপর নির্ভর করে লাভজনক উৎপাদন পেতে পারি। 
  • মাটির জৈবিক প্রক্রিয়ার ধীরে ধীরে বিকাশ ঘটে, মাটি, পরিবেশ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাতে তা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে হয়।