আমরা জানি যে, আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটি গাছের পাতাও নড়েনা, তাহলে আমি যদি কোন খারাপ কাজ করি বা পাপ কাজ করি সেটাও আল্লাহর হুকুমে হচ্ছে। তাহলে আমি কেন শাস্তি পাব?        
2807 views

3 Answers

না এটা আপনাকে শয়তান করাচ্ছে।আপনার এরকম কথা খুবই নিম্ন হয়ছে।আপনি আরেকটু ভেবেচিন্তে বলতে পারতেন।

2807 views

আল্লাহ্ তো বাসিন্দাকে এই পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছেন।তিনি তো কেবল বান্দাকে তাঁর ইবাদত ও নৈতিকতা নিয়ে  চলতে বলেছেন।বান্দা তো নিজের ইচ্ছায় সবকিছু করে। তাই এতে আল্লাহকে কেন দোষ দেওয়া হবে??

2807 views

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ সমস্ত গায়বের চাবিকাঠি তাঁর কাছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না, জলে-স্থলে যা আছে তা তিনি জানেন, এমন একটা পাতাও পড়ে না যা তিনি জানেন না। যমীনের গহীন অন্ধকারে কোন শস্য দানা নেই, নেই কোন ভেজা ও শুকনো জিনিস যা সুস্পষ্ট কিতাবে 'লিখিত' নেই। (আনআমঃ ৫৯) স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত অর্থাৎ স্থলে ও জলে যত কিছুর অস্তিত্ব আছে সব কিছু আল্লাহ তাআলার জ্ঞানায়ত্বে কোন কিছু তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয় এবং কোন কিছু তাঁর কাছে অস্পষ্ট নয়। এমনকি গাছের একটি পাতা কখন পড়ে কিভাবে পড়ে তাও তিনি জানেন। জনাব! আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়েনা! কিন্তু মানুষ কোন খারাপ কাজ বা পাপ কাজ করে সেটা আল্লাহর হুকুমে হচ্ছে না। বরং মানুষ কি ভাল না মন্দ কাজ করবে আল্লাহ তাআলা তা আগে থেকেই জানেন যেহেতু তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। দেখুন বিস্তারিতঃ আল্লাহ তাআলা বান্দাকে কোন কাজ করতে বাধ্য করেন না। বরং দুনিয়াতে তাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যেহেতু সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। তাই তিনি আগে লিখে রেখেছেন বান্দা কী করবে? এটাই তাকদীর। আর আল্লাহর এ লিখে রাখা বান্দার কর্মের উপর কোন প্রভাব সৃষ্টি করে না। তাই, বান্দা তার কর্ম অনুপাতে ফল পাবে। আরেক শব্দে বলি, দুনিয়াতে বান্দা ভাল এবং মন্দ উভয় কাজের জন্য স্বাধীন। এখানে আল্লাহ তাআলা কাউকে কোন কাজ করতে বাধ্য করেন না সরাসরি। বাকি বান্দা কী করবে? তা আল্লাহ তাআলা আগে থেকেই জানেন। সেই হিসেবে আগেই সব কিছু লিখে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার উক্ত লিখে রাখার দ্বারা বান্দার কাজে কোন প্রভাব সৃষ্টি করে না। তাই বান্দা তার কর্ম অনুপাতে বদলা পাবে। ভাল করলে ভাল। আর মন্দ করলে মন্দ। আর বান্দা যেহেতু জানে না, আল্লাহ তাআলা কী লিখে রেখেছেন, তাই বান্দার উচিত ভাল কর্ম করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকা। এবং মন্দ কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর এ বিষয়ে অতিরিক্ত আলোচনা মোটেই উচিত নয়। যা রাসূল (সাঃ) এর পরিস্কার নির্দেশ। হযরত ইয়াহইয়া বনি আব্দুল্লাহ বিন আবী মুলাইকা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একদা হযরত আয়শা (রাঃ) এর নিকট গেলেন। তখন তিনি তাকদীর বিষয়ে তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেন, তখন হযরত আয়শা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি তাকদীর বিষয়ে কথা বলে, কিয়ামতের ময়দানে এ কারণে সে জিজ্ঞাসিত হবে। আর যে এ বিষয়ে আলোচনা না করবে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৮৪) মোটকথা, তাকদীর বিষয়ে প্রশ্ন করা, আলোচনা করা, গবেষণা করা সম্পূর্ণ হারাম। আমাদের যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেটিতেই মগ্ন থাকা উচিত। তাকদীর এটি আল্লাহ তাআলার গোপন রহস্য। এ রহস্য সম্পর্কে কোন ফেরেশতা বা কোন নবীও ওয়াকিফহাল নন। তাই এ বিষয়ে আমাদের চিন্তা ফিকির করা নিজের ঈমানের ক্ষতি করা ছাড়া আর কোন ফায়দা নেই। তাই এ বিষয়ে প্রশ্ন করা ও আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক। আরেক হাদীসে এসেছে- হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল (সাঃ) আমাদের কাছে আসলেন এমতাবস্থায় যে, আমরা তাকদীর বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। তখন রাসূল (সাঃ) প্রচন্ড রেগে গেলেন। রাগে চেহারা আনারের মত রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, তোমরা এ এসব করতে আদিষ্ট হয়েছো? নাকি আমি এসবের জন্য আবির্ভূত হয়েছি? ইতোপূর্বের লোকজন এ বিষয়ে আলোচনা করে ধ্বংস হয়েছে, আমি তোমাদের দৃঢ়তার সাথে বলছি, তোমরা এ বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না। (তিরমিজী, হাদীস নং-২১৩৩)

2807 views