ঝগড়া প্রসঙ্গে?
1 Answers
তিন দিনের অধিক এক মুসলিম অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, কাজেই তোমাদের ভাইদের মধ্যে শান্তি-সমঝোতা স্থাপন কর, আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা দয়া প্রাপ্ত হও। (সূরা হুজুরাতঃ ১০) হাদিসের বানীঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পরস্পর সম্পর্ক-ছেদ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখবে। (রিয়াযুস স্বা-লিহীন হাদিস নম্বরঃ ১৫৯৯, বুখারী ৬০৫৬, ৬০৭৬, মুসলিম ২৫৫৯, হাদিসের মানঃ সহিহ) জনাব! সমাজে বা দেশে বসবাসকালে একজন বা একদল মুমিন অন্য একজন বা একদল মুমিনের সাথে বিবাদে লিপ্ত হলে উচিত হলো মীমাংসা করে দেয়া। অবশ্যই যেন এ মীমাংসা ন্যায়পরায়ণতার সাথে হয়। এর ফলে সমাজে ও দেশে শান্তি নেমে আসবে। সুতরাং মুমিনদের মাঝে বিবাদ হতেই পারে, তাই বলে সে বিবাদকে কেন্দ্র করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা যাবে না, বহিঃশত্র প্রবেশ করিয়ে পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। বরং যথাসম্ভব নিজেরা ন্যায়পরায়ণতার সাথে মীমাংসা করে দেবে। আর আপনি কখনো কারো সাথে ঝগড়া থাকলে তা মিটিয়ে দিয়েছেন এটা বেশ ভাল কাজ করেছেন। কেননা, মুমিনরা হচ্ছে পরস্পর দীনি ভাই। এ সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের চেয়েও সুদৃঢ়। একজন মুমিন সর্বদা অন্য মুমিনের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করবে, ভুল ত্রুটিসমূহ মার্জিত ভাষায় সংশোধন করে দেবে, অন্যায় হলে ক্ষমা করে দেবে। অন্যায় ও অবিচার করবে না, বিপদে পড়লে সহযোগিতা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। তার প্রতি জুলুম করবে না, অপমান করবে না, তুচ্ছ মনে করবে না। একজন ব্যক্তির অন্যায়ে লিপ্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে তুচ্ছ মনে করবে। একজন মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান হরণ করা হারাম। (সহীহ মুসলিমঃ ৬৭০৬) আল-আদাবুল মুফরাদ হাদিস গ্রন্থে যঈফ সনদে বর্নিত হয়েছেঃ আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারীর আমল কবুল হয় না। আর যাদের ইবাদাত কবুল হয় না তারা হলো যারা পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। আপনার পরিবারের অন্য কারো সাথে যদি কোন প্রতিবেশির ঝগড়ার ফলে কথা বন্ধ থাকে এক্ষেত্রে আপনার এবাদতের কোন ক্ষতি হবেনা, তা কবুল হবে।