1 Answers
যেখানে আমেরিকার নিউ অর্লিন্স শহরে ‘মার্ডি গ্রা’ নামক ঘুড়ি উৎসব হচ্ছে, ঠিক একই সময়ে আকাশে উড়ানো প্রত্যাশার বেলুন চুপসে যায় চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর মিছিল দেখে। এই ২০১৯ সালে বসে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য মেনে নেয়া যায় না। যেটুকু জানতে পারলাম, ভিড়ের মধ্যে থাকা একটি গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের শুরু, এরপর সেখান থেকে তা হোটেলের সামনে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটায়, এরপর তা কারখানায় অবৈধভাবে রাখা রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে এলে আগুন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, পরিণতিতে ৬৭ জনের মৃত্যু। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে দায় স্বীকার এবং সংশোধনের বদলে আমাদের যা সংস্কৃতি- সেই একে অন্যকে দোষারোপ চলছে, কিন্তু এই দুর্ঘটনা আদপে যা নির্দেশ করে তা হলো জনমানুষের নিরাপত্তার প্রতি কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এবং আমাদের নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি করুণ চিত্র। আজ থেকে একশ বছর আগে আমেরিকার অবস্থাও কিন্তু ভিন্ন কিছু ছিলো না। আমাদের মতো জনসংখ্যাবহুল উন্নয়নশীল দেশে অব্যবস্থাপনার কারণে প্রাইমেট শহর সাধারণত বিপর্যয় ডেকে আনে- যা আমরা চকবাজার অগ্নিকাণ্ড, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানাভাবে প্রত্যক্ষ করি। আমেরিকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও অনেক দুর্বলতা আছে, কিন্তু তারপরও এর সাথে যদি বাংলাদেশের তুলনা করি মাথা নুইয়ে আসে। যারা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উন্নত, তবে দেশের রাস্তায় অগ্নি নির্বাপক ফায়ার হাইড্র্যান্ট কেন নেই, কারখানায় স্প্রিংকলার সিস্টেম কেন বসানো হয় না, ফায়ার এস্কেপ কী পর্যাপ্ত রয়েছে, অগ্নিনির্বাপক গাড়ি যাওয়ার মতো রাস্তা কি আছে কিংবা বিস্ফোরক রাসায়নিক দ্রব্য কী এখানে নিয়মকানুন মেনে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়? একটা শহরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কারা আছে?কিছুদিন আগে এক মন্ত্রী বলেছেন, ঢাকাকে নাকি উপর থেকে প্যারিস শহরের মতো লাগে। ঢাকার উড়াল শহরগুলো দেশের উন্নয়নের চিত্র! নগর পরিকল্পনার পরিভাষায় ঢাকার মতো শহরকে বলা হয় ‘প্রাইমেট সিটি’ – যে শহরের ওপর অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক বিবিধ কার্যক্রমের জন্য পুরো দেশ নির্ভরশীল থাকে। কোন দেশে প্রাইমেট শহরের অস্তিত্ব মূলত দেশটিতে উন্নয়নের ভারসাম্যহীনতাকেই নির্দেশ করে।আমাদের শিশুদেরও অন্তত বিবেকবোধ আছে, তাদের সহপাঠীদের মৃত্যুতে তারা রাস্তায় নেমে আসে প্রতিবাদে। আমাদের সে বোধটুকুও নেই, আমরা শুধু একে অন্যকে দোষারোপ করে প্রতীক্ষা করতে পারি পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের বা দুর্ঘটনার জন্য- যার শিকার হয়ত একদিন আমরা নিজেরাই হবো।