2 Answers

"আর তোমরা আল্লাহর রাস্তায় তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।" (সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৯০) এই আয়াতে সেই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলা হয়েছে, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। আর এখানে 'সীমালঙ্ঘন করো না' বলতে বোঝানো হয়েছে, (মুসলিম) তোমরা শত্রুর আঙ্গিক বিকৃতি ঘটাবে না। মহিলা, শিশু এবং এমন বৃদ্ধকে হত্যা করো না, যে যুদ্ধে কোন প্রকার অংশগ্রহণ করেনি। অনুরূপ গাছ-পালা বা ফসলাদি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং কোন অভীষ্ট লাভ ছাড়াই পশু-হত্যা করা ইত্যাদিও সীমালঙ্ঘন বলে গণ্য হবে, যা থেকে তোমাদের বিরত থাকতে হবে।

3034 views
মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির হেদায়েতের জন্য কিছু বিধান দিয়েছেন! এবং তার নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আর এই সীমা অতিক্রম করার কোনো সুযোগ নেই। আর যারাই তা অতিক্রম করবে তারাই সীমালংঘনকারী।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ আর যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর; কিন্তু সীমালংঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারীদেরকে ভালবাসেন না। (সুরা বাকারাঃ ১৯০)

যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর না। অঅর্থাৎ মুসলিমগণ শুধুমাত্র সেসব কাফেরদের সাথেই যুদ্ধ করবে, যারা তাদের বিপক্ষে সম্মুখ-সমরে উপস্থিত হবে। এর অর্থ এই যে, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, ধর্মীয় কাজে সংসার ত্যাগী, উপাসনারত সন্নাসী-পাদ্রী প্রভৃতি এবং তেমনিভাবে অন্ধ, খঞ্জ, পঙ্গু, অসমর্থ অথবা যারা কাফেরদের অধীনে মেহনত মজুরী করে, কিন্তু তাদের সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হয় না সেসব লোককে হত্যা করা জায়েয নয়। কেননা, আয়াতের নির্দেশে শুধুমাত্র তাদেরই বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার হুকুম রয়েছে, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কিন্তু উল্লেখিত শ্রেণীর কেউই যুদ্ধে যোগদানকারী নয়। এমন শ্রেণীর লোকদের হত্যা করাই হচ্ছে সীমালংঘন।

হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করেছেন সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালংঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা মায়েদাঃ ৮৭)

জনৈক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আগমন করল। অতঃপর বললঃ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যখনই গোশত জাতীয় খাবার গ্রহণ করি তখনই আমি কামোত্তেজনা অনুভব করি। তাই গোশত খাওয়া নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছি।

অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা গৃহপালিত প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল করেছেন। কেউ যদি বলে গৃহপালিত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম সেই সীমালংঘনকারী।

উদাহরণঃ ২০০ মিটার দৌড় খেলে দিয়েছেন বা দেখেছেন। এই খেলায় গোল দাগ দেওয়া থাকে এবং সেই গোল দাগের বাহিরে দিয়ে দৌড় দিয়ে নির্ধারিত জায়গায় আসতে হবে। কিন্তু কেউ যদি গোল দাগের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত জায়গায় আসে সেই সীমাঅতিক্রমকারী।
3034 views

Related Questions