আযান কি দেওয়া লাগবে?

আমরা হোস্টেলে থাকি।জামাতে সালাত আদায় করার জন্য আমরা একটা স্থান নির্দিষ্ট করেছি।কিছু ওয়াক্তের সালাত মসজিদের সময়ের সাথে মিল রেখেছি কিছু ওয়াক্তের সময়ে রাখিনি।মসজিদে না গিয়ে ঐ স্থানে জামাতের সাথে সালাত আদায় করলে কি আলাদা করে আযান দেওয়া বাধ্যতা মূলক?আযান দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা কি নেট থেকে ডাউনলোড করে মোবাইলের মাধ্যমে আযান দেওয়ার কাজ কি করা যাবে?দয়া করে কুরআন ও হাদীসের আলোকে উপযুক্ত দলীলসহ উত্তর দিবেন
2880 views

2 Answers

জি হ্যাঁ, আযান দিতে হবে। তবে নেট থেকে আযান ডাউনলোড করে মোবাইলে বাজিয়ে আযান প্রযোজ্য হবেনা। মুখে আযান দিতে হবে।

2880 views Answered

নামাযের জন্য মানুষকে আহ্বান করার একমাত্র মাধ্যম হলো আযান। জামাআতে নামায পড়ার জন্য আযান দেয়া সুন্নাত। কেউ কেউ একে ওয়াজিব বা আবশ্যক বলেছেন। জনাব! মসজিদ ছাড়া অন্য স্থানে অর্থাৎ মসজিদে না গিয়ে তথা হোস্টেলে জামাআতের সাথে সালাত আদায় করলেও আলাদা করে আযান দিতে হবে। তা নেট থেকে ডাউনলোড করে মোবাইলের মাধ্যমে বা টেপ রেকর্ডারের মাধ্যমে আযান দিলে বিশুদ্ধ হবে না। কেননা আযান একটি ইবাদত। আর ইবাদত করার আগে নির্দিষ্ট নিয়ত করতে হবে। কেবলমাত্র ভয়, শত্রুতা প্রভৃতির কারণে মসজিদে যেতে বাধা থাকলে, মসজিদ বহু দূরে হলে এবং আযান শুনতে না পেলে, সফরে কোন নির্জন প্রান্তরে থাকলে, যে জায়গায় থাকবে সেই জায়গাতেই নামাযের সময় হলে আযান-ইকামত দিয়ে নামায আদায় করতে হবে। একা হলে আযান ওয়াজিব না হলেও সুন্নত অবশ্যই বটে। মহানবী (সাঃ) বলেন, যখন সফরে থাকবে, তখন তোমরা আযান দিও এবং ইকামত দিও। আর তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করো। (বুখারী, মিশকাতঃ ৬৮২) তাছাড়া আল্লাহর নবী (সাঃ) এবং সাহাবাগণ সফরে থাকলে ফাঁকা মাঠে আযান দিয়ে নামায পড়েছেন। (মুসলিমঃ ৬৮১) মহানবী (সাঃ) বলেন, তোমার প্রতিপালক বিস্মিত হন পর্বত চূড়ায় সেই ছাগলের রাখালকে দেখে যে নামাযের জন্য আযান দিয়ে 'সেখানেই' নামায আদায় করে। আল্লাহ বলেন, তোমরা আমার এই বান্দাকে লক্ষ্য কর, 'এমন জায়গাতেও' আযান দিয়ে নামায কায়েম করছে! সে আমাকে ভয় করে। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং জান্নাতে প্রবেশ করালাম। (আবূ দাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, সহিহ তারগিবঃ ২৩৯) কোন ব্যক্তি যখন কোন বৃক্ষ-পানিহীন প্রান্তরে থাকে, অতঃপর সেখানে নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে যেন ওযু করে। পানি না পেলে যেন তায়াম্মুম করে। অতঃপর সে যদি শুধু ইকামত দিয়ে নামায পড়ে, তাহলে তার সাথে তার সঙ্গী দুই ফিরিশতা নামায পড়েন। কিন্তু সে যদি আযান দিয়ে ও ইকামত দিয়ে নামায পড়ে, তাহলে তার পশ্চাতে আল্লাহর এত ফিরিশতা নামায পড়েন, যাদের দুই প্রান্ত নজরে আসে না! (আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ, সহিহ তারগিবঃ ২৪১)

2880 views Answered

Next steps