ওযু অবস্থায় যৌনাঙ্গ চুলকালে কী ওযু ভেঙ্গে যাবে?
2 Answers
অযু অবস্থায় গোপন অঙ্গ চুলকালে, এমনকি স্পর্শ করলে আবার অযু করতে হবে৷ কেননা, রাসুল (সঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি (ওযূ করার পর) নিজের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেছে, সে যেন আবার ওযূ না করা পর্যন্ত নামায না আদায় করে। (তিরমিযী, হাদীস নং ৮২) - (নাসায়ী, হাদীস নং ১৬৩) - (আবূ দাঊদ, হাদীস নং ১৮১) - (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪৭৯) - (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ৩১৯)। বিঃ দ্রঃ - কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করলে অযু করতে হবে না। (তরীকুল ইসলাম, চতুর্থ খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৫৬)। লিঙ্গ চুলকালে যদি অযু ভঙ্গের কারণ সংঘটিত হয়, তাহলে অযু ভেঙে যাবে। (ফিকহ, আলিম প্রথম বর্ষ)।
যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু করা প্রসঙ্গে সহিহ সনদে হাদিসে এসেছেঃ ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) বুসরা বিনতে সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি নিজ গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করে সে যেন অযু করা ব্যতীত সালাত আদায় না করে। আবূ আব্দুর রহমান বলেন, হিসাম ইবনু উরওয়াহ হাদিসটি তার বাবা হতে শোনেন নি। আল্লাহই ভালো জানেন। (সূনান নাসাঈ, হাদিস নম্বরঃ ৪৪৭) ঈমাম তিরমিযী (রহঃ) এর মতে হাদিসটি হাসান-সহিহ। এ হাদিস অনুযায়ী পুরুষাঙ্গ বা যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু করতে হবে। হযরত কায়েস ইবনে তালীক ইবনে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল কোন ব্যক্তির অযু করার পর নিজের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা সম্পর্কে। রাসূল (সাঃ) উত্তরে বলেনঃ এটা তার শরীরের অংশবিশেষ ছাড়া আর কি!! অর্থাৎ অযু ভাঙ্গার প্রশ্ন-ই আসে না। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ, মিশকাত হাদিসঃ ২৯৭) তাহক্বীক- ঈমাম তিরমিযী (রহঃ) এ হাদিস সম্পর্কে বলেনঃ নবী করিম (সাঃ) এর একাধিক সাহাবী এবং কিছু কিছু তাবেঈ যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে পুনরায় অযু করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না। ইবনে মোবারাক ও কূফাবাসীদের এটিই উপস্থাপিত অভিমত।। এ হাদিসটি অধিক সহিহ। এ হাদিস অপর আরেক সম্পূর্ণ ভিন্ন সূত্রেও বর্ণিত হয় তবে সেই সনদের দুই জন রাবী নিয়ে বিতর্ক আছে। সুতরাং এই সনদ সূত্রটিই বেশী সহিহ এবং উত্তম। এ হাদিস অনুযায়ী পুরুষাঙ্গ বা যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু করতে হবে না। এই দুই হাদিসের মধ্যে কোনটি নাসেখ কোনটি মানসুখ 'রহিত- রহিতকারী' তা নিয়ে মুহাদ্দিস ও ফক্বীহদের মতভেদ আছে। নাসেখ-মানসুখ বিবেচনাতে সমস্যা হওয়াতে ফক্বীহগন সাহাবাদের আমল বা কর্মের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। দেখা গেছে এই বিষয়টি নিয়ে সাহাবীদের মাঝেও কর্মগত পার্থক্য ছিল। তাই ফিক্বহের প্রতিষ্ঠিত চার ঈমামের মাঝেও এটা নিয়ে মতভেদ হয়েছে। ঈমামে আযম আবু হানিফা (রহঃ) এর মতে, পুরুষাঙ্গ বা যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু ভাঙ্গবে না। দ্বিতীয় হাদিসটি সেটার দলিল। হযরত আলী, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির, হযরত হুযাইফা, হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) এদের মত অনুসারে ঈমাম আবু হানিফা (রহঃ) এই মতের উপর তার ফিক্বহ স্থাপন করেছেন। অপর তিন ঈমাম মালেক, ঈমাম শাফিঈ এবং ঈমাম আহমদ বিন হাম্মল (রহঃ) এর মত, পুরুষাঙ্গ বা যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু ভাঙ্গবে প্রথম হাদিসটি তাদের দলিল। হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, হযরত ইবনে আব্বাস এবং হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) এসব সাহাবীর মত অনুযায়ী ফিক্বহের অপর তিন ঈমাম স্ব-স্ব ফিক্বহতে এই মতকে স্থান দিয়েছেন। ইহা শরীয়তসম্মত ফিক্বহী মতভেদ বা ইখতিলাফ। কোন পক্ষকেই ভুল বলা যাবে না। আল্লাহ এই বিষয়ে উত্তম জানেন।