2 Answers

জন্ম নিয়ন্ত্রক এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো- জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিরোধ করা এবং সুখী সংসার গড়া। যার কারণ হিসাবে বলা হয় যে , এটা গ্রহণ না করলে , মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য ও বাসস্থান প্রভৃতির ভারসাম্য রক্ষা পাবে না। অথচ এ বিশ্বাসের দ্বারা আল্লাহ তা'য়ালার রাজ্জাকিয়্যাতের অস্বীকার করা হয়, যা কুফর এবং ঈমান বিধ্বংসী। কারণ আল্লাহ তা'য়ালা সকলের রিযিকের দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন। কোন মাখলূকের উপর এ দায়িত্ব অর্পন করেননি।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, "অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিয্ক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।" (সুরা বনী-ইসরাইল, আয়াত নং ৩১)।

জনাব! ইসলামে জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন‍্য ব‍্যবহৃত লিঙ্গ আবরক এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ ট‍্যাবলেট গ্রহণ করা জায়েজ নয় বরং হারাম। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্য বা কারণ যাই হোক না কেন। কেননা, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালার দেওয়া প্রজনন ক্ষমতাকে নষ্ট করা হয় এবং আল্লাহ তা'য়ালার সৃষ্টিকে বিকৃত করা হয় , যা সম্পূর্ণ হারাম। জাহেলী যুগের এই জঘন্য কাজ বর্তমানে জন্ম-নিয়ন্ত্রণের নামে সারা পৃথিবীতে অতি ধুমধামের সাথে চলছে। আল্লাহ এ থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন। আমীন।

3105 views Answered


আমি সন্তানদের খাওয়াব কীভাবে, পরাব কীভাবে, এই চিন্তা থেকে যদি কেউ ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ায়, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ হারাম। কারণ রিজিকের মালিক হলেন আল্লাহ রাব্বুলআলামিন, রিজিকদাতা আল্লাহতায়ালা। কিন্তু আমাদের সম্মানিত স্কলাররা বলেছেন, ইমার্জেন্সি পিল শুধু দুটি অবস্থায় করা যাবে। প্রথমত, এই মুহূর্তে যদি স্ত্রীর গর্ভে সন্তান আসে, তাহলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে, অর্থাৎ শারীরিক কারণে এই খাওয়ানো যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, আগে যে সন্তানটি হয়েছে তাঁর অধিকার রয়েছে দুই বছর বুকের দুধ পান করার। ‘মায়েরা সন্তানদের দুধ পান করাবে দুই বছর’। এই দুই বছরের মধ্যে যদি মা গর্ভধারণ করেন, তাহলে আগের সন্তান অসুস্থ হয়ে যেতে পারে অথবা তাঁর অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। এই দুটি কারণে ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ানোর ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, এই দুই কারণে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। কিন্তু খাওয়ানো, পরানোর কথা ভেবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা জায়েজ নেই। এটি হারাম কাজ। ইসলামে যৌক্তিক কারণে, শরিয়া সম্মত কারণে জন্ম নিয়ন্ত্রণের অবকাশ রয়েছে।



  1. – যখন তা প্রয়োজনের খাতিরে করা হয়, যেমন কোন নির্ভরযোগ্য ডাক্তারি প্রমাণ দ্বারা যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, গর্ভধারণ মায়ের জীবনের জন্য বিপদের কারণ হবে, এবং এর নিরাময় চিকিৎসার আর কোন আশা নেই, তাই স্থায়ী বন্ধ্যাকরণের ফলে বিপদ কেটে যাবে। এমন সমস্যার ক্ষেত্রে বন্ধ্যাকরণ অনুমোদিত বলে গৃহীত হবে।
  2. – যখন এর কোন প্রয়োজন নেই। নিঃসন্দেহে এমন ক্ষেত্রে এটি একটি অপরাধমূলক কাজ ও একটি বড় পাপ, কারণ এটি বিনা কারণে ঈশ্বরের প্রাকৃতিক সৃষ্টির বিরুদ্ধে সীমালঙ্ঘন, এবং সন্তান উৎপাদন প্ররতিরোধ করার পদক্ষেপ, যেখানে সন্তান উৎপাদনকে ইসলামে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে, এবং তা এককই সাথে তা ঈশ্বরের প্রতি তার দেওয়া সন্তানধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে অকৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের বহিঃপ্রকাশ, যা ঈশ্বর তার সৃষ্ট জীবকে নিজ অনুগ্রহস্বরূপ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি অন্যান্য প্রকারেও এমন কিছু করা অনুমোদিত নয় যা গর্ভধারণকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।[
3105 views Answered

Related Questions

Next steps