3 Answers

বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর নাম বলা ছাড়া যবেহকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া বৈধ নয়। আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নাম নিয়ে যবেহ করা যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব জীব- জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। যবেহ করার সময় আল্লাহু আকবার বলতে হবে। হাদিসে এসেছে, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি সাদা-কালো রং এর শিং ওয়ালা ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি ভেড়া দুইটির পার্শ্বে তার পা রেখে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে স্বহস্তেসেই দুইটিকে যবেহ করেন। (সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ ৫৫৬৫) আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! বহু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে আমরা জানি না, তারা বিসমিল্লাহ পড়ে যবেহ করেছিল কিনা? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এর উপর আল্লাহর নাম লও এবং তা খাও। (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বরঃ ২০৫৭) যবেহ বস্তুর উপর বিসমিল্লাহ বলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে যে বিসমিল্লাহ তরক করে সে সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ কেউ বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে তাতে কোন দোষ নেই। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ যাতে যবেহ করার সময়' আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি তা তোমরা মোটেই খাবে না, তা হচ্ছে পাপাচার। (সূরা আল-আনআমঃ ১২১ সংক্ষিপ্ত) আর যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তাকে ফাসিক 'গুনাহগার' বলা যায় না। আল্লাহ আরো ইরশাদ করেনঃ শায়ত্বনেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সঙ্গে তর্ক-ঝগড়া করার জন্য প্ররোচিত করে, যদি তোমরা তাদের কথা মান্য করে চল তাহলে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে। (সূরা আল-আনআমঃ ১২১ সংক্ষিপ্ত) রাফি ইবনে খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুল হুলাইফায় ছিলাম। লোকজন ক্ষুধার্ত হয়ে যায়। তখন আমরা কিছু সংখ্যক উট ও বকরী গনীমত হিসেবে লাভ করি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের পেছনে। সবাই তাড়াতাড়ি করল এবং হাড়ি চড়িয়ে দিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এসে পৌঁছলেন। তখন তিনি হাঁড়িগুলো ঢেকে দিতে নির্দেশ দিলেন। হাঁড়িগুলো ঢেকে দেয়া হল। তারপর তিনি প্রাপ্ত গানীমাত বণ্টন করলেন। দশটি বকরী একটি উটের সমান গণ্য করলেন। এ সময়ে একটি উট পালিয়ে গেল। দলে অশ্বারোহীর সংখ্যা ছিল খুব কম। তারা উটটির পেছনে ছুটল কিন্তু তারা সেটি কাবু করতে অসমর্থ হল। অবশেষে একজন উটটির প্রতি তীর ছুঁড়লে আল্লাহ উটটিকে থামিয়ে দিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সকল চতুষ্পদ প্রাণীর মধ্যে বন্য জন্তুর মত পালিয়ে যাবার স্বভাব আছে। কাজেই যখন কোন প্রাণী তোমাদের থেকে পালিয়ে যায়, তখন তার সঙ্গে তোমরা তেমনই ব্যবহার করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার দাদা বলেছেন, আমরা আশা করছিলাম কিংবা তিনি বলেছেন, আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে, আগামীকাল আমরা শত্রুদের সম্মুখীন হতে পারি। অথচ আমাদের নিকট কোন ছুরি নেই। তাহলে আমরা কি বাঁশের বাখারী দিয়ে যবহ করব? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে জিনিস রক্ত প্রবাহিত করে দেয় এবং তাতে বিসমিল্লাহ বলা হয় তা খাও। তবে দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। এ সম্পর্কে আমি তোমাদের জ্ঞাত করছি যে, দাঁত হল হাড় বিশেষ, আর নখ হল হাবশী সম্প্রদায়ের ছুরি। (সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ ৫৪৯৮) ইচ্ছাকৃতভাবে যে পশুকে আল্লাহ তাআলার নাম ছাড়া বা কোন দেব দেবীর নামে জবেহ করা হয়েছে তা খাওয়া ফাসেকী বা হারাম কাজ। ইবনে আব্বাস (রাঃ) তিনি বলেনঃ যে ভুলে যায় তাকে ফাসিক বলা হয় না। অর্থাৎ, ইচ্ছাকৃতভাবে যে পশুকে আল্লাহর নাম না নিয়েই যবেহ করা হয়েছে, তা খাওয়া ফাসেকি তথা পাপ ও অবৈধ। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর অর্থ এটাই করেছেন। তিনি বলেন, যে ভুলে যায়, তাকে ফাসেক বলা হয় না। ইমাম বুখারীর সমর্থনও রয়েছে এরই প্রতি এবং হানাফীদেরও মত এটাই। তবে ইমাম শাফেয়ীর মত হল, মুসলিমের যবেহ করা পশু উভয় অবস্থাতেই হালাল চাহে সে আল্লাহর নাম নিক অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিক। আর তিনি وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ (কেননা, তা পাপ) কথাটিকে গায়রুল্লাহর নামে যবেহ করা পশুর বিষয়ীভূত মনে করেছেন। ( তাফসীরে আহসানুল)

2997 views Answered
যে প্রাণী যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয় নি, তার গোশত হালাল না হারাম, এ মাসয়ালায় ইমামদের মতবিরোধ রয়েছে। যেমনঃ

১. ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে "বিসমিল্লাহ" বর্জন করলে তার গোশত হারাম। তবে, যদি ভুলক্রমে ছেড়ে দেয়, তাহলে তা খাওয়া হালাল। কেননা, কুরআনের বাণীঃ "তিনি তো তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং যে জন্তুর যবেহকালে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নাম নেয়া হয়েছে। তবে যে নিরুপায় হয়ে, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন ব্যতীত, (প্রয়োজন মুতাবেক গ্রহণ করবে) তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সুরা নাহল ১১৫)।

২. ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে হোক কিংবা ভুলবশত হোক, সর্বদা ঐ প্রাণীর গোশত হালাল। কেননা রাসুল (সঃ) বলেছেন, المسلم يذبح علی اسم اﷲ سمی او لم يسم

৩. ইমাম মালেক (রহঃ) বলেছেন, যদি বিসমিল্লাহ বলা না হয়, হোক সেটা ভুলক্রমে কিংবা ইচ্ছাক্রমে। কেননা আল্লাহ তায়ালা মুতলাকভাবে বলেছেন, ولا تاكلوا مما لم يذكر اسم اﷲ عليه

৪. ইমাম আহমদ (রহঃ) ইমাম আবু হানিফার দিকটি তুলে ধরেছেন।

2997 views Answered

وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلاَّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُواْ بِالأَزْلاَمِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلاَ تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ فَإِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল। [ সুরা মায়েদা ৫:৩ ]

2997 views Answered

Related Questions

Next steps