8 Answers
কুরআনে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মোট ১১৪টি সূরা রয়েছে। সকল সূরা মিলিয়ে মোট আয়াতের (আয়াত আরবি শব্দ, এর সাহিত্যিক অর্থ নিদর্শন) সংখ্যা প্রায় ৬,২৩৬ (মতান্তরে ৬৩৪৮টি অথবা ৬৬৬৬টি)।
কুরআনের আয়াত সংখ্যা বলা হয়ে থাকে ৬৬৬৬ টি । আর কুরআনের আয়াত গুনলে পাওয়া যায় ৬২৩৬ টি ।
কুরআনে মোট আয়াত সংখ্যা
আমরা জানি কুরআনে মোট আয়াত সংখ্যা হল ৬,৬৬৬টি। তবে, বিশুদ্ধ গণনায় বর্তমান পাঠে কুরআনে মোট আয়াত সংখ্যা ৬২৩৬টি।
কিভাবে এটা নিধারণ করা হল তা আমরা কোনদিনও ভেবে দেখিনি। আসুন, আমরা দেখি আল্লাহ রাববুল আলামিন কুরআনে মোট কতটি আয়াত নাযিল করেছেন।
যার যার গণনায় যেভাবে পাওয়া গেছে নিচে সেই ভাবে দেয়া হল-
১) আয়েশা (রাঃ) ----- ৬,৬৬৬ টি।
২) উসমান(রাঃ) ------ ৬,২৫০ টি।
৩) আলী(রাঃ) ------ ৬,২৩৬ টি।
৪) ইবনে মাসুদ(রাঃ) -- ৬,২১৮ টি।
৫) মক্কার গণনা ------- ৬,২১২ টি।
৬) ইরাকের গণনা ----- ৬,২১৪ টি।
৭) বসরার গণনা ------ ৬,২২৬ টি।
এইগুলোর সাথে বিসমিল্লাহ ধরে হিসাব করলে এইরূপ হবে-
আয়েশা (রাঃ)------ ৬,৬৬৬ টি।
উসমান (রাঃ) ----- ৬,২৫০ + ১১৩ = ৬,৩৬৩ টি।
আলী (রাঃ) ------ ৬,২৩৬ + ১১৩ = ৬,৩৪৯ টি।
ইবনে মাসুদ (রাঃ)--- ৬,২১৮ + ১১৩ = ৬,৩৪১ টি।
মক্কার গণনা ------- ৬,২১২ + ১১৩ = ৬,৩২৫ টি।
ইরাকের গণনা ----- ৬,২১৪ + ১১৩ = ৬,৩২৭ টি।
বসরার গণনা ------ ৬,২২৬ + ১১৩ = ৬,৩৩৯ টি।
উল্লেখ্য যে, সুরা আত-তাওবা'য় বিসমিল্লাহ নাই। এই কারনে আল্লাহ রাববুল আলামিন মোট ১১৪ টি সুরায় ১১৩ বার বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছেন এবং সুরা আত-তাওবায় কেন বিসমিল্লাহ সংযোজন করেননি তা আল্লাহই ভাল জানেন।ঐতিহাসিকরা আয়েশা(রাঃ) এর গনণা বা মত(৬,৬৬৬টি) গ্রহন করেছেন।তবে এটা সত্য যে, বেশির ভাগ আলেম-উলামাগণ আবার আলী(রাঃ) এর মতকেও (৬,২৩৬টি বিসমিল্লাহ ছাড়া এবং ৬,৩৪৯টি বিসমিল্লাহ সহ) গ্রহন করেছেন।
তবে 'বিসমিল্লাহ' কুরআনের কোন আয়াত নয় এই ব্যাপারে ওলামগন একমত। তেমনি সূরা ফাতিহার শেষে 'আমীন' ও কোন আয়াত নয়। আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন।
বিস্তারিত জানতে : কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যা
অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তরে বলবে ৬৬৬৬। কিন্তু আয়াত সংখ্যা কি ৬৬৬৬? না। এই সংখ্যার উপর ওলামাগণের ইজমা বা ঐক্যমত নাই। বরং এটা প্রচার করেছে ইহুদ ক্রিস্টানরা। তাদের মাঝে একটা কুসংস্কার রয়েছে যে, যে সংখ্যায় ৬ সংখ্যাটি পর পর ব্যবহার হয় সে জিনিস বা সংখ্যাটি অপয়া। অর্থাত কোরআনকে আপয়া বলে প্রকাশ করতে তারা এ সংখ্যাটিকে প্রচার করে। ওলামা ও ইসলামী পন্ডীতগণের মতে আয়াত সংখ্যা ৬২০০। কেও কেও বলেন এর চেয়ে কিছু বেশি। অনেকে বলেন আয়াত সংখ্যা ৬২০৫, ৬২১৪, ৬২১৬, ৬২২০, ৬২৩৬, ও ৬২৪৮ এর বেশি নয়। এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে, কোরআনের আয়াত সংখ্যা নির্ধারিত নয় কেন? এর উত্তর হল কোরআন লেখার সময় অনেকে পৃষ্ঠা মিলানোর জন্য একটি আয়াতকে দুইভাগে ভাগ করেছেন। ফলে পরবর্তীতে ঐ কোরআনকে অনুসরণ করে লিখতে গিয়ে ঐ এক আয়াতকে দুই আয়াত ধরেছেন। আবার কেও কেও অর্থ মোতাবেক দুটি আয়াতকে একত্রিত করে লিখেছেন। তাই এই সংখ্যাটি একটু এদিক ওদিক হয়েছে। যেমন সূরা ফাতিহাকে হাদিসে সাবাত বলা হয়েছে। আর্থাত সাত সংখ্যা বিশিষ্ট আয়াত। যারা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমকে একটি আয়াত হিসেবে ধরেন তারা ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺖَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤَﻐْﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴﻦَ এই আয়াতটিকেও একটি আয়াত হিসেবে ধরেন। তাই তারা যেসব নামাযে কেরাত উচ্চস্বরে পড়া হয় সেসব নামাযে ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ উচ্চস্বরে পড়েন। মধ্যপ্রাচ্যে যে সব কোরাআন মূদ্রিত হয় ঐগুলিতে এইরূপ দেখবেন। আর বিপরীতে যারা ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ কে সূরা ফাতিহার আয়াত হিসেবে ধরন না তারা ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺖَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ কে একটা আয়াত এবং ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤَﻐْﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴﻦَ আরেকটা আয়াত হিসেবে ধরেন। এই মতে বিশ্বাসীরা যেসব নামাযে কেরাত উচ্চস্বরে পড়া হয় সেসব নামাযে ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ উচ্চস্বরে পড়েন না। উপমহাদেশে যে সব কোরাআন মূদ্রিত হয় ঐগুলিতে এইরূপ দেখবেন। দুইভাবে সূরা ফাতিহার আয়াত সংখ্যা সাত হয়। এই কারণে কোরআনের আয়াত সংখ্যা একটু এদিক ওদিক হয়েছে। তাই আপনাকে কেও জিজ্ঞেস করলেন বলুন ৬২০০ এর একটু বেশি। কখনো বলবেন না ৬৬৬৬, কারণ এতে কুফরী বিশ্বাস জড়িত রয়েছে। এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে যেসব নামাযে কেরাত উচ্চস্বরে পড়া হয় সেসব নামাযে ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ উচ্চস্বরে পড়বেন কিনা? উচ্চস্বরে পড়ার ব্যাপারে যেমন ঐক্যমত রয়েছে তেমনি নিম্নস্বরে পড়ার ব্যাপারেও ঐক্যমত রয়েছে। তা্ই এই বিষয়ে তর্কে লিপ্ত না হয়ে যে কোন একটি অনুসরণ করলে নামায সিদ্ধ হবে।