উত্তরটা দিন কাল পরিক্ষা?
2 Answers
আমরা জানি পানি সমযোজী যৌগ হলেও এতে পোলারিটি আছে। অর্থাৎ পানির অনু সামান্য পরিমান বিয়োজিত হয়ে H+ ও OH- আয়নে বিভক্ত হয়। কোন আয়নিক যৌগ পানিতে দ্রবীভুত করলে ঐ যৌগের আয়ন গুলো পানিতে চলে আসে এবং যৌগের পজেটিভ আয়ন পানির নেগেটিভ হাইড্রোক্সিল আয়ন দ্বারা আকর্ষিত হয় ফলে যৌগের আয়নটি দ্রবনে হাইড্রোক্সিল কতৃক পরিবেষ্ঠিত থাকে,অনুরুপ ভাবে যৌগের নেগেটিভ আয়নটি পানির পজেটিভ হাইড্রোক্সিল আয়ন দ্বারা দ্রবনে পরিবেষ্ঠিত হয়ে বলে আয়নিক যৌগটি দ্রবীভুত হয়ে যায়। কিন্তু সমযোজী যৌগের ক্ষেত্রে যোগিক পদার্থটির এমন কোন পোলারিটি প্রান্ত না থাকায় পানির পোলার প্রান্ত কতৃক আকৃষ্ট হয়না বলে দ্রবীভুত হয়না। কিন্তু কিছু সমযোজী যৌগে আয়নিক বৈশিষ্ট থাকে,এটি তৈরি হয় মুলত ফাজানের নীতি অনুসারে। কারন এখানে যেকোন একটি মৌল অধিক সক্রিয় হলে ইলেক্ট্রোপজেটিভিটি অথবা নেগেটিভিটি তৈরি হয় তখন পোল সৃষ্টি হয় এবং দ্রবীভুত হয়। যেমন চিনি। আবার আয়নিক যৌগ তড়িৎ পরিবহন করে মুলত দ্রবনে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থগুলোতে জারন বিজারন ঘটে। এই জারন বিজারন বিক্রিয়ায় ঋনাত্মক মুলকটি ইলেক্ট্রন ছেড়ে দেয় এবং ধনাত্মক আয়নটি ইলেক্ট্রন গ্রহন করে , এই আদান প্রদানের ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয়। কিন্তু সমযোজী যৌগ দ্রবীভুত না হওয়ায় জারন বিজারন বিক্রিয়ার প্রশ্ন আসেনা বলে সমযোজী যৌগ তড়িৎ প্রবাহ করেনা।
আয়নিক যৌগ সাধারণ অবস্থায় পানিতে দ্রবীভূত নয় কিন্তু বিগলিত বা আয়নিত অবস্থায় পানির সংশ্লেষণ করা হলে আয়নিক যৌগের ধনাত্মক প্রান্ত পানির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে এবং ঋণাত্মক প্রান্ত পানির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত হয়ে প্রথমে আংশিক বিযোজিত হয় ও পরে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়।কিন্তু সমযোজী যৌগে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক প্রান্ত সৃষ্টি হয় না বলে এটি পানিতে অদ্রবণীয়। পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিক যৌগে বিচরণশীল ইলেকট্রন বিদ্যমান বলে এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী।অন্যদিকে সমযোজী যৌগে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন না তৈরী হওয়ায় এ যৌগে বিচরণশীল ইলেকট্রন থাকে না।তাই সমযোজী যৌগ বিদ্যুৎ অপরিবাহী।