সোসাল নেটওয়ার্ক সাইট থেকে পরিচয়। মেয়ে অনেক বেশি ভাল দেখাতো আমাকে, যেমন আমিই তার সবকিছু, আমাকে ছাড়া বাচবে না আরো অনেক কিছু। পরে মেয়ের ৬ মাস ধরে চাপের কারনে তাকে বিয়ে করতে রাজি হই এবং আমি কিছু শর্ত দেই মেয়েকে যে আমাকে ১ বছর সময় দেয়া লাগবে যাতে আমি আমার পরিবারকে সুযোগ বুঝে জানাতে পারি এবং নিজেও কোন চাকরী খােজে নিয়ে কিছু উপার্জন করার মত সুযোগ করতে পারি । শর্তসমূহ- ১) আমি যেহেতু বেকার এবং বিয়ে করার মত সামর্থ্য বা সংসার এর ব্যয় ভার বহন করার মত কোন উপার্জন নেই এবং আমার পরিবারে বড় ভাই অবিবাহিত থাকার কারনে আমাকে ১ বছর সময় দিতে হবে ২) বিয়ের পর ১ বছর পর্যন্ত আমাদের বিয়ের কথা ফাস করা যাবে না কারো কাছে ৩) আমাদের মাঝে যতই ঝগড়া হবে হউক আমার ফ্যামিলিতে কোন ধরণের যোগাযোগ করতে পারবে না মেয়ে। মেয়ে রাজি হয় আমার শর্তে এবং আমিও মেয়েকে বিশ্বাস করি তারপর আমি মেয়ের নিজ জেলায় গিয়ে বিয়ে করি । আমরা একলা কোর্ট এ গিয়ে মেয়ের পরিচিত উকিলের মাধ্যমে নোটারী করি এবং কাবিননামা ও রেজিষ্টার হয়। কিন্তু মেয়ে বিয়ের পরেরদিন ই বিয়ের কথা ফাস করে সবাইকে এবং প্রতিনিয়ত ২/৩ মাস মানসিকভাবে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রনা দেয়। এবং আমার পরিবারে বড় আপু কে বিভিন্ন ধরনের এসএমএস দেয়, আমার আম্মুকে মোবাইলে আবুল তাবুল কথা বলে প্রতিনিয়ত আমার বাসায় চলে আসার হুমকি দেই আরো অনেক কাহিনী। আমাদের বিয়ের ৫ মাস এখন আমি মেয়েকে তালাক দিতে চাই কিন্তু আমি যেহেতু বেকার কাবিন দেওয়ার মত ক্ষমতা আমার নাই, যদিও জানি যে কাবিন অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। আমার প্রশ্ব হচ্ছে- কোর্টের মাধ্যমে তালাকের আবেদন করে কি তালাক কার্যকর করা যায় এবং কাবিনের টাকা উপার্জন করে মাসিক কিস্তি হিসেবে দেওয়ার মত কোন কিছু করা যাবে ?

গুচিয়ে লিখতে না পারার জন্য দুঃখিত
2903 views

1 Answers

# প্রথম কথা হলো তাকে নিজে কিংবা মুরব্বি গোচের কাউকে দিয়ে বুঝান। এসবে  কাজ না হলে তালাক দিতে পারবেন। তবে যে কয়টি তালাক দিলে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ততটুকতেই ক্ষান্ত হওয়া উত্তম।বাকি তালাকের জন্য কোর্টে যাওয়া লাগবে না।চাইলে আপনি তালাক মৌখিকভাবে কিংবা কাগজে লিখে তাতে বুঝেশুনে সাক্ষর করেও তালাক দিতে পারেন।তবে কোর্টের মাধ্যমে আপনি তালাক দিতে চাইলে তালাক দিতে পারবেন। মহান আল্লাহ তাআলা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে ইরশাদ করেন,

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلاَثَةَ قُرُوَءٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ إِنْ أَرَادُواْ إِصْلاَحًا وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكُيمٌ

আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয়। আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায়, তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ। [ সূরা বাকার: আয়াত - ২২৮]

الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُواْ مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلاَّ أَن يَخَافَا أَلاَّ يُقِيمَا حُدُودَ اللّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ يُقِيمَا حُدُودَ اللّهِ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللّهِ فَلاَ تَعْتَدُوهَا وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللّهِ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

তালাক (`রাজঈ' 'ল) দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম। [ সূরা বাকার: আয়াত - ২২৯

# আর মহরের টাকা স্ত্রীর প্রাপ্য তা অবশ্যই তাকে প্রদান করতে হবে। তবে, তা একসাথে কিংবা বিবাহ করা মাত্রয় প্রদান করা জরুরী না। এক সাথে কিংবা অল্প অল্প করে প্রদান করা যায় এ ক্ষেত্রে শরীয়তের পক্ষ থেকে কোনরূপ বাধ্য বাধকতা নাই। তবে যতদ্রুত সম্ভব পরিশোদ করাই শ্রেয়। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন,

وَآتُواْ النَّسَاء صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا

আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। [ সূরা নিসা: আয়াত নং ৪]

2903 views

Related Questions