2 Answers

রুট/Root শব্দটা এসেছে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে। লিনাক্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে যাদের রুট প্রিভিলেজ বা সুপারইউজার পারমিশন আছে তাদেরকে রুট ইউজার বলা হয়। এন্ড্রয়েড তৈরি হয়েছে লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম থেকে। এন্ড্রয়েড ডিভাইসে রুট পারমিশন মানে সিস্টেম ফাইল এডিট করার পারমিশন আদায় করা। রুট করার সুবিধা পারফরমেন্স বাড়ানোঃ বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ডিভাইসের অব্যবহৃত ফাইল,টেমপোরারি ফাইল ইত্যাদি নিয়মিত মুছে ফোনের গতি ঠিক রাখা। ওভারক্লকিং করাঃ সিপিইউ স্পিড স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা থাকে তারচেয়ে বেশি দ্রুত কাজ করানো।এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ কাজে প্রসেসরের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন পড়লে তা করা যায়। আন্ডারক্লকিং করাঃ যখন ডিভাইস এমনিতেই পড়ে থাকে,তখন সিপিইউ যেন অযথা কাজ না করে যে জন্য এর কাজেরক্ষমতা কমিয়ে আনা।এতে করে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানো সম্ভব। কাস্টম ইউআইঃ আপনার ডিভাইসের হোমস্ক্রিন, লক স্ক্রিন, মেনু ইত্যাদি বিভিন্ন ইউজার ইন্টারফেসের ডিজাইন একটাসময় পর আর ভালো নাও লাগতেপারে।তখন আপনি ডিভাইসে নতুনত্ব আনতে পারবেন নতুন সব কাস্টম ইউজার ইন্টারফেসের মাধ্যমে।এগুলোকে অন্যভাবে রমও বলা হয়। কাস্টম রমঃ ইন্সটল করার সুবিধা।অনেকডেভেলপার বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিভাইসের জন্য কাস্টম রম তৈরি করে থাকেন। এসব রম ইন্সটল করে আপনি আপনার সেটকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেটের রূপ দিতে পারবেন।বাইরে থেকে অবশ্যই এর ডানা-পাখনা গজাবে না বা ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল থেকে ৮ মেগাপিক্সেল হবে না,কিন্তু ভেতরের ডিজাইন ও ক্ষেত্রবিশেষে পারফরম্যান্সেও আসবে আমূল পরিবর্তন। রুট করার অসুবিধা ওয়ারেন্টি হারানোঃ ডিভাইস রুট করারমাধ্যমে আপনার ওয়ারেন্টি বাতিলহয়ে যাবে।তাই রুট করার আগে সাবধান।অবশ্য অনেক সেট আবার আনরুট করা যায়।আর সেট আনরুট করা হলে তা সার্ভিস সেন্টারে থাকা টেকনিশিয়ানরা অনেক সময়ই ধরতে পারেন না যে সেটটি রুট করা হয়েছিল।তবে কাস্টম রম থাকলে ধরা খাওয়া এড়ানোর উপায় নেই। ফোন ব্রিক করাঃ ব্রিক অর্থ ইট। আর ফোন ব্রিক মানে আপনার ডিভাইসকে ইটে রূপান্তরিত করা।অর্থাৎ,এর কাজ করার ক্ষমতা হারানো।রুট করা ও এর পরবর্তী বিভিন্ন কাজের সময় একটু এদিক-সেদিক হলেই ফোনে স্থায়ী বা অস্থায়ী সমস্যা হতে পারে।আপনার ফোনের প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফোনটি আনরুট অবস্থায় দেন যেন এর ক্ষতি না হয়।রুট করার মাধ্যমে আপনি সেই নিশ্চয়তা ভেঙ্গে ফেলছেন।

3223 views

রুটিং এর অসুবিধা সমূহ:    ১। ব্রিকিংঃ রুটিং হল একটি ড্রেডেড শব্দ । এটি ইন্সটল থাকলে আপনার  ফোনটিতে কোন বড় সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন না । আপনি যদি এটি কোন ব্যাবসায়িক কাজে ব্যবহার করেন তবে এটি দিয়ে আপনি লাভবান হবেন না । এমন কি যদি এটি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয় তবে এর জন্য আপনাকে জরিমানা দিতে হতে পারে । কোন বড় কাজে বা ব্যাবসায়িক কাজে এর সুফল তেমন নেই । ২। মোবাইল রুট করলে কি হয় : এটি ব্যবহার এর সাথে সাথে আপনার ফোনের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাবে কারন এর পর আপনি আর কর্তৃপক্ষকে এই টা দেখাতে পারবেন না । আপনি এই রুটিং বন্ধ করেও যদি ফোনটিকে ওয়ারেন্টিতে পাঠান তাতেও কোন লাভ হবে না । কারন, রুট একবার ইন্সটল করা হলে এর পরে আর এর ডিভাইস আগের মত থাকে না ।  তাই এর ব্যবহারের সাথে সাথে আপনার ওয়ারেন্টির কথা ভুলে যেতে হবে। ৩। সিকিউরিটি রিস্কঃ রুটিং ব্যবহারের ফলে আপনার ফোনটি সিকিউরিটি রিস্কে পরে যাবে। কারন রুটিং ইন্সটলের সাথে সাথে আপনার আপনার ডিফল্ট সেটিংস চেঞ্জ হয়ে যাবে । তাই এর সিকিউরিটি আগের মত থাকবে না । যার ফলে আপনার ফোনটি একটি সিকিউরিটিহীন অবস্থায় পরবে । আর এতে আপনার একটি ফোনের উপর নির্ভর করে অনেক বড় বড় সমস্যা হতে পারে যা আপনি হয়ত কল্পনাও করতে পারবেন না । তাই আপনার উচিত  মোবাইল রুট করলে কি হয় এর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা তৈরি করা। কারন, তা না হলে অজ্ঞতার কারনে অনেক বড় বড় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যা কি না আপনি ধারনাও করতে পারবেন না।

3223 views

Related Questions