যদি কোন প্রসাধনী শরীরে ব্যবহার করার পর উযু করি তাহলে কি নামাজ হবে?যেমন শীতকালে লোশন ব্যবহার করি কিন্ত উযু করার সময় ত শুধুই কনুই পর্যন্ত ধৌত করি এর উপরে ত আর ধুই না।তাহলে এগুলো শরীরে লেগে থাকলে কি উযু বা নামাজ হবে?  
3505 views

3 Answers

প্রসাধনীতে যদি কোন নাপাকী না থাকে, এবং তা এমন না হয় যা পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক, তাহলে এমন প্রসাধনীর উপরে ওজু করা জায়েজ আছে৷ মোটকথা, লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করার পরে তাতে অজু করা জায়েজ আছে৷

3505 views

এগুলো ব্যবহার করলে নামাজ হবে। তবে না ব্যবহার করাই উত্তম। কেননা,এটি কি দিয়ে তৈরি, সেটি নিয়ে কিছু কনফিউশন আছে।

3505 views

আপনি লোশন এর কথা বলেছেন তাতে এলকোহল আছে কিনা আপনি যদি নিশ্চিত না থাকেন তবে তা ব্যাবহার করতে পারেন । এতে নামাজের কোন ক্ষতি হবেনা। 

আসলে বর্তমান বাজারগুলোতে যেসব পারফিউম বা বডি স্প্রে পাওয়া যায় এগুলোর অধিকাংশটির মধ্যেই রয়েছে অ্যালকোহল। তবে অ্যালকোহলমুক্ত পারফিউমও পাওয়া যায়। তাই পারফিউম বা স্প্রে ব্যবহার করতে চাইলে এ্যালকোহলমুক্তগুলোই কিনতে হবে। কারণ এ্যালকোহলযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করা অনুত্তম। কারণ মুসলমানদের মদ খাওয়া হারাম। আর মদে যেহেতু অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই অ্যালকোহলযু্ক্ত স্প্রে ব্যবহার  না করায় উত্তম।

 একদল মুহাক্কেক বিদ্বান মত প্রকাশ করেছেন যে, মদ বা এলকোহল খাওয়া হারাম, কিন্তু জিনিসটি পাক। অর্থাৎ শরীরে লাগলে ওযু করতে হবে না বা কাপড়ে লাগলে তা ধৌত না করেও সালাত করা যাবে। যেমন বিষ পান করা হারাম, কিন্তু তা শরীরে লাগলে শরীর নাপাক হবে না। তাঁদের দলীল,
 (১) এটা নাপাক হওয়ার সুস্পষ্ট কোন দলীল নেই। কেননা প্রত্যেক বস্তুর মূল হচ্ছে পাক বা পবিত্র। যতক্ষণ নাপাক বলার পক্ষে সুস্পষ্ট দলীল না পাওয়া যাবে, ততক্ষণ তাকে নাপাক বলা যাবে না।
(২) যখন মদ হারাম ঘোষণা করা হয়, তখন সাহাবায়ে কেরাম সুরাহী থেকে মদ মদীনার ওলি-গলিতে ও বাজারে বইয়ে দেন। যদি তা নাপাক হত, তবে নাপাক বস্তু কখনই এভাবে বাজারে বা চলাফেরার রাস্তায় বইয়ে দিতে অনুমতি দেয়া হত না।
(৩) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁদেরকে মদের পাত্র সমূহ ধৌত করতে আদেশ করেননি। যেমনটি খায়বার বিজয়ের দিন গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম ঘোষণা করে, যে পাতিলে তা রান্না করা হয়েছিল তা ধৌত করতে আদেশ করেছিলেন।
(৪) আল্লাহ যে উদ্দেশ্যে মদ হারাম করেছেন, প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যবহার গুলোতে সে উদ্দেশ্য পাওয়া যায় না। আল্লাহ বলেন,
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ 
“শয়তান তো এটাই চায় যে, মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা সৃষ্টি করে দিতে এবং আল্লাহর যিকির ও সলাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে, সুতরাং এখনও কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?” (সূরা মায়েদাঃ ৯১)
উল্লেখিত ব্যবহারগুলোতে এই উদ্দেশ্য পাওয়া যায় না, অর্থাৎ এর মাধ্যমে মাদকতা সৃষ্টি হবে না, ফলে শত্রুতাও হবে না এবং সালাত ইত্যাদি থেকে বিরত থাকারও দরকার পড়বে না।
আর ৯০ নং আয়াতে যে ‘রিজস’ শব্দ ব্যবহার হয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্থগত নাপাকী, বস্তুগত নয়। যেমন আল্লাহ কাফেরদেরকে ‘নাজাস’ বা নাপাক বলেছেন। (সূরা তাওবাঃ ২৮) তার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা অন্তরের দিক থেকে নাপাক, বাহ্যিক বা শারীরিক দিক থেকে নয়, অর্থাৎ তাদের শরীরের সাথে মুসলমানের শরীর স্পর্শ হলে ওযু নষ্ট হবে না।

3505 views

Related Questions