1 Answers

এই প্রশ্নের উত্তর খুবিই সহজ আবার জটিল। এক একজন মানুষ এক এক দিক থেকে উত্তর দিতে পারেন। কিন্তু বোঝানোটা কঠিন বিষয়। দেখেন বুঝতে পারেন কিনা। জ্ঞানীঃ সেই ব্যক্তিকে জ্ঞানী বলে যিনি অনেক বিষয়ে অনেক কিছু জানেন, হতে পারে মুখস্থ বিদ্যা, হতে পারে অর্জিত বিদ্যা, যিনি অন্যকে উপদেশ দিতে পারেন, কোন বিষয় ব্যাখ্যা করে বোঝাতে পারেন, যিনি জটিল বিষয় পর্যালোচনা করে সারমর্ম বের করে সহজ সমাধান দিতে পারেন, তিনি হচ্ছেন জ্ঞানী ব্যক্তি। শিক্ষিতঃ যিনি অক্ষরজ্ঞান সম্পর্ন তিনিই হচ্ছেন শিক্ষিত, অনেক বই পত্র পড়ে যিনি সর্বস্তরের সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন(প্রকৃত জ্ঞানের মুল্যায়ন নাই। মুখস্থ হলেও শিক্ষিত) সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিতঃ দুটো শব্দই একে অন্যের পরিপুরক।প্রমথ চৌধুরি বলেছিলেন সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। সুশিক্ষিত সেই ব্যক্তি যিনি শুধু বই পত্রের জ্ঞান আওড়াননা, সেগুলোর আলোকে নতুন জ্ঞানের আলো দিতে পারেন যিনি, যাহার আচার আচরনও মার্জিত, ভাল মন্দের জ্ঞান প্রখর। মানুষে মানুষে কিভাবে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ইত্যাদি সুশিক্ষিত ব্যক্তির বৈশিষ্ট। আর এই জ্ঞানের অধিকারী সেই ব্যক্তি হতে পারেন যাহার চিন্তা চেতনায় নতুন সাহিত্য বোধ থাকে, কোন কথাকে নিজের জ্ঞান দ্বারা নতুন ভাবে ব্যখ্যা করে সুন্দর চেতনার উদ্রেক ঘটায় তিনি স্বশিক্ষিত। স্ব মানে নিজে। কাজেই এই ব্যক্তি অক্ষরজ্ঞান সম্পর্ন কিনা সেটা বড় নয়। বড় তার জ্ঞান গরীমা, আচার ব্যবহার,  ভাষা প্রোয়োগে নৈপুন্য ইত্যাদি। অশিক্ষিতঃ অশিক্ষিত সেই ব্যক্তি যাহার সম্মুখে ভাল মন্দ জ্ঞান থাকলেও অক্ষরজ্ঞান নাই। কিছু বিশ্লেষন করে বুঝতে পারেনা। নিজের কোন অভিমত নাই, সেই ব্যক্তিকে অশিক্ষিত ধরা হয়। আর এই অশিক্ষিত ব্যক্তিই মুর্খের পর্যায়ে পড়েন, তবে মুর্খের ক্ষেত্রে আরও একটি শব্দ, যেমন বুঝালেও বোঝেনা যুক্ত করতে হয়। আতেলঃ শিক্ষিত(অক্ষরজ্ঞানী) অশিক্ষিত, মুর্খদের যারা নিজেরা না বুঝেও বোঝার ন্যায় উলটা পালটা করে। কিছু বললে সঠিকটা বুঝতে না পেরে ভুলটায় করে তাদের তাচ্ছিল্য হিসাবে আতেল বলা হয় হয়। মোসাহেবঃ এই ব্যক্তি হচ্ছে চাটুকর। তিনি জ্ঞানী, মুর্খ  বুদ্ধিমান হতে পারেন কিন্তু তার এসব বৈশিষ্ট  প্রকাশ না করে কেবল অন্যকে খুশি করতে হ্যা তে হ্যা বলে যান। এই ব্যক্তি অলসও বটে। 

3078 views

Related Questions