একটি মেয়ের সম্মতি ছাড়াই তাকে বিয়ে দিচ্ছে তার পরিবার..মেয়েটি অন্য একটি ছেলেকে পছন্দ করে এবং তাকেই বিয়ে করতে চায়..?
2 Answers
পিতা–মাতা বা অভিভাবক কুমারী বা তালাক প্রাপ্তা অথবা বিধবা মেয়েকে তাদের সম্মতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারে নাঃ ১)আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, কোন সাইয়্যেবা (তালাক প্রাপ্তা বা বিধবা) নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি। (সুত্রঃ সহীহ বুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৬; মুসলিম ১৪১৯, তিরমিযী ১১০৭, নাসায়ী ৩২৬৫, ৩২৬৭, ৩২৭০, আবূ দাউদ ২০৯২, ২০৯৩, আহমাদ ৭৩৫৬, ৭৪৬৫, ৭৭০১, ৯২০৭, ৯৩২২, ২৭২৭২ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ১৮৭১) ২)‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই কুমারী মেয়েরা লজ্জা করে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার সম্মতি। (সুত্রঃ সহীহবুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৭;) খ) কন্যার অসন্তুষ্টিতে পিতা তার বিয়ে দিলে তা বাতিল বলে গণ্য হবেঃ ১) খানসা বিনতে খিযাম আল আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি অকুমারী ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিয়ে দেন। এ বিয়ে তিনি অপছন্দ করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএ বিয়ে বাতিল করে দিলেন। (সুত্রঃ সহীহবুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৮; গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), হাদিস নম্বর ২০৯৭ ) ২)আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও মুজাম্মে ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। খিযাম নামক এক ব্যক্তি তার মেয়েকে বিবাহ দেন। সে তার পিতার এই বিবাহ অপছন্দ করে। মেয়েটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতার দেয়া তার এই বিবাহ রদ করে দেন। পরে সেই মেয়ে আবূ লুবাবা ইবনু ‘আবদুল মুনযির (রাঃ)-কে বিবাহ করে। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, সে ছিল সায়্যিবা (বিধবা)। (সুত্রঃ সহীহবুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৭৩; নাসায়ী ৩২৬৮, আবূ দাউদ ২১০১, আহমাদ ২৬২৪৬, ২৬২৫১, মুয়াত্তা মালেক ১১৩৫ ) ৩) বুরাইদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুবতী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমার পিতা তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে তার দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য আমাকে তার সাথে বিবাহ দিয়েছেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি মেয়েটির এখতিয়ারে ছেড়ে দেন। মেয়েটি বললো, আমার পিতা যা করেছেন তা আমি বহাল রাখলাম। আমার উদ্দেশে ছিলো, মেয়েরা জেনে নিক যে, বিবাহের ব্যাপারে পিতাদের কোন এখতিয়ার নাই। হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। (সুত্রঃ সুনানে ইবনে মাজাহ, ১৮৭৪) ৪) হযরত সালামা বিনতে আব্দুর রহমান (রাঃ)থেকে বর্ণিত, একদা এক মেয়ে রাসুল(সাঃ)এর কাছে এলো এবং বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা কতই না উত্তম পিতা! আমার চাচাতো ভাই আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল, আর তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। আর এমন এক ছেলের সাথে তিনি বিয়ে দিতে চাইছেন যাকে আমি অপছন্দ করি। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলে পিতা বলে, মেয়েটি সত্যই বলেছে। আমি তাকে এমন পাত্রের সাথে বিয়ে দিচ্ছি, যার পরিবার ভালো নয়। তখন রাসূলুল্লাহ(সাঃ) মেয়েটাকে বললেন, “এ বিয়ে হবে না, তুমি যাও, যাকে ইচ্ছা বিয়ে করে নাও। (সূনানে সাইদ বিন মনসুর৫৬৮ / মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক:১০৩০৪/ দিরায়া ফী তাখরিজী আহাদিসিল হেদায়া:৫৪৮) ৫) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এরশাদ করেছেন, মেয়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অভিভাবকদের চেয়ে বেশি হক্কদার। (মুয়াত্তা মালিক:৪৪৪/ সহীহ মুসলিম:১৪) উপরে বর্ণিত পবিত্র কুরাআনের আয়াত এবং রাসুল (সাঃ) হাদিস সমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, কোন নারীকেবিয়ে দিতে গেলে তার অনুমতি অত্যাবশ্যক।তার অভিভাবকগণ তাদের সম্মতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারে না।
অভিভাবক ব্যতিত কোন নারীর বিবাহ জায়েজ হবে না।পিতার বতর্মানে অন্যকেউ মেয়ের অভিভাবক হয়ে বিবাহ দিতে পারবেন না।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy