1 Answers
* প্রথমত রোগীকে জানতে হবে তার কি চোখের কোনো ড্রপে এলার্জি আছে কিনা? পূর্বের এলার্জির ইতিহাস থেকে সেই ড্রপের নাম ডাক্তারকে চিকিৎসা নেয়ার পূর্বেই জানানো প্রয়োজন। * শরীরে চোখের রোগ ব্যতীত অন্য কোনো রোগ আছে কিনা (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, হাঁপানি, বাতরোগ ইত্যাদি) তা ডাক্তারকে জানানো প্রয়োজন। * চোখের চুলকানি বা এলার্জির চিকিৎসা হিসেবে কখনো কখনো ডাক্তার স্বল্প সময়ের জন্য স্টেরইড আইড্রপ ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং রোগী অনেক আরামবোধ করেন। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত এই ড্রপ মাসের পর মাস ব্যবহারের ফলে চোখে ছানিরোগ এবং চাপ বেড়ে দিয়ে (গøুকোমা) চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত স্টেরয়েড ব্যবহারজনিত অন্ধত্বের হার দিনদিন বাড়ছে। * আমাদের মধ্যে চোখে সমস্যা হলেই ওষুধের দোকান থেকে এন্টিবায়োটিক ড্রপ কিনে চোখে ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। এতে চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিনদিন কমে যায় এবং ঘনঘন চোখে ইনফেকশন হতে পারে যা পরবর্তীতে ওষুধ প্রয়োগেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। * যারা গøুকোমা রোগের জন্য চোখের ড্রপ ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা আবশ্যক। কারণ বিটাব্লুকার জাতীয় চোখের ড্রপ যেমন টিমোলোল মেলিয়েট, হাঁপানি রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগীদেরও অনেক মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে হাঁপানি, হৃদরোগীদের গøুকোমা রোগের চিকিৎসায় অন্য গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার প্রয়োজন। এছাড়াও ওষুধ প্রয়োগের পর নেত্রনালীতে কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে রাখলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেকাংশে কম হয়। * যাদের এঙ্গেলক্লোজার গøুকোমা রয়েছে, কোনো কারণে তাদের চোখে যদি হোমাট্টপিন বা এট্টপিন জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়, সে ক্ষেত্রে চোখে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। * যাদের চোখের ভেতর প্রদাহ বা ইউভাইটিস রয়েছে, সেই ক্ষেত্রে পাইলোকারপিন এবং ল্যাটানোপ্রস্ট জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায় না। এতে চোখের প্রদাহ বেড়ে যায়। * আঘাতের কারণে অথবা অন্য যে কোনো কারণে যদি কর্নিয়াতে ঘা হয়, সেই ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করলে কর্নিয়ায় ঘা বেড়ে গিয়ে কর্নিয়া ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। এতে চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও শুষ্ক চোখ, কর্নিয়ার এব্রাশান, ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগে স্টেরয়েড ব্যবহার করা ঠিক নয়। পরিশেষে বলতে হয়, ওষুধে রোগের চিকিৎসা হয়, আবার অনিয়মতান্ত্রিক ওষুধ ব্যবহারে অন্ধত্ববরণ করতে হয়। এমনকি মৃত্যুঝুঁকি নিতে হয়। সুতরাং ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত চোখের ওষুধ ব্যবহার করা সঠিক নয়,। - উত্তরটি সংগৃৃহীত