2 Answers
*****ফেসবুকে একখানা আইডি আছে অথচ ফেসবুক লাইক নিয়ে চিন্তিত নয়, এমন কাউকে আজকের দিনে খুজে পাওয়া ভার। অনেক চিন্তাভাবনা করে মজার একটা স্ট্যাটাস দিলেন ফেইসবুকে, অথচ লাইক পেলেন কম! অন্যদিকে কাছের বন্ধুদের স্ট্যাটাসে অনেক লাইক, মেয়েদের বেলায় তো বন্যা একেবারে !
তাঁতে কি, বাদ দিন ওসব হা-পিত্যেশ করা।এবার হয়ে উঠুন ফেসবুক সেলিব্রেটি! ‘সমাধান নেই’ এমন কোন সমস্যা আছে নাকি পৃথিবীতে ?
হতাশা ঝেড়ে ফেলে এবার বরং মনযোগ দিয়ে পড়ুন নিয়মটা সাথে একবার চোখ বুলান ঘড়ির কাঁটার দিকে ।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঠিক সময়ে স্ট্যাটাস আপডেট না করলে যথাযথ ‘লাইক’ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
গবেষণার ভিত্তিতে ‘বাসল ডটকম’ জানায়, কর্মব্যস্ত দিনে কাজের সময়ে এবং সন্ধ্যা সাতটা থেকে আটটার মধ্যে ‘স্ট্যাটাস আপডেট’ করার সবচেয়ে ভালো সময়।
সান ফ্রান্সিসকোর লিথিয়াম টেকনোলজিস পরিচালিত এই পর্যালোচনার গবেষকরা বলেন, “ম্যাসেজ’ পড়ে কে কী রকম আচরণ করবে তা বিভিন্ন বিষয়ে উপর নির্ভর করে। যেমন: প্রতিদিনের কাজ এবং সাপ্তাহিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট, তার অবস্থান বা ‘টাইমজোন’ এবং অন্যান্য ‘ম্যাসেজ’ যেগুলোর সঙ্গে আপনার ‘ম্যাসেজ’ প্রতিযোগিতা করছে।”
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো এবং নিউ ইয়র্কের ফলাফল প্রায় এক। যেখানে সাধারণত কাজের সময় বেশি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
প্যারিসে কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে মধ্যভাগে বেশি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। আর লন্ডনে বেশি সাড়া পাওয়া যায় কাজের সময়ের শেষে।
গবেষকরা বলেন, “ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকার ভোক্তাদের মাঝে নতুন পণ্যের খবর পৌঁছে দিতে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নব্য প্রেমিক হয়ে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে বসবাস করে স্ট্যাটাস দেওয়ার ক্ষেত্রে এই তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
পাশাপাশি আপনি যদি তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টিলাভ করতে চান তবে ‘টুইটার’ খুবই ভালো মাধ্যম। জরিপে দেখা গেছে তুলনামূলকভাবে ‘ফেইসবুক’য়ের চাইতে এতে প্রায় দ্বিগুণ প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সুযোগ থাকে।
টুইটারে প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যে যে পরিমাণ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, ফেইসবুকে সেই পরিমাণ প্রতিক্রিয়া পেতে দুই ঘণ্টা লেগে যায়।
গবেষকরা এই পর্যালোচনার জন্য ‘টাইমস্ট্যাম্পস’ পদ্ধতিতে ১২০ দিনের উপর ধরে প্রচুর ডেটা (চোদ্দ কোটি চল্লিশ লক্ষ পোস্ট) এবং প্রতিক্রিয়া (১.১ লক্ষ কোটি) ‘ক্লাউট’ ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করেন।
আপনি ফেসবুকে আরও কিভাবে সহজ পদ্ধতী অনুসরন করে বেশি লাইক ও শেয়ার পেতে পারেন তার একটি ধারনা দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্ট ড্যান যারেলা। তার অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে তিনি বেশ কয়েকটি সফল পদ্ধতীর অবতারনা করেছেন যা আপনাদের জন্যে নিম্নে তুলে ধরা হয়েছে :
পোস্টের ধরন
যারেলা অনুসন্ধান করে দেখেছেন ফেসবুক পেজে ছবিতেই সবচেয়ে বেশি লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার হয়। তবে এই ৩ টি কাজের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে যা নিচের চিত্রে দেখতে পাবেন।
পোস্টের আকার
ফেসবুক পেজে লিংক না দিয়ে পোস্ট দিলে সেটা সবচেইয়ে বেশি লাইক এবং শেয়ার হয়। এর মধ্যে যে পোস্ট গুলো সবচেয়ে বেশি লম্বা সেগুলো সবচেয়ে বেশি শেয়ার হয়।
নিজেকে সূত্র হিসেবে ব্যাবহার করা
পেইজে কোনো পোস্টে আপনি নিজেকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যাবহার করুন যেমন “আমি দেখেছি” বা “আমি বিশ্বাস করি” এরকম ভাবে। এই ধরনের পোস্টে গ্রাহকের আস্থা বাড়ে এবং বেশি বেশি শেয়ার হয়।
পোস্টের সেন্টিমেন্ট
যে পোস্ট গুলো নিরপেক্ষ ভাবে লেখা হয়, মানে হল যে পোস্ট গুলো সূস্পষ্ট ও নয় আবার অস্পষ্টও নয় এই ধরনের পোস্ট গুলো কম লাইক পায়। নেগেটিভ পোস্ট গুলো সবচেয়ে বেশি কমেন্ট পায় পজেটিভ পোস্ট গুলোর থেকে।
পোস্টের সময়
যে পোস্ট গুলো দিনের শেষে করা হয়, সেগুলো বেশি লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার পায় কারন এই সময়ে মানুষ কাজ শেষে বাড়িতে ফেরে এবং পার্সোনাল লাইফে প্রবেশ করে। এই সময়টাকে পিক আওয়ার বলে, সাধারনত সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৮ তা পর্যন্ত।
পোস্টের দিন
যারেলার তথ্য মতে ছুটির দিনে তথা শনি এবং রবিবারে পোস্ট গুলোতে বেশি বেশি লাইক, শেয়ার এবং কমেন্ট হয়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়টা হবে শুক্র এবং শনিবার।
ফেসবুকে বেশি লাইক পেতে ফ্রেন্ড বৃদ্ধি করুন এবং এবং সবার পোষ্ট, ছবিতে লাইক কমেন্ট করুন। আপনিও ভালো ভালো পোষ্ট করুন, দেখবেন অনেক লাইক পাবেন।
