2 Answers
ইজমা হলো কোনো বিজ্ঞ বা আধ্যতিক জ্ঞানে জ্ঞানী আলেম , এমন কোনো বিষয় এর উপর ফতুয়া দেয় যা কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।এতে উক্ত আলেম নিজের বিবেচনার মাধ্যমে ওই বিষয়ে কী করলে তা সর্বোত্তম হতে পারে এরূপ কাজই ইজমা। আর কিয়াস হলো কোনো জটিল সমস্যার সমাধান যদি কুরআন এবং হাদিসে না থাকে তবে এসমস্যার সমাধানের জন্য অনেক বিজ্ঞ আলেম একত্রে বসে এক উত্তম সমাধান প্রনয়ণ করাই কিয়াস।(দুই বিষয়েই হাদিস এবং কুআন ব্যাখ্যা করে তৈরি)
ইজমা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ঐক্যমত পোষণ, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। পরিভাষায় ইজমা বলা হয়, মুসলিম উম্মাহর দীনি জ্ঞানসম্পন্ন মুজতাহিদদের ঐকমত্য পোষণকে। আর এর ভিত্তি হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিহ হাদিস-
‘‘আমার উম্মত কখনও ভ্রষ্ট পথে একমত হবে না’’ । মুস্তাদরাকে হাকিম (১/২০০-২০১) হাদীস নং- ৩৯৪, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৯, ৪০০। আরো দেখুন: আবুদাউদ (৪/৯৮) হাদীস নং- ৪২৫৩; তিরমিজি (৪/৪৬৬) হাদীস নং- ২১৬৭; ইবনে মাজা (২/১৩০৩) হাদীস নং- ৩৯৫০।
আরো পরিস্কার করে বললে, ইজমা দ্বারা মুসলিমদের কোনো বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্যকে বোঝানো হয়। বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামি আইনজ্ঞরা তাদের মতামতের ক্ষেত্রে একমত হলে তাকে ইজমা বলা হয়। শরিয়া অনুযায়ী উলামাদের ইজমা রয়েছে এমন বিষয় কারো অমান্য করার সুযোগ নেই।
আর কিয়াস হল ইসলামি আইনশাস্ত্রের চতুর্থ উৎস। কুরাআন সুন্নাহ বা ইজমা এর কোন দলীল দ্বারা প্রমাণিত কোন বিষয়ের উপর অনুমান করে এই তিন উৎসতে নেই এমন কোন বিষয়ে মাসয়ালা নির্ণয় করাকে কিয়াস বলে।