6 Answers
সফলতা বলতে আপনি কী বোঝেন? একটা ডিকশনারি বলে সফলতা হল “ধনদৌলত করা, নাম করা ও যশ পাওয়া।” কিন্তু সফলতা কী শুধু এগুলোই? কেবলমাত্র ধনদৌলত, নাম ও যশ পাওয়ার মানেই কি জীবনে সফল হওয়া? উত্তর পাওয়ার আগে আসুন আমরা এই বিষয়টা দেখি: যীশু খ্রীষ্ট যখন পৃথিবীতে ছিলেন তাঁর কাছে ধন বলতে কিছু ছিল না। বেশির ভাগ লোকেরা তাঁকে পছন্দ করত না তাই তাঁর তেমন নামও ছিল না। তাঁর দিনের নামিদামি লোকেদের কাছ থেকে তিনি যশও পাননি। তবুও যীশু একজন সফল ব্যক্তি ছিলেন। কীভাবে? পৃথিবীতে থাকার সময়ে যীশু “ঈশ্বরের উদ্দেশে ধনবান্” ছিলেন। (লূক ১২:২১) তিনি আবার জীবিত হয়ে ওঠার পর যিহোবা তাঁকে “প্রতাপ ও সমাদর-মুকুটে বিভূষিত” করেছিলেন। যিহোবা তাঁর পুত্রকে “অতিশয় উচ্চপদান্বিতও করিলেন, এবং তাঁহাকে সেই নাম দান করিলেন, যাহা সমুদয় নাম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” (ইব্রীয় ২:৯; ফিলিপীয় ২:৯) যীশু যেভাবে তাঁর জীবন কাটিয়েছিলেন তাতে যিহোবা খুশি হয়েছিলেন। (হিতোপদেশ ২৭:১১) পৃথিবীতে তিনি যে কাজ করার জন্য এসেছিলেন তা করতে পারায় তিনি সফল ছিলেন। তিনি সফল ছিলেন কারণ তিনি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করেছিলেন ও তাঁর নামের গৌরব নিয়ে এসেছিলেন। তাই ঈশ্বর তাঁকে এমন ধন, নাম, যশ দিয়েছিলেন যা কোন নামকরা পণ্ডিত, রাজনীতিক ও খেলোয়াড় জীবনে কখনও পায়নি। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত মানুষ এসেছে তাদের সবার মধ্যে যীশুই হচ্ছেন সবচেয়ে সফল ব্যক্তি।
সফলতা হলো ধর্যের ফসল। আপনি যদি ধর্য রাখেন তাহলে সফল হবেন। ধর্যেই হলো সফলতার চাবি কাঠি। তাই সফলতা বলতে বোঝায় আপনার ধর্য ধরার ক্ষমতা কে।
সাফল্য শুধু অর্থ ক্ষমতা শক্তি বা খ্যাতির নাম নয়। সাফল্য হচ্ছে জীবনের এমন এক অবস্থান যেখানে পৌঁছে আপনার মনে হবে, আপনার বেঁচে থাকাটা সার্থক হয়েছে। মনে হবে, নিজের মেধার কিছুটা হলেও স্ফূরণ ঘটাতে পেরেছেন। নিজের এবং মানুষের কিছু হলেও কল্যাণ করতে পেরেছেন। যখন আপনি তৃপ্তির সাথে চোখ বন্ধ করে বলতে পারবেন-আমার যা কিছু করার ছিলো করেছি, যা কিছু দেখার ছিলো দেখেছি, যা কিছু বলার ছিলো বলেছি। আর তখনই বলা যাবে, আপনি একজন সফল মানুষ। একই সাথে সাফল্যকে আমরা বলতে পারি এমন একটা অনুভূতি, মেধা-ক্ষমতা এবং দক্ষতার এমন এক স্ফূরণ যেখানে প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়া পাওয়ায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। আপনি যা চাচ্ছেন, এই মুহূর্তে আপনি সেটা না-ও পেতে পারেন, কিন্তু পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তা প্রবেশ করেছে এবং আজ হোক, কাল হোক তা আপনি পাবেনই। আর নিজের চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করার পাশাপাশি আরো বহু মানুষের চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে সাহায্য করতে পারবেন তখন।
সাফল্য এক বিরামহীন প্রক্রিয়া। সফল তিনিই যিনি আপাত ব্যর্থতার ছাই থেকে গড়ে নিতে পারেন নতুন প্রাসাদ। প্রতিটি অর্জনকেই মনে করেন নতুন শুরুর ভিত্তি। প্রতিটি অর্জন শেষে শুরু করেন আরো বড় অর্জনের অভিযাত্রা।
যখন আপনার মনে হবে যে আপনার আর বেঁচে থাকার কোনো কারণ নেই তখন আপনি সফল। যেমন বিদায় হজের আগে নবি(স) বুঝেছিলেন যে তার এই দুনিয়ায় আর কোনো কাজ বাকি নেই। সেভাবে দেখলে পৃথিবীতে আমরা কেউ সফল নেই। হয়তো সক্রেটিস সফল ছিলেন, কারণ তিনি বলেছিলেন যে তার মৃত্যু কতটা সত্য। বর্তমানে কেউই মনে করে না যে এখন তার দুনিয়ায় আর কোনো কাজ নেই। সবার কাছে বেঁচে থাকাটাই একটি কাজ। যেটা মৃত্যুর আগে আসলে কোনোভাবেই পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা কেউই সফল নই।