রাতে ঘুম হয়না আর শরীর সব সময় কাপে......?
আমার বয়স ১৭। আমি প্রায় দশ বার ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করি। রাতের বেশির ভাগ সময় জেগে জেগেই চলে যায় কারণ ঘুম আসতে চায় না। ঘুমানোর অনেক চেষ্টা করি কিন্তু পায়ের পাতা হালকায় জলে । যদি দাড়িয়ে থাকি তাহলে শরীর বিষেশ করে পা কাপ তে থাকে। আমার স্বাস্থ্যেরর কোনো সমস্যা নেই।
2 Answers
আপনার সমস্যা গুলার সঠিক চিকিৎসা করতে হলে কিছু মেডিকেল টেস্ট করা লাগবে। তাই এক জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আসক্তি দূরের উপায় ‘মোবাইল আসক্তি' থেকে দূরে থাকতে অধ্যাপক মার্কোভেৎসের এই ডিজিটাল ডায়েটটি অনুসরণ করা যেতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রথম কথা হচ্ছে, সোফায় শুয়ে ক্লিক করার দরকার নেই৷ আমি শুধু নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ফোন ব্যবহার করি৷ অথবা আমি আমার ব্যবহার সংযত করি৷ যেমন সন্ধ্যা সাতটার পর কোনো কিছু নয়৷ সপ্তাহে একদিন কিছু করবো না৷ তিনি বলেন, ‘‘আরেকটি পরামর্শ সবার জন্য: দয়া করে একটি হাতঘড়ি কিনুন৷ কেননা সময় দেখতে গিয়ে অনেকে স্মার্টফোন চালু করেন এবং এরপর অন্যদিকে যান৷ আমি যদি এমন অ্যাপের ব্যবহার কমাতে পারি তাহলে সেটা সহায়ক হবে৷'' ঘুমানোর উপায়: ১. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন ঘুমাতে যাবার এবং ঘুম থেকে উঠার একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। ছুটির দিনেও এই সময় মেনে চলুন। খুব বেশি হলে ১৫/২০ মিনিট এদিক সেদিক করতে পারেন। কিন্তু এর বেশি নয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য ৭-৮ ঘণ্টা এবং ১৮ বছরের কম বয়সী তরুণ বা তরুণীদের জন্য সাড়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম খুবই জরুরী। ২. লেগে থাকুন কোনো অবস্থাতেই নির্দিষ্ট সময়ের এদিক সেদিক করবেন না। অভ্যাসটা শুরু করার পর হয়ত খুব ক্লান্তি আসবে, সকালে বিছানা ছাড়া কষ্টকর হবে অথবা সারা রাত নির্ঘুম কাটবে, তবুও নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যান এবং নির্ধারিত সময়ে বিছানা ছাড়ুন। ৩. শরীরের চাহিদা বুঝুন বুঝতে চেষ্টা করুন ঠিক কোন সময়ে আপনার ঘুম আসছে। সেই সময়ের পরিবেশ লক্ষ্য করুন। হয়তো যখন চারপাশ নিশ্চুপ থাকে আপনি তখন ঘুমাতে পারেন, হয়তবা লাইট জ্বেলে রাখলে আপনার ঘুম হয় না কিংবা রুমের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কমে নেমে আসলে আপনার চোখের পাতা ভারী হয়। এসব ছোট ছোট দিকে খেয়াল রাখুন। ঠিক এ পরিবেশটাই আপনি আপনার নির্ধারিত সময়ে সৃষ্টি করতে পারলে ঘুম আসতে বাধ্য। ৪. ঘুমানোর আগে কিছু ধরাবাঁধা কাজ রাখুন প্রত্যেকদিন ঘুমানোর আগে কিছু কাজ ঠিক করুন। সেটা হতে পারে পরদিনের জন্য গোছগাছ করা, হতে পারে হালকা গান শোনা অথবা যেকোনো হালকা কাজ। এই কাজগুলো যখন করবেন তখন আপনার মস্তিষ্ক তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে কাজগুলো করার কিছুক্ষণ পরেই আপনার ঘুম আসবে। ৫. বিছানায় যান শুধুমাত্র ঘুমের সময় অনেকেরই বিকেলে একটু শোবার অভ্যাস থাকে অথবা সন্ধ্যায় শুয়ে শুয়ে বই, ম্যাগাজিন এবং পত্রিকা ইত্যাদি পড়ার অভ্যাস থাকে। এগুলো পরিত্যাগ করুন। সামান্যতম বিশ্রামেও আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ৬. ক্যাফেইনকে ‘না’ বলুন আপনার যদি খুব চা-কফি বা কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস থাকে, তাহলে আপনার জন্য দুঃসংবাদ। এগুলোর সাথে আপনাকে আড়ি দিতে হবে। কারণ এসবে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে যা আপনাকে ঘুম থেকে বিরত রাখে। অন্তত আপনি যে সময়টি ঘুমের জন্য নির্ধারণ করেছেন, তার ৪-৫ ঘণ্টা আগপর্যন্ত এ জাতীয় কোনো পানীয় পান করবেন না। ৭. রুমে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসতে দিন দিনের আলো-বাতাস শরীরের চামড়ায় বিশেষ প্রভাব ফেলে। লক্ষ্য করে দেখবেন, যদি আপনি খুব ভোরে উঠে বাহিরে খোলা জায়গায় হেঁটে আসেন, তাহলে আপনার সারাটা দিন শরীর এবং মন বেশ চাঙ্গা থাকে। তাই রুমে খুব ভালো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রাখুন। ৮. ব্যায়াম করুন শরীর ফিট রাখতে ব্যায়ামের জুড়ি নেই। কিন্তু আপনি জানেন কি এই ব্যায়াম আপনাকে ঘুমের ব্যাপারেও বিশেষ সহায়তা করে? প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আধ ঘণ্টা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেখবেন ম্যাজিকের মতো চোখে ঘুম আসতে শুরু করেছে! ৯. রাতে হালকা খাবার খান রাতে কখনোই একেবারে পেট ভরে খাওয়া উচিত নয়। বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন পেটের এক তৃতীয়াংশ রাতের জন্য যথেষ্ট। খুব বেশি খিদে পেলে একটা ফল এবং শোবার আগে এক গ্লাস গরম দুধ আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে। ১০. যেকোনো রকম যন্ত্র থেকে দূরে থাকুন রাতে যখন ঘুমাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে থেকেই সঅব ধরণের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। মোবাইলের স্ক্রিন, কম্পিউটারের স্ক্রিন অথবা টিভি স্ক্রিনের আলো আপনার চোখে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে যার কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।