2 Answers
হযরত আলী (রাঃ) এর রওজা শরীফের অস্তিত্ব নেই।
প্রমাণঃ
আলী (রাঃ) এর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হাসান (রাঃ) তাঁর সালাতে জানাযা আদায় করেন ৷ এরপর কুফার রাজপ্রাসাদে তাঁকে দাফন করা হয় ৷ কেননা আশংকা ছিল, বাইরে দাফন
করা হলে খারিজীরা কবর খুড়ে তাঁর লাশ নিয়ে যেতো ৷ আলী (রাঃ) এর লাশ দাফন সংক্রান্ত এটাই প্রসিদ্ধ কথা ৷
আলী (রাঃ) এর ভক্ত অধিকাংশ রাফিযীদের বিশ্বাস যে, নাজাফের মাশহাদ নামক স্থানে আলী (রাঃ) এর কবর অবস্থিত ৷ কিন্তু তাদের এ বিশ্বাসের কোন প্রমাণ বা ভিত্তি নেই ৷ বরং বলা হয়ে যাকে যে, রাফিযীরা যেটাকে আলী (রাঃ) কবর মনে করে প্রকৃতপক্ষে সেটা মুগীরা ইবন শুবা (রাঃ) এর কবর ৷ যেমন খতীবে বাগদাদী হাফিজ আবু নুআইমের সুত্রে, আবু বকর তালিহী, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ হাজরামী হাফিজ এর মধ্যমে মাতার থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, শীআ সম্প্রদায় নাজাফে যে কবরটিকে আলী (রাঃ) এর কবর বলে শ্রদ্ধা করে, তারা যদি জানতো যে, প্রকৃতপক্ষে এটা কার কবর তাহলে এর উপর তারা পাথর নিক্ষেপ করতো । আসলে এটা মুগীরা ইবন শুবা (রাঃ) এর কবর ৷
আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন ওমর আল ওয়াকিদী (রঃ) বলেন : আবু বকর ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবু সুবরাতা সুত্রে ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবু ফারওয়া থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আলী বাকিরকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আলী (রাঃ) যখন শহীদ হন, তখন তার বয়স কত হয়েছিলা? তিনি বললেন, তেষট্টি বছর ৷ আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, তাঁকে কোথায় দাফন করা হয়েছে?
তিনি জানালেন তাঁকে রাত্রিবেলা কুফায় দাফন করা হয় ৷ তবে দাফনের স্থানটি গোপন রাখা
হয় ৷
মুহাম্মাদ ইবন ওমর আল ওয়াকিদী (রঃ)
বলেছেন, কুফায় জামে মসজিদের সম্মুখে আলী (রাঃ) কে দাফন করা হয় ৷ কিন্তু, প্রসিদ্ধ মতে রাজপ্রাসাদেই দাফন করা হয় ৷
খতীবে বাগদাদী আবু নুআইম ফযল ইবন দুকাইন থেকে বর্ণনা করেন, হাসান (রাঃ) ও হুসাইন (রাঃ)
আলী (রাঃ) এর লাশ কুফা থেকে স্থানান্তর করে পবিত্র মদীনায় নিয়ে যায় এবং বাকী নামক গোরস্তানে ফাতিমা (রাঃ) এর কবরের পাশে দাফন করে ৷ কোনও কোনও বর্ণনায় এসেছে যে, পবিত্র মদীনায় নেওয়ার জন্যে লাশ উটের পিঠে উঠাবার পর উটঢি পথ হারিয়ে গায়েব হয়ে যায় ৷ তায় গোত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তারা উটের পিঠে মাল আছে মনে করে উটটি আটক করে ৷ কিত্তু তারা দেখলাে উটের পিঠে রক্ষিত সিন্দুকের মধ্যে একজন অজ্ঞাত মানুষের লাশ ৷ তখন তারা লাশসহ সিন্দুক মাটির নিচে পুতে রাখে ৷ ফলে কেউ জানতে পারলো না যে, তার কবর কোথায় ৷ এ ঘটনাও খতীব বাগদাদী বর্ণনা করেছেন ৷ হাফিজ ইবন আসাকির হাসান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ) এর লাশ জা'দাহ্ পরিবারের কোন এক ঘরের একটি কক্ষে দাফন করেছি ৷
আবদুল মালিক ইবন উমাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খালিদ ইবন আবদুল্লাহ যখন তার ছেলে ইয়াযীদের ঘরের ভিত্তি খনন করান তখন খননকারীরা মাটির নিচ থেকে একটি লাশ তুলে আনে ৷ লাশটির মাথার চুল ও দাড়ি ধবধবে সাদা ও তরতাজা ৷ মনে হয় যেন গতকালই দাফন করা হয়েছে ৷ খালিদ লাশটিকে পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেন ৷ কিন্তু শীঘ্রই আল্লাহ তার
মনের পরিবর্তন করে দেন ৷ ফলে তিনি কিবাতের তৈরি কাপড় এনে তাতে জড়িয়ে ও খােশবু লাগিয়ে পুনরায় যে স্থানে দাফন করে রাখেন ৷ বর্ণনাকারীগণ বলেন, ঐ স্থানটি মসজিদের সম্মুখে সবুজ দরজা বরাবর এক মুচির বাড়িতে অবস্থিত ৷ ঐ স্থানে কোন লোক গিয়ে স্থির থাকতে পারে না ৷ অস্থিরতার চাপে ফিরে আসতে হয় ৷ জাফর ইবন মুহাম্মদ সাদিক থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আলী (রাঃ) এর সালাতে জানাযা রাতে পড়া হয় এবং কুফায় দাফন করা হয় ৷ তাঁর কবরের স্থানটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৷ তবে রাজপ্রাসাদের নিকটেই অবস্থিত ৷
ইবন কালবী বলেন, আলী (রাঃ) কে দাফন করার সময় হাসান, হুসাইন, ইবন হানাফিয়াহ, আবদুল্লাহ ইবন জাফর ও আহলে বাইতের সদস্যবর্গ উপস্থিত ছিলেন ৷ তাঁরা কুফায় উচ্চ ভুমিতে তাকে দাফন করেন ৷ তবে কবরের কোন চিহ্ন তাঁরা রাখেন নি ৷ খারিজীসহ অন্যান্য শত্রুর অনিষ্টের আশংকা থেকে রক্ষা করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় ৷
(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, 7/585-86)
উপরিউক্ত উদ্ধৃতিগুলো থেকে স্পষ্টই প্রামাণিত যে,
হযরত আলী (রাঃ) এর করব বা রওজা শরীফ এর চিহ্ন নেই। তবে প্রসিদ্ধ মতে এটা বলা যায়, কুফা শহরে তাঁকে দাফন করা হয়েছিল।