আমার নামাজে মাঝে মঝে বায়ু আসে।যখন বায়ু আসে তখন চেপে ভিতরে পাঠিয়ে দেই।আমার নামাজ হবে?

5453 views

2 Answers

জ্বি, হবে। আলমগীরি কিতাবে লিখিত আছে যে, বাহ্য মোকাম হতে মল, কিড়া, বায়ু প্রভৃতি বের হলে অজু ভঙ্গ হবে।
5453 views

পেশাব-পায়খানা এবং বায়ুর চাপ নিয়ে নামায পড়া মাকরূহ। কেননা এতে নামাযের খুশু-খুযু বিঘ্নিত হয় এবং এতমিনানের সাথে নামায আদায় হয় না। এসব চাপ থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ এতমিনান ও স্থীরতার সাথে নামায আদায় করা কর্তব্য। হাদীস ও আসারে পেশাব-পায়খানা ও বায়ুর চাপ নিয়ে নামায আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যখন নামায দাঁড়িয়ে যায় আর তোমাদের কারো পেশাব-পায়খানার প্রয়োজন দেখা দেয় সে যেন প্রথমে প্রয়োজন সেরে নেয়। - জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪২ ছাওবান রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য হালাল নয় কারো গৃহাভ্যন্তরে অনুমতি ব্যতীত দৃষ্টিপাত করা... এবং কেউ যেন পেশাব-পায়খানার চাপ নিয়ে নামায না পড়ে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৯১ নাফে রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, এক ব্যক্তি পেটে বায়ুর চাপ বোধ করে। তিনি বললেন, বায়ুর চাপ বোধ করা অবস্থায় সে যেন নামায না পড়ে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৮০২২ উপরোক্ত হাদীস ও আসারের উপর ভিত্তি করে ফকীহগণ বলেছেন, পেশাব-পায়খানা এবং বায়ুর চাপ নিয়ে নামায আরম্ভ করা মাকরূহ তাহরীমী। আর স্বাভাবিক অবস্থায় নামায শুরু করার পর নামাযের ভিতরে এমন চাপ সৃষ্টি হলে নামাযের পর্যাপ্ত ওয়াক্ত বাকি থাকা সত্তে¡ও এ অবস্থায় নামায চালিয়ে যাওয়া মাকরূহ। এ ধরনের ক্ষেত্রে নামায ছেড়ে দিয়ে ওযু-ইস্তিঞ্জা সেরে পূর্ণ চাপমুক্ত হয়ে নামায আদায় করা কর্তব্য। হাঁ, নামাযের ওয়াক্ত যদি এত স্বল্প থাকে যে, প্রয়োজন সারতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাবে তাহলে সম্ভব হলে এ অবস্থায়ই নামায পড়ে নিবে। অবশ্য পর্যাপ্ত ওয়াক্ত থাকার পরও কোনো ইমাম বা একাকী নামায আদায়কারী যদি এ অবস্থায় নামায পড়ে নেয় তবে এমনটি করা মাকরূহ হলেও তাদের নামায আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় পড়া জরুরি নয়। তবে ভবিষ্যতে এরূপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। -শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৬৬; রদ্দুল মুহতার ১/৩৪১, ৬৪৪।

5453 views

Related Questions