অামার বয়স ২৫ বছর। অামি মা বাবাকে জেনেশুনেই তাদের অন্তরে অনেক অাঘাত দিয়েছি। অনেক কষ্ট দিয়েছি। তর্কাতর্কি থেকে শুরু করে গালাগাল সহ দিয়েছি। অামি জানতাম এগুলো করলে অাল্লাহ ও রাসূলের (সা:) দয়া পাওয়া যায় না। তারপরও এসব অামি করে ফেলেছি (জেনেও)। এখন যদি অামি মা বাবার বাধ্য সন্তান হয়ে যায় অর্থাৎ যা অাদেশ করবে বিনা বাক্যে যদি তা পালন করি এবং তাদের শ্রদ্ধা করি তাহলে কি অামার পূর্বের গুণাহ মাফ হওয়ার সম্ভাবনা অাছে??

(অামি অাবারও বলছি, গুনাহ হবে জেনেও অামি এসব করেছি)

2969 views

4 Answers

আপনি আপনার বাবা মায়ের থেকে মাফ নিয়ে নিন ৷ তারা যদি মাফ করেন   ৷ আল্লাহ অবশ্যই মাফ করে দিবেন ৷ আর আল্লাহ পাকের কাছেও ক্ষমা চেয়ে তওবা করুন ৷ আর কখোনো করবেন না ৷ অবশ্যই আল্লাহ মাফ করবেন  

2969 views

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿۞ وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗاۖ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنٗا ﴾ [النساء: ٣٦]

“আর তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং কোনো কিছুকে তাঁর শরীক করো না; আর পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো।”[1]


আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:

﴿ ۞قُلۡ تَعَالَوۡاْ أَتۡلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمۡ عَلَيۡكُمۡۖ أَلَّا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗاۖ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنٗاۖ ﴾ [الانعام: ١٥١]

“বলুন, ‘এসো তোমাদের রব তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তোমাদেরকে তা তিলাওয়াত করি, তা হচ্ছে, ‘তোমরা তাঁর সাথে কোনো শরীক করবে না, পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে।”[2]

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:

﴿ ۞وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنًاۚ إِمَّا يَبۡلُغَنَّ عِندَكَ ٱلۡكِبَرَ أَحَدُهُمَآ أَوۡ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفّٖ وَلَا تَنۡهَرۡهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوۡلٗا كَرِيمٗا ٢٣ وَٱخۡفِضۡ لَهُمَا جَنَاحَ ٱلذُّلِّ مِنَ ٱلرَّحۡمَةِ وَقُل رَّبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرٗا ٢٤ ﴾ [الاسراء: ٢٣،  ٢٤]                                                                                                                   

“আর তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ‘ইবাদত না করতে এবং  পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ্’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; আর তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো। আর মমতাবেশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করো এবং বলো, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর, যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।”[3]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:

﴿ وَوَصَّيۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ بِوَٰلِدَيۡهِ حَمَلَتۡهُ أُمُّهُۥ وَهۡنًا عَلَىٰ وَهۡنٖ وَفِصَٰلُهُۥ فِي عَامَيۡنِ أَنِ ٱشۡكُرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيۡكَ إِلَيَّ ٱلۡمَصِيرُ ١٤ ﴾ [لقمان: ١٤]                                                                                                                                                            

“আর আমরা মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। ফিরে আসা তো আমারই কাছে।”[4]

তাছাড়া এ প্রসঙ্গে বহু হাদিসও বর্ণিত আছে; তন্মধ্যে অন্যতম একটি হাদিস, আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إلَى اللَّهِ ؟ قَالَ : «الصَّلاةُ عَلَى وَقْتِهَا » . قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ ؟ قَالَ : « بِرُّ الْوَالِدَيْنِ » , قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ ؟ قَالَ : « الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ » . ( رواه البخاري و مسلم ) .

“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: আল্লাহ তা‘আলার নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়? জবাবে তিনি বললেন: সময় মত সালাত আদায় করা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: পিতা-মাতার সাথে উত্তম ব্যবহার করা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।”[5]

বস্তুত পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার বিষয়টি এমন একটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা সুস্থস্বভাব ও বিশুদ্ধ প্রকৃতি কর্তৃক স্বীকৃত, যার ব্যাপারে আসমানী শরী‘য়ত একাট্টা; আর তা হল নবীদের চরিত্র এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণের স্বভাব।

যেমনিভাবে তা ঈমানের সত্যতা, ব্যক্তির মহত্ব ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালনের উপর উৎকৃষ্ট দলীল ও প্রমাণ।

আর পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার বিষয়টি ইসলামী শরী‘য়তের মহান সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত; এটা হল অনুগ্রহের স্বীকৃতি, মর্যাদা সংরক্ষণ, শরী‘য়তের পরিপূর্ণতার উপর প্রমাণ এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে সকল প্রকার অধিকারকে।

বস্তুবাদী পৃথিবীর মানব রচিত আইনকানুন তার বিপরীত, যা পিতামাতার জন্য কোনো বিশেষ মর্যাদা নির্ধারণ করে নি এবং তাদের জন্য কোনো অধিকার সংরক্ষণ করে নি; বরং তা তাদেরকে অবজ্ঞা করেছে এবং হেয় প্রতিপন্ন করেছে।

আর প্রযুক্তিতে অগ্রগামী পশ্চিমা বিশ্বই হলো এর জ্বলন্ত সাক্ষী; কারণ, ঐ শাসন ব্যবস্থায় মা হলেন এমন এক যন্ত্রের মত, যখন তার কার্যকারিতার সময়কাল শেষ হয়ে যায়, তখন তাকে মাটিতে ছুড়ে ফেলা হয়।

আর তাদের চিন্তা-চেতনা থেকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের অতি সীমিত এক পন্থার উদ্ভব হয়েছে যে, তারা একটি বার্ষিক দিবস চালু করেছে, যার নাম দিয়েছে ‘মা দিবস’। সে দিন ছেলে ও মেয়েরা ভালবাসা ও সদ্ব্যবহারের প্রতীক হিসেবে তাদের মাকে একগুচ্ছ গোলাপ ফুল উপহার হিসেবে প্রদান করে।

2969 views

সমুদ্রের পেনা সমান গুণা করে যদি আল্লাহর কাছে হাত তোলা হয়,,এবং খাস দিলে তওবা করা হয়,, তাহলে আল্লাহ মাফ করবেন,, কিন্তু তার আগে মা বাবার কাছে মাপ চাইতে হবে,,, তারা যদি মাফ করে তাহলে আল্লাহ মাফ করবেন,,, সম্ভবত একটা হাদিস নাকি কুরআনের আয়াত আছে,, যে সন্তান কে মা বাবা যত শাস্তি দিক প্রয়োজনে সম্পত্যি থেকে বহিষ্কার করলে ও সন্তান ওহ শব্দ করতে পারবে না,,,যদি না তারা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে,,,,

2969 views

রাসুল সা: বলেছেন, ৩ ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম। ১। দায়্যুস ২।মা বাবার অবাধ্ব সন্তান ৩।নেশাকারী এই দৃষ্টিপট থেকে আপনি কোথায় আছেন সেটা আপনি নিজেই বিচার করতে পারেন । যদি মা বাবার কাছে মাফ চাইতে পার এবং তাদের কে খুশী করতে পার । আর আল্লাহ র কাছে পানা চাও

2969 views

Related Questions