2 Answers

সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টি করেছেই এভাবে,  

কপালে চুল উঠলে সোন্দার্যে নীতিকতা পড়তো।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যায়,  মানুষের মাথার

চুল উঠার জন্য যেসকল হরমোন ও যে পরিমাণে আছে

কপালে তেমনটা নেই। তাই সেখানে চুল হয় না।

সৃষ্টি কর্তা সেরা জীবকে সেরা করে তুলতেই বিভিন্ন

স্থানে চুল ও বিভিন্ন ভাবে পশম দিয়েছেন। 

3770 views

বিবর্তনবাদ অনুযায়ী ব্যাখ্যাটা এরকম- মানুবদেহ একসময় সম্পূর্ণ লম্বা পশমে আবৃত ছিলো। ধীরে ধীরে তার অপ্রয়োজনীয় অংশের পশমগুলো ছোট হতে থাকে এবং একপর্যায়ে ক্ষুদ্র লোমের আকার ধারণ করে।

এদের মধ্যে যাদের চুলের আকার মোটামুটি বর্তমান মানুষের অনুরূপ ছিলো তাদের অধিক আকর্ষণীয় মনে হতো এবং সঙ্গী হিসেবে তারাই অগ্রাধিকার পেতো। তাদের সন্তানরাও প্রায় একই বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মাতো ফলে তারাও সঙ্গী হিসেবে অগ্রাধিকার পেতো। এভাবে একটা সময় শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি অংশে পশম/চুল আছে এরকম ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং অধিক পশম বিশিষ্টদের বিপুপ্তি ঘটে।


আমাদের দেহে "হেয়ার ফলিকল" নামক কোষগুচ্ছ থেকে চুল গজায়, এই ফলিকলের বিশেষ ধরণের একটি কোষ অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোনের প্রভাবে চুল/পশমে পরিণত হয়। হেয়ার ফলিকল এবং অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোনের প্রভাব যে স্থানে বেশি সেখানেই চুল/পশম অধিক লম্বা হবে।


অ্যানাজিন (চুলের বৃদ্ধি), ক্যালোজিন (চুল সংকোচন), টেলোজিন (চুল পড়া) এই তিন ধাপে চুল/পশম গজায়। মাথার চুল এবং দাড়ির অ্যানাজিন ধাপ ১-৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়, অন্যদিকে গায়ের পশম, গোঁফ, আর্ম-পিট এবং পিউবিস অঞ্চলের চুল, ভ্রু কিংবা চোখের পাঁপড়ির ক্ষেত্রে অ্যানাজিন ধাপ খুবই সংক্ষিপ্ত। ফলে কিছুদিন পার হওয়ার পরই ঐসব অঞ্চলের চুল আর বাড়েনা এবং পর্যায়ক্রমে টেলোজিন ধাপে উপনীত হয়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শীগ্রই হেয়ার ফলিকলের নতুন একটি কোষ উত্তেজিত হয় এবং ত্বক ভেদ করে চুল/পশম রূপে বেরিয়ে আসে।

3770 views

Related Questions