আমি বিয়ে করতে চাই না,আবার কারো সাথে ব্যাভিচারে লিপ্ত হব তাও না।আমি কি বিয়ে না করে থাকতে পারি সারাজীবন,এক্ষেত্রে ইসলাম ধর্ম কি বলে?? এবং বিয়ে না করলে কি গুনাহ হবে??

3762 views

3 Answers

কারো জন্য বিয়ে করা ফরজ। আবার কারো জন্য বিয়ে করা হারাম। কারো একটা বিয়ে করাই জায়েজ নেই। আবার কারো চারটা পর্যন্ত বিয়ে করা জায়েজ আছে। আপনি যদি সর্ব বিষয়ে উপযুক্ত হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য বিয়ে করা ফরজ।

3762 views

ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব টরোন্টো, কানাডা এর একজন সিনিয়র লেকচারার শেখ আহমদ কুট্টি বলেছেন, যদিও ইসলামিক ফিকাহ শাস্ত্র মতে বিবাহ একটি বিশেষ পছন্দনীয় (Highly recommended) কাজ, তদুপরি অবস্থার পরিপ্রেেিত একে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
১. ফরজ বা বাধ্যতামূলক (Obligatory) 
২. মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (Recommended) 
৩. হালাল বা বৈধ (Permitted) 
৪. হারাম বা নিষিদ্ধ (Forbidden) 
বিবাহ তখনই ফরজ বা বাধ্যতামূলক হয় যখন একজন ব্যক্তি (নারী ও পুরুষ) তীব্র যৌন চাহিদা অনুভব করে এবং তার দ্বারা ব্যভিচার ঘটে যাবার আশংকা থাকে। যেহেতু ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা ফরজ এবং বিবাহই একমাত্র এই চাহিদা পূরণের বৈধ পন্থা, সেহেতু ঐ ব্যক্তির জন্য বিবাহ ফরজ। এেক্ষত্রে ফিকাহ শাস্ত্রের মূলনীতিটি হলো, “যদি একটি ফরজ কাজ অন্য একটি কাজ ব্যতীত আদায় সম্ভব না হয় তবে ঐ সহায়ক কাজটিও মূল ফরজের মতোই ফরজ হিসেবে গণ্য হবে।” 
যদি কোন ব্যক্তির যৌন চাহিদা খুব তীব্র না হয় এবং তার দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হবার সম্ভাবনা না থাকে কিন্তু বিবাহ করার সবরকম সামর্থ্য ও সুযোগ তার থাকে এমতাবস্থায় বিবাহ তার জন্য মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ। কারণ এটির দ্বারা সে রাসূল (স.) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতকে অনুসরণ করছে। 
একজন ব্যক্তির বিবাহ করার মতো ন্যূনতম অর্থনৈতিক সামর্থ্য যদি না থাকে (মোহরানা আদায় ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীর জন্য ফরজ) এবং এভাবে সে যদি বিবাহের দায়িত্বসমূহ পালনে অসমর্থ হয় কিন্তু বিবাহের তীব্র প্রয়োজন অনুভব করে, সেেেত্র বিবাহ করা তার জন্য হালাল (Permitted) এই শর্তে যে- 
– সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সৎপন্থায় উপার্জনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং 
– ভাবী স্ত্রীকে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দান করবে। সত্য গোপন করা এেেত্র প্রতারণার সামিল। 
আল্লাহ এরূপ অভাবী ব্যক্তিকে সাহায্য করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের দায়িত্ব হলো ঐ ব্যক্তিকে আত্মনির্ভরশীল হবার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য করা। 
কিন্তু পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে ব্যক্তিটি সৎভাবে উপার্জনের কোন পথই পাচ্ছে না এবং বৈবাহিক দায়িত্ব (অর্থনৈতিক) পালনের কোন উপায়ই তার সম্মুখে খোলা নেই, এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তিকে রোযা ও অন্যান্য সংযম সাধনের (Acts of sublimation) মাধ্যমে নিজেকে দমনের চেষ্টা চালাতে হবে। 
যদি কোন ব্যক্তি মনে করে যে তার দ্বারা বিবাহের আবশ্যক (ফরজ) দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা সম্ভবপর নয় এবং তার ব্যভিচারে লিপ্ত হবার সম্ভাবনাও নেই, তখন ঐ ব্যক্তির জন্য বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ। ইসলাম আমাদের অন্য ব্যক্তির প্রতি অন্যায় (Injustice) এবং অন্য ব্যক্তির অধিকার হরণকে হারাম করেছে। কাজেই স্বামী বা স্ত্রীর একের অন্যের প্রতি ফরজ দায়িত্বের অবহেলা পুরোপুরি হারাম। 
বিবাহ কখন হরাম সে সম্পর্কে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, ফিক্হ আস-সুন্নাহ বই এর লেখক মরহুম শেখ সাইয়্যেদ সাবিক বলেন, “একজন পুরুষের জন্য বিবাহ হারাম তখন যখন তার স্ত্রীর অধিকার রার সামর্থ্য না থাকে। এ সামর্থ্যহীনতা দৈহিক বা অর্থনৈতিক যেটাই হোক না না কেন। কোন পুরুষ যদি দৈহিক মিলনে অম হয় বা স্ত্রীর ভরণ-পোষণের ব্যয় বহনের মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য তার না থাকে তবে তার জন্য বিবাহ বৈধ নয়।” 
এ সম্পর্কে অপর একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আল কুরতুবী (রহ.) বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি বিবাহের খরচ বহনের মতো সামর্থ্যবান না হয়, যদি তার মোহরানা পরিশোধের সামর্থ্য না থাকে বা স্ত্রীর অন্যান্য অর্থনৈতিক অধিকার (Financial right) আদায়ের সামর্থ্য না থাকে তবে তার বিবাহ বৈধ নয়, যতণ না সে তার অবস্থা ভাবী স্ত্রীকে জানায় অথবা সে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা লাভ করে। আর যদি সে দৈহিক দুর্বলতা বা ত্র“টির কারণে দৈহিক মিলনে অসমর্থ হয় তবে তাও ভাবী স্ত্রীকে পরিপূর্ণভাবে জানাতে হবে। এেেত্র লুকোচুরি বা গোপন করার মাধ্যমে স্ত্রীকে প্রতারিত করা স্পষ্ট নিষিদ্ধ। 
একই নিয়ম মহিলাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোন মহিলা যদি স্বামীর হক আদায়ে অসমর্থ হন অথবা তার এমন কোন ত্র“টি থাকে যার ফলে সে দৈহিক মিলনে অম হন তবে এসব গোপন করে বিবাহ করা স্পষ্টতঃ নিষিদ্ধ (হারাম)। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- স্থায়ী মানসিক রোগ (Insanity), কুষ্ঠরোগ (Leprosy), গোদ রোগ (Elephantiasis) অথবা স্ত্রীর অঙ্গের কোন রোগ (Genital or vaginal disease)। 
এমন এক সমস্যা থাকলে তা বিবাহের পূর্বেই পুরুষটিকে জানিয়ে দিতে হবে। ব্যাপারটি অনেকট ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তির ন্যায়। বিক্রেতা বাধ্য থাকবে পণ্যের ত্র“টি সম্পর্কে ক্রেতাকে অবহিত করতে। যদি কোন প নিজের ত্র“টি অপরপরে নিকট গোপন করে তবে এ প (যার নিকট গোপন করা হয়েছে) বিবাহ বাতিলের অধিকার রাখে। যদি স্বামী বিবাহের পর এমন কোন মারাত্মক ত্র“টি স্ত্রীর মধ্যে পান যা তার নিকট গোপন করা হয়েছিল তবে তিনি বিবাহ বাতিল করতে পারবেন এবং মোহরানা ফেরত নিতে পারবেন (যদি তিনি ইচ্ছা করেন)। অনুরূপ কোন স্ত্রী যদি বিবাহের পর স্বামীর এমন কোন ত্র“টি পান যা গোপন রাখা হয়েছিল, তাকে বিবাহের পূর্বে অবহিত করা হয় নি (যা দ্বারা তার ফরজ অধিকার লঙ্ঘিত হয়), তবে তিনি বিবাহ বাতিলের সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন।” 
এেেত্র স্ত্রী তার মোহরানা কতটা পাবেন সে ব্যাপারে ইমাম মালেক (রহ.) দু’টি মত ব্যক্ত করেছেন। যদি দৈহিক মিলন ঘটার পরে (After consummating marriage) স্ত্রী বিবাহ বাতিল করেন তবে তিনি পূর্ণ মোহরানা পাবেন। অন্যথায় (অর্থাৎ বিবাহের পর পরই দৈহিক মিলন ঘটার পূর্বেই বিচ্ছেদ ঘটলে) তিনি অর্ধেক মোহরানা পাবেন। 
আমরা জেনেছি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য বিয়ে বাধ্যতামূলক কি না। এখন আমরা যে বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই তা হলো নারীদের জন্য বিবাহ বাধ্যতামূলক কি না। এ ব্যাপারে ২৬ বছর বয়স্ক একজন মহিলা চিঠি লিখেছিলেন ইসলাম অনলাইনে একথা জানতে চেয়ে যে, তার মা-বাবা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু আশে-পাশে অনেক অসুখী পরিবার দেখে সে ভীত। একদিকে পিতা-মাতার অনুরোধ, অন্যদিকে বিয়ে ভীতি-এমতাবস্থায় তার কী করণীয়। এর উত্তরে বলা হয়েছেÑ 
যদিও সাধারণত বিয়েকে ইসলাম উৎসাহিত করে তথাপি অবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতার উপর ভিত্তি করে এটি কোন কোন ব্যক্তির জন্য ফরজ হয়, কারও জন্য মুস্তাহাব, কারও জন্য শুধুই হালাল এমনকি কারও কারও জন্য হারামও হয়ে থাকে (বিস্তারিত পূর্ব আলোচনায়)। এই নীতি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। কাজেই মেয়েটির উচিত হবে নিজ অবস্থা পর্যালোচনা করে সেরূপে সিদ্ধান্ত নেয়া। 
বর্তমান সময়ের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শেখ আহমদ কুট্টি প্রশ্নকারী মেয়েটির উদ্দেশ্যে বলেন : 
“যেহেতু ইসলাম পিতা-মাতাকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখার নির্দেশ দেয় সেহেতু তাদের সাথে যে কোন ব্যাপারে মত বিনিময়ের সময় তাদের প্রতি বিনয়ী, নম্র ও সহানুভূতিশীল হওয়া আমাদের কর্তব্য। সব পিতা-মাতাই সন্তানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকেন। তাই যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সেটি বাবা-মা এর জন্য কতটা কষ্টদায়ক হবে তা চিন্তা করে সন্তানদের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তবে ইসলাম বিয়ের ব্যাপারে সম্মতি দান করা বা না করার পুরোপুরি অধিকার নারীকে দিয়েছে। এ ব্যাপারে পিতা-মাতার মতামতের চেয়ে পাত্রীর মতামতকে ইসলাম প্রাধান্য দেয়।” 
এর স্বপে কিছু হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে : 
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোন বিধবা মহিলাকে তার সম্মতি ব্যতীত বিবাহ দেয়া যাবে না। কোন কুমারী মহিলাকেও তার অনুমতি ব্যতীত বিবাহ দেয়া চলবে না। (বুখারী) 
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “হযরত খানসা বিনতে খিযাম (বা খিদাম) (রা.) এর একবার বিয়ে হয়েছিল। এরপর তিনি স্বামীহীন হন। এমতাবস্থায় তার পিতা তাকে অন্য এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হযরত খানসা এ বিয়ে পছন্দ করেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ (স.) এর কাছে এসে তাঁকে একথা জানালেন। ঘটনাটি শোনার পর নবী করীম (স.) এ বিয়ে বাতিল করে দিলেন।” (বুখারী) 
শেখ আহমদ কুট্টি আরও বলেন, “পিতা-মাতার অধিকার আছে সন্তানকে উপদেশ দেয়ার। তাঁরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সন্তানদের জন্য মঙ্গলজনক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এজন্য সন্তানদের তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু ব্যাপারটি যখন বিয়ে সম্পর্কিত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ইসলাম সংশ্লিষ্ট নারীটিকে দিয়েছে, তার বাবা-মাকে নয়, সেেেত্র সতর্কতার সাথে চিন্তা-ভাবনা করে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্পূর্ণ অধিকার নারীর আছে। কারণ সারা জীবন ঐ ব্যক্তির সাথে তাকেই থাকতে হবে, বাবা-মাকে নয়। তাছাড়া আশেপাশের অসফল বিবাহ বা অসুখী দম্পতি (Disfunctional marriage) দেখে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল যে, সব বিবাহই অসফল বা সব দম্পতিই অসুখী। বিয়ে সফল হবে কি বিফল হবে তা নির্ভর করে স্বামী এবং স্ত্রী জীবনের ব্যাপারে কোন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করে তার উপর। মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি যে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর এবং আমাদের আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা উচিত। সূরা আল ইসরা এর ৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ”এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সরল …..”। (১৭:৯) 
কাজেই স্বামী এবং স্ত্রী যদি আল্লাহ নির্দেশ মোতাবেক পরিচালিত হয়, ইসলাম প্রদত্ত পরস্পরের হকসমূহ আদায় করে, অন্যকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে এবং নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে তবে আশা করা যায় বিবাহ সফল হবে এবং দম্পতি সুখী হবে।” 

3762 views

আল্লাহ তালা বলেছেন বিয়ে না করে কবরে এসো না সব মানুষেরী বিয়ে করতে হবে বিয়ে না করে কবরে গেলে আপনাকে দুজকে দিবে ।

3762 views

Related Questions