খিজির (আঃ) কি বেঁচে আছেন?
3 Answers
খিজির (আ.) বেঁচে নেই।একমাত্র ইসা (আ.) ব্যাতিত কোন নবী বেঁচে নেই।এটা মানুষের মধ্যে ভুল ধারনা আছে।
قال العلامة القرطبى : تحت قوله تعالى (وعلمناه من لدنا علما) والآية تشهد بنبوته لأن بواطن أفعاله لا تكون إلا بوحي.وأيضا فان الإنسان لا يتعلم ولا يتبع إلا من فوقه ، وليس يجوز أن يكون فوق النبي من ليس نبي. الجامع لأحكام القرآن . 11 : 16
وفى بحر المحيط 6 :147 : والجمهور على انه مات
খিযির (আঃ) বেঁচে নেই। কিছু জাল ও যয়িফ হাদিসের আলোকে অনেকে বলে যে তিনি বেঁচে আছেন। কিন্তু হাদিস-কুরআনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিশিষ্ট ফকিহ ও আলেমদের মতে খিযির (আঃ) বেঁচে নেই।
হাফিজ আবু বকর বায়হাকী আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেন তাঁর সাহাবীগণ তার চতুষ্পার্শ্বে বসে গেলেন ও রোদন করতে লাগলেন ৷ তারা সকলে একত্রিত হলেন ৷ এমন সময় একজন আধাপাকা শ্মশ্রুধারী উজ্জ্বল স্বাহ্যবান এক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করলেন ও সকলকে ডিঙ্গিয়ে তার নিকটবর্তী হলেন এবং কান্নাকাটি করলেন ৷ অতঃপর সাহাবায়ে কিরামের প্রতি তাকালেন ও বললেন : “প্রতিটি মুসীবত হতেই আল্লাহ তাআলার কাছে সান্ত্বনা রয়েছে ৷ প্রতিটি ক্ষতিরই ক্ষতিপুরণ রয়েছে এবং প্রতিটি নশ্বর বন্তুর স্থলবর্তী রয়েছে ৷ সুতরাং আল্লাহর প্রতি সকলে প্রত্যাবর্তন করুন ৷ তারই দিকে মনােযােগী হোন! তিনি আপনাদেরকে মুসীবতের মাধ্যমে পরীক্ষা করছেন ৷ তাই আপনারা ধৈর্যধারণ করুন! ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই যার ক্ষতি পুরণ হবার নয় ৷ এ কথা বলে তিনি চলে গেলেন ৷” সাহাবীগণের একজন অন্য জনকে বলতে লাগলেন, তোমরা কি এই ব্যক্তিকে চেন? আবু বকর (রা) ও আলী (রা) বললেন : “হ্যা , রাসুলুল্লাহ (স)-এর জ্ঞাতি ভাই খিযির (আ) ৷”
উপরোক্ত হাদীসটি আবু বকর ইবন আবুদ দুনিয়াও বর্ণনা করেছেন ৷ তবে হাদীসের মুল পাঠে বায়হাকীর বর্ণনার সাথে কিছুটা গরমিল রয়েছে ৷ বায়হাকী (র) বলেন, “এ হাদীসের সুত্রে উল্লেখিত ইবাদ ইবন আবদুস সামাদ ছিলেন দুর্বল ৷ কোন কোন সময় তাকে হাদীস শাস্ত্রে মুনকার বা প্রত্যাখ্যাত বলে গণ্য করা হয় ৷
আনাস (রা) হতে অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যার অধিকাংশই জাল বলে ইবন হিব্বান ও উকায়লী (র) মনে করেন ৷ ইমাম বুখারী (র) এটাকে মুনকারুল হাদীস বলেছেন ৷ আবু হাতিম (র) বলেন, এটা অত্যন্ত দুর্বল ও মুনকার হাদীস ৷ ইবন আদী (র) বলেন, আলী (রা)-এর ফযীলত সম্বন্ধে বর্ণিত হাদীসগুলোর অধিকাংশই দুর্বল ও শিয়াদের অতিরঞ্জিত বর্ণনা ৷
ইমাম শাফিঈ (র) তাঁর মুসনাদে আলী ইবন হুসাইন (র) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) যখন ইনতিকাল করেন ও শোকবাণী আসতে থাকে , তখন উপস্থিত সাহাবীগণ এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেন, তিনি বলেছেন, প্রতিটি মুসীবত থেকেই আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে সান্তুনা রয়েছে, প্রতিটি নশ্বর বন্তুর স্থলবর্তী রয়েছে, প্রতিটি ক্ষতিরই ক্ষতিপুরণ রয়েছে ৷ সুতরাং আল্লাহ্ তাআলার প্রতি ভরসা করুন ও তার কাছেই প্রত্যাশা করুন ৷ আর প্রকৃত মুসীবতগ্রস্থ ব্যক্তি তিনিই, যিনি সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন ৷ আলী ইবন হুসাইন (র) বলেন, তােমরা কি জান, তিনি কে ছিলেন? তিনি ছিলেন খিযির (আ) ৷উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী কাসিম আমরী প্রত্যাখ্যাত ৷ ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (র), ইয়াহয়া ইবন মাঈন (র) তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন ৷ আহমদ (র) আরো বলেন যে, সে হাদীস জাল করতো ৷ অধিকত্তু হাদীসটি মুরসাল হওয়ার কারণে এরুপ গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপারে তা গ্রহণযোগ্য নয় ৷ আল্লাহ্ তাআলাই সম্যক জ্ঞাত ৷
উপরোক্ত হাদীসটি অন্য একটি দুর্বল সুত্রে আলী (রা) থেকে বর্ণিত , কিন্তু তা শুদ্ধ নয় ৷
আবদুল্লাহ ইবন ওহাব (র) মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির (র) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন উমর ইবন খাত্তাব (রা) একটি জানাযার নামায আদায় করছিলেন, এমন সময় তিনি একজন অদৃশ্য ব্যক্তির আওয়াজ শুনলেন, “আপনার প্রতি আল্লাহ্ তাআলা রহমত করুন ৷ আমাদেরকে ছেড়ে জানাযা পড়বেন না ৷” উমর (রা) তার জন্য অপেক্ষা করলেন ৷ তিনি নামাযে যোগদান করলেন এবং মৃত ব্যক্তির জন্য এরুপ দু’আ করলেন, হে আল্লাহ৷ আপনি যদি তাকে শাস্তি দেন তবে অনেক ক্ষেত্রেই সে আপনার অবাধ্যতা করেছে ৷ আর আপনি যদি তাকে মাফ করে দেন তাহলে সে তো আপনার রহমতেরই মুখাপেক্ষী ৷” মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর ঐ ব্যক্তি বললেনঃ হে কবরের বাসিন্দা ! তোমার জন্য সুসংবাদ, যদি না তুমি তত্ত্বাবধানকারী, কর উত্তলকারী, খাজাঞ্চী, কােষাধ্যক্ষ, কিংবা কোতয়াল হয়ে থাক ৷ তখন উমর (রা) বললেন, চল, আমরা তাকে তার দুআ ও তার উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি কে? বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন ৷ তারা লক্ষ্য করে দেখলেন যে, তার পায়ের চিহ্ন এক হাত দীর্ঘ ৷ তখন উমর (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ ! ইনিই খিযির (আ), তার সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে অবহিত করেছিলেন ৷
উপরোক্ত বর্ণনাটিতে একজন রাবী অজ্ঞাত পরিচয় ৷ এ বর্ণনার সুত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়নি ৷ এরুপ বর্ণনা শুদ্ধ বলে বিবেচিত হয় না ৷
হাফিজ ইবন আসাকির (র) আলী (রা ) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন একদিন রাতের বেলায় আমি তাওয়াফ করছিলাম ৷ হঠাৎ এক লোককে আমি কাবা শরীফের গিলাফ ধরে থাকতে দেখলাম ৷ তখন তিনি বলেছিলেন, হে মহান সত্তা! যার বাণী শুনতে কেউ বিরক্ত বোধ করে না, যাঞা যাকে বিরক্ত করে না পুনঃ পুনঃ কাকুতি মিনতিকারীর মিনতিতে এবং যাঞাকারীদের প্রার্থনায় যিনি বিরক্ত হন না, আপনার ক্ষমার শীতলতা দিয়ে আমার প্রাণ জুড়ান। এবং আপনার রহমতের স্বাদ আস্বাদন করান ৷ আলী (রা) বলেন, আমি বললাম, আপনি যা বলছিলেন তা আমার জন্য পুনরায় বলুন ৷ তিনি বললেন, আমি যা বলেছি তুমি কি তা শুনে ফেলেছ? বললাম, শুনেছি ৷ তখন তিনি আবার বললেন, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে খিযিরের প্রাণ ন্যস্ত ৷ আলী (রা) বলেন, “ইনিই হচ্ছেন খিযির (আ) ৷” যে ব্যক্তি দুআটি প্রতি ফরয সালাতের পর পড়বে তার গুনাহরাশি আল্লাহ্ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন, যদিও তার গুনাহরাশি সাগরের ফেনা, গাছের পাতা ও তারকার সংখ্যার মত হয় তবুও আল্লাহ্ তাআলা তা মাফ করে দেবেন ৷
এ হাদীসটি যঈফ ৷ কেননা, এর একজন বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবন মুহরিযের- বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয় ৷ আবার অন্য একজন বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবন আসাম, আলী (রা)-এর সাক্ষাৎ পাননি ৷ এ ধরনের বর্ণনা শুদ্ধ বলে বিবেচিত হয় না ৷ আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত ৷
আবু ইসমাইল তিরমিযী (র)ও এ হাদীসটি বর্ণনা করেন ৷ তবে শেষাংশর বক্তব্যটুকু এরুপ : “এমন সত্তার শপথ যার হাতে খিযিরের জান ও প্রাণ ন্যস্ত, যদি তোমার পাপরাশির পরিমাণ আকাশের তারকা, বৃষ্টি, ভুমণ্ডলের কংকররাশি ও ধুলিকণার সংখ্যার সমানও হয় তবুও আল্লাহ তাআলা চোখের পলকের চাইতে দ্রত তা মাফ করে দেবেন ৷
এই হাদীসটিও মুনকাতে’ বা সুত্র বিচ্ছিন্ন ৷ এই হাদীসের সুত্রে অজ্ঞাত পরিচয় লোকও রয়েছে ৷
ইবনুল জাওযী (র) ও আবু বকর ইবন আবীদ দুনিয়া (র)- এর মাধ্যমে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ পরে তিনি মন্তব্য করেন, এ হাদীসের সুত্র অপরিচিত ও এ হাদীসে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি ৷ আর এটাতে ব্যক্তিটি যে খিযির (আ) ছিলেন, তাও প্রমাণিত হয় না ৷
ইবনে আসাকির (র) ইবন আব্বাস (রা)-এর বরাতে মারফু রুপে বর্ণনা করেন যে, খিযির (আ) ও ইলিয়াস (আ) প্রতি বছর হজ্জের মৌসুমে পরস্পর সাক্ষাত করতেন ৷ একে অন্যের মাথা মুণ্ডন করতেন ও নিম্ন বর্ণিত বাক্যগুলো উচ্চারণ করে একে অন্যের থেকে বিদায় গ্রহণ করতেন,
"আল্লাহর শুরু করছি মাশাআল্লাহ৷ আল্লাহ ছাড়া কেউ কল্যাণ দেয়না মাশাআল্লাহ ৷ আল্লাহ ছাড়া কেউ অকল্যাণ দুর করে না-মাশাআল্লাহ ৷ প্রতিটি নিয়ামত তার থেকেই এসে থাকে মাশাআল্লাহ ৷ আল্লাহ্ তাআলা প্রদত্ত ছাড়া অন্য কারো নিজস্ব শক্তি, সামর্থ্য নেই ৷
বর্ণনাকারী বলেন, ইবন আব্বাস (রা) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল উক্ত দুআটি তিন তিন বার পড়বে তাকে আল্লাহ তাআলা ডুবে মরা থেকে, পুড়ে মরা থেকে ও চুরির ক্ষতি থেকে নিরাপদ রাখবেন ৷”
বর্ণনাকারী বলেন, আমার যতদুর মনে হয়, ইবন আব্বাস (রা) আরো বলেছেন, শয়তান, অত্যাচারী বাদশাহ, সাপ ও বিচ্ছুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখবেন ৷ ’
ইমাম দারা কুতনী (র) বলেন, এ হাদীসটি গরীব ৷ হাদীসটি বর্ণনায় একমাত্র আল হাসান ইবন যরাইক নামক একজন অপরিচিত রাবী রয়েছেন ৷
ইবন আসাকির (র) মিথ্যা হাদীস রচয়িতা আলী ইবন হাসান জাহাদমী-এর মাধ্যমে আলী ইবন আবু তালিব (রা) থেকে একটি মারফু হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তার প্রারম্ভিকা হচ্ছে তিনি বলেন, প্রতি বছর আরফার দিন আরাফাতের ময়দানে জিবরাঈল , মিকাঈল , ইস্রাফিল ও খিযির (আ) একত্রিত হন ৷ এটি একটি সুদীর্ঘ জাল হাদীস।
ইবন আসাকির (র) হিশাম ইবন খালিদ সুত্রে অন্য একটি হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তাতে বলা হয়েছে, ইলিয়াস ও খিযির (আ) দু’জনই বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রতি বছর রমযানের সিয়াম পালন করেন ও বায়তুল্লাহ্য় হজ্জ করেন এবং যমযম কুয়া থেকে একবার পানি পান করেন যা সারা বছরের জন্যে যথেষ্ট হিসেবে গণ্য ৷
ইবন আসাকির (র) আরো বর্ণনা করেন, ওলীদ ইবন আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান যিনি দামেশকের জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। একবার সে মসজিদে রাতে ইবাদত করার অভিপ্রায় প্রকাশ করেন, তিনি মসজিদ কর্তৃপক্ষকে মসজিদটি খালি রাখার নির্দেশ দেন ৷ তারা তা করলেন, যখন রাত শুরু হল তিনি বাবুস আসসাআত’ নামক দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন ও এক ব্যক্তিকে বাবুল খাদরা ও তার মধ্যবর্তী স্থানে সালাতরত দেখতে পান ৷ খলীফা মসজিদ কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি কি তােমাদেরকে মসজিদ খালি করে দিতে বলিনি? তারা বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন ! ইনি খিযির (আ), প্রতিরাতে তিনি এখানে এসে সালাত আদায় করে থাকেন ৷
ইবন আসাকির (র) রাবাহ ইবন উবায়দ৷ (র) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, একদিন আমি একটি লোককে দেখলাম উমর ইবন আবদুল আযীয (র)-এর হাতে ভর দিয়ে তার আগে আগে চলছে ৷ তখন আমি মনে মনে বললাম, এ লোকটি পাদুকাবিহীন ৷ অথচ উমরের কত অম্ভরঙ্গ! বর্ণনাকারী বলেন, উমর ইবন আবদুল আযীয (র) সালাত শেষে ফিরে আসলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এই মাত্র যে লোকটি আপনার হাতে ভর দিয়ে চলছিলেন তিনি কে? তিনি বললেন, তুমি কি তাকে দেখেছ হে রাবাহ?’ আমি বললাম, জী হ্যা’ ৷ তিনি বললেন, “তোমাকে তো আমি একজন পুণ্যবান লোক বলেই জানি ৷ তিনি হচ্ছেন আমার ভাই খিযির (আ) ৷ তিনি আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, আমি অচিরেই শাসনকর্তা হব এবং ন্যায় বিচার করব ৷”
শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (র) এ হাদীসের সুত্রে উল্লেখিত রামলীকে উলামায়ে কিরামের নিকট সমালোচিত ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন ৷ এ বর্ণনার অন্যান্য রাবী সম্পর্কেও বিরুপ সমালোচনা রয়েছে ৷
ইবন আসাকির (র) অন্যান্য সুত্রেও উমর ইবন আবদুল আযীয (র) ও খিযির (আ)-এর মিলিত হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন ৷ এ ধরনের সকল বর্ণনাকেই তিনি অনির্ভরযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন ৷
ইবন আসাকির (র) উমর ইবন আবদুল আযীয (র), ইবরাহীম আত-তায়মী, সুফইয়ান ইবন উয়াইনা (র) এবং আরো অনেকের সাথে খিযির (আ) মিলিত হয়েছিলেন বলে বর্ণনা করেছেন ৷
যারা বিশ্বাস করেন যে, খিযির (আ) আজও বেঁচে আছেন ৷ এসব রিওয়ায়তই তাদের এরুপ বিশ্বাসের ভিত্তি ৷ এ প্রসঙ্গে মারফু বলে কথিত যে সব বর্ণনা রয়েছে সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল ৷ এ ধরনের হাদীস বা বর্ণনা দ্বারা ধর্ম ও ঘটনার ব্যাপারে দলীল পেশ করা যায় না ৷ বড়জাের গুলোকে কোন সাহাবীর উক্তি বলা যেতে পারে। আর সাহাবীকে তো মাসুম বলা যায় না (সাহাবীগণ মাসুম না হলেও তাঁদের দোষ চর্চা বা নিন্দাবাদ জায়েয় নয়)
আবদুর রাজ্জাক (র) আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) একদিন দাজ্জাল সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, দাজ্জাল আবির্ভূত হবে, কিস্তু মদীনার রাস্তায় প্রবেশ করা তার জন্যে নিষিদ্ধ ৷ রাস্তার মাথায় আসলে মদীনায় একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তার দিকে অগ্রসর হয়ে বলবেন আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি দাজ্জাল যার সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে বলে গিয়েছেন ৷ দাজ্জাল বলবে তোমরা কি বল? যদি আমি এ লোকটিকে হত্যা কবি ও পরে জীবিত করি, তোমরা কি আমার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে? তারা বলবে, না ৷ দাজ্জাল লোকটিকে হত্যা করবে, পুনরায় জীবিত করবে ৷ যখন ঐ ব্যক্তি জীবিত হবেন, তখন তিনি বলবেন, আল্লাহ তাআলার শপথ ! তোমার সম্বন্ধে এখন আমার অন্তর্দৃষ্টি র্তীক্ষ্ণতর হল ৷ বর্ণনাকারী বলেন, দাজ্জাল দ্বিতীয়বার তাকে হত্যা করতে উদ্যত হবে, কিন্তু যে তা করতে পারবে না ৷ বর্ণনাকারী মামার (র) বলেন, আমার কাছে এরুপ বর্ণনাও পৌঁছেছে যে, ঐ মুমিন বান্দার গলা ভাষায় পরিণত করা হবে ৷
উপরোক্ত হাদীসটি বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে রয়েছে ৷ কোন কোন হাদীসের মুল পাঠ নিম্নরুপ রয়েছে ৷ "দাজ্জাল একজন ভরা যৌবনের অধিকারী যুবককে নিয়ে আসবে এবং তাকে হত্যা করবে ৷ হাদীছে উল্লেখিত মুল পাঠ মুখ থেকে বর্ণনাকারী শুনেছেন বলে বোঝা যায় না বরং এটা বহুল প্রচলিত বিবরণও হতে পারে ৷ যা বহু সংখ্যক লোক এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায় শুনেছেন ৷
শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (র) তার কিতাবে এ সম্পর্কে মারকু রুপে বর্ণিত হাদীসগুলােকে জাল বলে আখ্যায়িত করেছেন ৷ আর সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন থেকে যে সব বর্ণনা এসেছে এগুলোর সুত্রসমুহ দুর্বল এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয়বিহীন বলে তিনি আখ্যায়িত করেছেন ৷ তাঁর এ সমালোচনা চমৎকার।
খিযির (আ) ইনতিকাল করেছেন বলে যারা অভিমত পেশ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, ইমাম বুখারী (র), ইবরাহীম আল হারবী (র), আবুল হুসায়ন ইবনুল মুনাদী (র ), ইবনুল জাওযী (র) ৷ ইবনুল জাওযী (র) এ ব্যাপারে অধিকতর ভুমিকা নিয়েছেন ৷ এ সম্পর্কে তিনি একটি কিতাব লিখেছেন ৷ এতে বিভিন্ন প্রকারের দলীল রয়েছে ৷ সে দলীলসমুহের একটি হল আল্লাহর বাণীঃ
"আমি তোমার পুর্বেও কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি।" (সুরা আন্বিয়াঃ ৩৪)
সুতরাং খিযির (আ) মানুষ হয়ে থাকলে তিনিও অবশ্যই এই সাধারণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হবেন ৷ আর বিশুদ্ধ দলীল ব্যতীত তাকে ব্যতিক্রম বলে গণ্য করা যাবে না ৷ সাধারণ নিয়ম হচ্ছে ব্যতিক্রম না থাকা যতক্ষণ না নবী কারীম (সা) থেকে তাঁর সাপেক্ষে কোন দলীল পাওয়া যায় ৷ খিযির (আ)-এর ক্ষেত্রে এরুপ কোন ব্যতিক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায় না ৷
দ্বিতীয় দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার বাণীঃ
"স্মরণ কর যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, তােমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি তারপর তোমাদের কাছে যা রয়েছে তার সমর্থক রুপে যখন একজন রাসুল আসবে, তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে ৷’ তিনি বললেন, তােমরা কি স্বীকার করলে? এবং এ সম্পর্কে আমার অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করলে? তারা বলল, আমরা স্বীকার করলাম ৷ তিনি বললেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।"(সুরা আল ইমরানঃ ৮১)
ইবন আব্বাস (রা) এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহ্ তাআলা তাঁর প্রেরিত প্রত্যেক নবী থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, যদি মুহাম্মাদ (সা) কে তাঁর আমলে পাঠানো হয় এবং তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে তিনি মুহাম্মাদ (সা)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন ও তাঁকে সর্বোত্তভাবে সাহায্য সহায়তা করবেন ৷
আল্লাহ্ তাআলা প্রত্যেক নবীকে হুকুম দিয়েছিলেন তিনি যেন তার উম্মত থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নেন যে, যদি তাদের জীবিত অবস্থায় তাদের কাছে মুহাম্মাদ (সা)-কে প্রেরণ করা হয় তাহলে তাঁরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে ও তাঁকে সর্বতােভাবে সাহায্য করবে ৷ সুতরাং খিযির (আ) যদি নবী কিংবা ওলী হয়ে থাকেন তাহলে তার ক্ষেত্রেও এই অঙ্গীকার প্রযোজ্য ৷ তিনি যদি রাসুলুল্লাহ (সা) এর যুগে জীবিত থাকতেন তাহলে তার জীবনের অধিকাংশ সময়েই তিনি রাসুলুল্লাহ (সা) এর খিদমতে হাজির থাকতেন, রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতেন এবং রাসুল (স)-কে তিনি সাহায্য করতেন ৷ যাতে কোন শত্রু রাসুলুল্লাহ (স)-এর ক্ষতি করতে না পারে ৷ আর তিনি যদি ওলী হয়ে থাকেন,তাহলে আবু বকর সিদ্দিক (রা) ছিলেন তার থেকে বেশি মর্যাদাবান ৷ আর যদি নবী হয়ে থাকেন তাহলে মুসা (আ) )ছিলেন তার থেকে বেশি মর্যাদাবান।
ইমাম আহমদ (র) তার মুসনাদে জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে পবিত্র সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ, যদি মুসা(আ) আমার যমানায় বেঁচে থাকতেন তাহলে আমার অনুসরণ ব্যতীত তার কোন উপায় থাকত না ৷ এ ব্যাপারটি সন্দেহাতীতডাবে সত্য এবং ধর্মের একটি মৌলিক বিষয় যা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট এবং এর জন্য কোন দলীল-প্রমাণের প্রয়োজন হয় না ৷
উপরোক্ত আয়াতটিও তার সমর্থন করে ৷ যদি নবীগণ রাসুলুল্লাহ (সা)-এর যমানায় জীবিত থাকতেন, তাহলে তারা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর অনুসারী হতেন এবং তার নিষেধের আওতাধীন থাকতেন ৷ যেমন রাসুলুল্লাহ্ (সা) মিরাজের রাতে যখন সকল নবীর সাথে মিলিত হলেন, তাঁকে তাঁদের সকলের উপরে মর্যাদা দান করা হয়, আর যখন তাঁরা তাঁর সাথে বায়তুল মুকাদ্দাসে অবতরণ করেন ও সালাতের ওয়াক্ত হয় আল্লাহ্ তাআলার আদেশে আদিষ্ট হয়ে জিবরাঈল (আ) রাসুলুল্লাহ (সা)-কে তাঁদের সকলের ইমামতি করতে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) তাঁদের অবস্থান স্থল কর্তৃত্বের এলাকায় তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করেন ৷ এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা) শ্রেষ্ঠ ইমাম ও মহাসম্মানিত আখেরী রাসুল ৷ যখন জানা গেল আর প্রত্যেক মুমিন বান্দার নিকটই তা সুবিদিত যে, যদি খিযির (আ) জীবিত থাকতেন তাহলে তিনি মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মত ও তাঁর শরীয়তের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হতেন ৷ এছাড়া তার গতন্তর থাকত না ৷ ধরুন, ঈসা (আ)-এর কথা ৷ তিনি যখন শেষ যমানায় অবতরণ করবেন, তখন তিনি মহানবীর পবিত্র শরীয়ত মুতাবিক ফয়সালা করবেন ৷ তিনি এই শরীয়তের বহির্ভুত কোন কাজ করবেন না এবং এর বিরোধিতাও করবেন না ৷ অথচ তিনি পাঁচজন শ্রেষ্ঠ পয়গাম্বরের অন্যতম এবং তিনি বনী ইসরাঈলের শেষ নবী ৷ এটা জানা কথা যে, কোন সহীহ কিংবা সন্তোষজনক হাসান’ পর্যায়ের বর্ণনা পাওয়া যায় না, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, খিযির (আ) কোন একদিনও রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে মিলিত হয়েছিলেন এবং তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে কোন একটি যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেননি ৷ বদরের যুদ্ধের কথা ধরুন, সত্যবাদী ও সত্যায়িত রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন আল্লাহ্ তাআলার কাছে দুআ করছিলেন, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলেন এবং কাফিরদের মুকাবিলায় বিজয় প্রার্থনা করছিলেন, তখন তিনি বলছিলেন, এই ছোট দলটি যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীতে আর তোমার ইরাদত হবে না ৷ ঐ ছোট দলটিতে ছিলেন সেদিন মুসলমানদের ও ফেরেশতাদের নেতৃবৃন্দ, এমনকি জিবরাঈল (আ)ও তথায় উপস্থিত ছিলেন ৷
যেমন হাসসান ইবন ছাবিত (রা) তার কাসীদার একটি লাইনে- যাকে আরবের শ্রেষ্ঠ গৌরবগাঁথা বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে বলেন :
"বদরের সাবীর পাহাড়ে আমাদের পতাকাতলে জিবরাঈল (আ) ও মুহাম্মাদ (স) কাফিরদের প্রতিহত করছিলেন ৷ যদি খিযির (আ) জীবিত থাকতেন তাহলে তার এই পতাকাতলে থেকে যুদ্ধ করাটাই হত তার মহান মর্যাদা ও সর্বশ্রেষ্ঠ যুদ্ধাভিযান ৷
কাজী আবু ইয়ালা মুহাম্মদ ইবনু ছসাইন হাম্বলী (র) বলেন, আমাদের জনৈক আলিমকে খিযির (আ) সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, তিনি কি ইন্তিকাল করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ৷
তিনি আরও বলেন, অনুরুপ বংনাি আবু তাহের ইবনুল গুবারী (র) সুত্রেও আমাদের কাছে পৌঁছেছে ৷ তিনি এভাবে যুক্তি দেখাতেন যে, যদি খিযির (আ) জীবিত থাকতেন তাহলে তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে অবশ্যই আগমন করতেন ৷ এ তথ্যটি ইবনুল জাওযী (র) তাঁর আল-উজালা’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন ৷ কোন ব্যক্তি যদি এরুপ বলেন যে, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কেউ তাকে দেথেনি ৷ তা হলে তার উত্তর হবে যে, এরুপ সম্ভব নয়, এটা সুদূর পরাহত ৷ কেননা, এতে শুধু ধারণার বশবর্তী হয়ে সাধারণ নিয়ম- কানুনকে বাদ দিয়ে বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিচার করতে হয় ৷ অতঃপর একথাটিও বিবেচ্য যে, রহস্যাবৃত হবার চেয়ে এতেই তার মর্যাদা ও মুজিযা বেশি প্রকাশ পেতে৷ ৷ পুনরায় যদি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর পরে তাকে জীবিত ধরা হয় তাহলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর ইনতিকালের পর হাদীসসমুহ ও কুরআনুল করীমের আয়াতসমুহের প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব তার উপর বর্তাতাে ৷ উপরন্তু মিথ্যা হাদীস বিকৃত রিওয়ায়েতের বিরুদ্ধাচরণ, বিভিন্ন বাতিল মতবাদের খণ্ডন, মুসলিম জামাতের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ, জুমআ ও জামায়াতে উপস্থিত হওয়া, তাদের উপকার সাধন করা এবং তাদের প্রতি অপরের ক্ষতিসাধনকে প্রতিহত করা, উলামায়ে কিরামকে সৎপথে পরিচালিত করা ও অত্যাচারী শাসকদের সঠিক পথে চলতে বাধ্য করা এবং ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা ইত্যাদি কর্তব্য পালন, বিভিন্ন শহরে, বলুন-জঙ্গলে তার কথিত আত্মগােপন করে থাকা, এমন লোকদের সাথে বসবাস করা যাদের অধিকাংশের অবস্থা অজানা এবং তাদের তত্ত্বাবধান করা অপেক্ষা বহুগুণে শ্রেয় ৷
এ আলোচনার পর এ বিষয়ে আর সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না ৷ আল্লাহ তাআলা যাকে চান তাকে সৎপথ প্রদর্শন করেন ৷
সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে এবং অন্যান্য কিতাবেও আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, একদিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এশার নামায আদায় করলেন এবং সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, আজকের রাতে তোমরা কি একটা কথা চিন্তা করেছ যে , আজকের দিনে যারা পৃথিবীতে জীবিত রয়েছে, একশ’ বছর পর তাদের কেউই পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকবে না ৷
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) বলেন, একথা শুনে লোকজন ভীত হয়ে পড়লেন ৷ অথচ রাসুলুল্লাহ্ (স) তাঁর যুগের সমাপ্তির কথাই বোঝাচ্ছিলেন ৷ ইমাম আহমদ (র)ও সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র) জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (না) তাঁর ইনতিকালের একমাস কিংবা কিছুদিন পুর্বে বলেছেন : তোমাদের মধ্যে যারা এখন জীবিত, একশ’ বছরের মাথায় তাদের কেউই জীবিত থাকবে না ৷
অন্য এক সুত্রে ইমাম আহমদ (র) জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকালের একমাস পুর্বে বলেন, তারা আমাকে কিয়ামত সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছে, অথচ এ সম্বন্ধে শুধু আল্লাহ্ তাআলাই জানেন ৷ আল্লাহর শপথ, আজকাল পৃথিবীতে যারা রয়েছে তাদের কেউই একশ’ বছর অতিক্রম করবে না ৷ ইমাম মুসলিম (র ) ও তিরমিযী (র) অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ ইবনুল জাওযী (র) বলেন, উপরোক্ত বিশুদ্ধ হাদীসগুলাে খিযির (আ)-এর বেঁচে থাকার দাবিকে নাকচ করে দেয় ৷ অন্যান্য উলামা বলেন, খিযির (আ) যদি রাসূলুল্লাহ (সা) এর যুগ না পেয়ে থাকেন, যেমন দৃঢ় দলীল দ্বারা বোঝা যায় তাতে কোন সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে না আর যদি তিনি তার যুগ পেয়ে থাকেন তাহলে এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তিনি একশ’ বছর পর আর জীবিত ছিলেন না ৷ সুতরাং এখন আর তিনি বেচে নেই; ৷ কেননা তার ক্ষেত্রেও সাধারণ নীতি প্রযোজ্য ৷ যতক্ষণ না, ব্যতিক্রমের অকাট্য দলীল পাওয়া যায় ৷
("আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া" প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠাঃ 730-738 )
"আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া" গ্রন্থের লেখক ইমাম ইবনে কাসীর (র)