হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর দেহের কতটুকু স্পর্শ করা যাবে?
আমি অবিবাহিত। তবে শীঘ্রই দাম্পত্য জীবন শুরু করার আকাংখা পোষণ করি। আমার একটি বিষয় জানার ছিল যে, হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত স্পর্শ করা হারাম--একথা কি ঠিক?? অথচ আমি একটি হাদীসে দেখেছি এক সাহাবীর প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "সহবাস ছাড়া সব কিছু করতে পারো"।
তাহলে হায়েজ অবস্থায় নাভী থেকে হাঁটুর কোথাও স্পর্শ করার নিষেধাজ্ঞা কিসের ভিত্তিতে আসলো? এমনকি লজ্জাস্থানকে আবৃত রেখেও কি নাভী থেকে হাঁটুর মাঝখানে স্পর্শ করা যাবেনা?
কারো জানা থাকলে একটু আলোচনা করবেন অথবা লিংক শেয়ার করবেন প্লিজ।
3 Answers
কথাটি ঠিক। তবে, এভাবে নয় বরং কাপড়ের উপর স্পর্শ করা জায়েজ এবং কাপড় ছাড়া স্পর্শ করা হানাফী, শাফেয়ী, মালিকি (র) সহ জমহুর উলামায়ে কেরামের মতামত যে, জায়েজ নয়। আর, এই নিষেধ
এই কারণে দেওয়া হয়েছে যে, যাতে সে সহবাসে লিপ্ত না হয়। কেননা, হায়েজ অবস্থায় সহবাসে লিপ্ত হওয়া স্ত্রীর জন্য কষ্টকর এবং হারাম। আর, উক্ত স্থান স্পর্শকাতর হওয়ায়, এমনিতেই উত্তেজনা আসে। এ জন্য ফোকাহায়ে কেরাম উক্ত স্থান হতে দূরে থাকার হুকুম বা আদেশ দিয়েছেন। আশাকরি, বুঝতে পেরেছেন।
হায়েজ চলাকালীন সময়ে সহবাস নাজায়েজ। কিন্তু বাকি সব কিছু জায়েজ। যেমন- একসাথে খানাপিনা, ঘুমানো জায়েজ। কিন্তু হায়েজ চলাকালীন সময়ে স্বামী স্ত্রীর হাঁটু থেকে নাভি পযন্ত কোন অঙ্গে কে উপভোগ করা যাবে না।
"হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত স্পর্শ করা হারাম" মাসআলাটা ঠিক আছে। কিতাবাদিতে এমনই বর্ণিত হয়েছে। কিতাবে আসলে সতর্কতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে; কেননা হাটু ও নাভীর ভিতর থেকে সহবাস না করে ফিরে আসা মুশকিল৷ আর তাছাড়া হাদিসে এসেছে: ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻳﺤﻴﻰ ﺑﻦ ﻳﺤﻴﻰ، ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﺧﺎﻟﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ، ﻋﻦ اﻟﺸﻴﺒﺎﻧﻲ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺷﺪاﺩ، ﻋﻦ ﻣﻴﻤﻮﻧﺔ ﻗﺎﻟﺖ: «ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺒﺎﺷﺮ ﻧﺴﺎءﻩ ﻓﻮﻕ اﻹﺯاﺭ ﻭﻫﻦ ﺣﻴﺾ» অর্থাৎ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনিনদের সঙ্গে হায়েজ অবস্থায় 'ইযার' (লুঙ্গি বা সালোয়ার) এর উপরে আদর সোহাগ করতেন। এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়: ১. ইযার সাধারণত নাভী থেকে হাটু পর্যন্তই হয়ে থাকে। তাই নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত উপভোগ করা যাবে না। ২. হাদিসের শব্দের অর্থ হবে 'ইযারের উপর দিয়ে'। অর্থাৎ, ইযার পরাবস্থায়। আর ইযার বা সালোয়ার পরা থাকলে ইযারের উপর দিয়ে নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত জায়গায়ও আদর সোহাগ করা যাবে। কিন্তু হায়েজ চলাকালীন নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত জায়গা উলঙ্গ করে উপভোগ করা যাবে না।