মানুষের মধ্যে কি লক্ষি এবং অলক্ষি মানুষ আছে ইসলাম এ বিষয়ে কি বলে?
3 Answers
লক্ষ্মী (সংস্কৃত: लक्ष्मी) হলেন একজন হিন্দু দেবী। তিনি ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পত্নী। তাঁর অপর নাম মহালক্ষ্মী।
অলক্ষ্মী একজন হিন্দু দেবী। তিনি লক্ষ্মীর জ্যেষ্ঠা ভগিনী এবং দুর্ভাগ্যের দেবী। অলক্ষ্মী কল্কি পুরাণ ও মহাভারত কথিত দৈত্য কলির দ্বিতীয়া স্ত্রী। অলক্ষ্মী বিদায় নামে একটি পুজনীয় অনুষ্ঠানও রয়েছে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের। সুতরাং মুসলিমদের জন্য এ জাতীয় বিশেষ কোনো ধর্মের ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা আদৌ উচিত নয়। উপরন্তু কে ভাগ্যবান আর কে দুর্ভাগা এ বিষয়টিও আগে ভাগে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। তাই এ জাতীয় শব্দ ব্যবহার পরিহার করা চাই।
মানুষের মধ্যে লক্ষী অলক্ষী বলে কিছু নেই। এগুলো বিশ্বাস করা ঠিক নয়। কোনো বস্তুরই অলক্ষণ কুলক্ষনে ইসলাম বিশ্বাস করে না। আমাদের সমাজে বিভিন্ন জিনিসকে বিভিন্ন ধরণের অলক্ষণ কুলক্ষণ মনে করার কুসংস্কার রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে অলক্ষণ কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। নেই সংক্রামক নামের কোনো পদার্থ। এ ধরণের বিশ্বাস সম্পূর্ণ শিরক। এ ধরনের কুলক্ষণের কোনো ভিত্তি নেই। বাস্তবতা নেই। সত্যতা নেই। লোকেমুখে যা শোনা যায় তাই বিশ্বাস করা হয়। এ ধরণের কুলক্ষণ কুসংস্কার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। হযরত আবু তাহির ও হারমালা ইবন ইয়াহইয়া (র), আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, সংক্রামক ব্যাধি, ক্ষুধায় পেট কামড়ানো কীট (বা কল্যাণ মনে করে সফর মাসকে অগ্রপশ্চাৎকরণ) ও পাখির কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তখন এক বেদুঈন আরব বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা)! তা হলে সে উট পালের অবস্থা কি, যা কোন বালূকাময় ভূমিতে থাকে যা নিরোগ, সবল। তারপর সেখানে পাচড়া আক্রান্ত (কোন) উট এসে তাদের মাঝে ঢুকে পড়ে তাদের সবগুলিকে পাঁচড়ায় আক্রান্ত করে দেয়? তিনি বলেন, তা হলে প্রথম (উট)-টিকে কে সংক্রামিত করেছিল? (সহিহ মুসলিম, হাদীস নং- ৫৫) মুসলিম কোন বস্তু বা ঘটনাকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করে না। কোন স্থান, প্রাণী বা ব্যক্তি বিশেষের কারণে কোন অমঙ্গল আসে না। কারণ সমস্ত মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক একমাত্র আল্লাহ্ এবং সব কিছুই আল্লাহ্র পক্ষ হতে। পেঁচা অথবা অন্য কোনো প্রাণী অশুভ নয়। কুকুর ও বিড়াল কান্না করলে, দুপুরবেলায় কাক ডাকলে, কোথাও বের হওয়ার সময় হোঁচট খেলে, রাতে অথবা দিনে পেঁচা ডাকলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে বা কেউ মারা যাবে ইত্যাদি মনে করা শিরক। কোনো দিন, মাস অথবা সময় অশুভ নয়। যদি কেউ বিশ্বাস করে অমুক দিবস, রাত্রি, মাস, সময়, বস্তু, দ্রব্য বা ব্যক্তির মধ্যে শুভ বা অশুভ কোনো প্রভাবের ক্ষমতা রয়েছে অথবা এরুপ প্রভাব কাটানোর ক্ষমতা রয়েছে তবে তা শিরকে আকবর। কারো নিকট কোনো কিছু অশুভ মনে হলে সে আল্লাহ্র উপর ভরসা করবে এবং উত্তম কথা বলবে। রাসুল (সঃ) বলেন, শুভ-অশুভ বলে কিছু নেই। তবে শুভ আলামতই আমার নিকট পছন্দনীয় আর তা হল উত্তম বাক্য। সহিহ বুখারি -৫৭৭