মায়ের খালাতো বোন মানে খালা কে কি বিবাহ করা জায়েজ?

পবিত্র গ্রন্থ কুরআন মাজীদ এ মুহাররামাত এর কথা বলা হয়েছে, যেখানে খালা, ফুপিদের বিবাহ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু আপন খালা যদি না হয়, তখন কি বিবাহ করা জায়েজ? এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেলে উপকার হত।

5523 views

5 Answers

না যাবে না। কেননা ইসলামে ১৪ জন মাহরুম নারির মধ্যে খালাও এক জন। তা যে রকম ই হোক।

5523 views Answered

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত খালাকে বিয়ে করা জায়েজ। নিষেধ শুধু আপন খালাকে বিয়ে করা। কিন্তু মায়ের খালাতো বোনকে বিয়ে করতে কোনো সমস্যা নেই।

5523 views Answered

তোমাদের জন্য (বিবাহ করা) নিষিদ্ধ করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনীকন্যা, দুঙ্মাতা, দুগ্ধভগ্নি, শাশুড়ি ও তোমাদের সংগত হওয়া স্ত্রীদের পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে রয়েছে। তবে যদি তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাকো, তাহলে এ বিবাহে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই। আরো তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তোমাদের নিজ পুত্রবধূ ও দুই ভগ্নিকে একত্রে (বিবাহ) করা। (ইসলাম আসার) আগে যা হয়ে গেছে, তা তো অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা : আন নিসা, আয়াত : ২৩)

তাফসির : আলোচ্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতে যাদের সঙ্গে বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ, এমন নারীদের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। শ্রেষ্ঠতম কোরআন ব্যাখ্যাতা হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেছেন, স্ববংশজাত হওয়ার কারণে সাতজন মহিলাকে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে। আর সাতজনকে হারাম করা হয়েছে বৈবাহিক (বা অন্য) সূত্রে। সুতরাং এখানে সর্বমোট ১৪ জন নারীর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বা অবৈধ। তারা হলো : মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনীকন্যা, দুঙ্মাতা, দুগ্ধভগ্নি, শাশুড়ি, স্ত্রীর পূর্ব স্বামী কর্তৃক গর্ভজাত কন্যা, পুত্রবধূ, দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহ করা, অন্যের বৈধ স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম।

বংশগত সম্পর্কের কারণে যাদের বিবাহ করা হারাম : প্রথমত, আপন জননীদের বিয়ে করা হারাম। এখানে 'জননীদের' শব্দের ব্যাপকতায় দাদি, নানি সবার ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত, স্বীয় ঔরসজাত কন্যাকে বিয়ে করা হারাম। অনুরূপভাবে পৌত্রী, প্রপৌত্রী, দৌহিত্রী, প্রদৌহিত্রী তাদের সবাইকে বিয়ে করা হারাম। তৃতীয়ত, সহোদরা ভগ্নিকে বিয়ে করা হারাম। এমনইভাবে বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী ভগ্নিকেও বিয়ে করা হারাম।

চতুর্থত, পিতার সহোদরা, বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী বোনকে (ফুফুকে) বিয়ে করা হারাম।

পঞ্চমত, আপন জননীর সহোদরা, বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী বোনকে (খালা) বিবাহ করা হারাম।

ষষ্ঠত, ভ্রাতুষ্পুত্রীর সঙ্গেও বিয়ে হারাম, আপন হোক, বৈমাত্রীয় হোক।

সপ্তমত, বোনের কন্যা, অর্থাৎ ভাগ্নিকে বিয়ে করা হারাম। চাই সে বোন সহোদরা, বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী যেকোনো ধরনের বোনই হোক না কেন, তাদের কন্যাদের বিবাহ করা ভাইয়ের জন্য বৈধ নয়।

স্তন্যপানজনিত কারণে যাদের বিবাহ করা যাবে না : পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যে দুঙ্মাতা ও দুগ্ধবোনকে বিবাহ করা হারাম। এর বিশদ বিবরণ এই যে দুধপানের নির্দিষ্ট সময়কালে (দুই বছর) কোনো বালক কিংবা বালিকা কোনো স্ত্রীলোকের দুধ পান করলে সে তাদের মা এবং তার স্বামী তাদের পিতা হয়ে যায়। এ ছাড়া সে স্ত্রীলোকের আপন পুত্র-কন্যা তাদের ভাইবোন হয়ে যায়। অনুরূপ সে স্ত্রীলোকের বোন তাদের খালা হয়ে যায় এবং সে স্ত্রীলোকের ভাশুর ও দেবররা তাদের কাকা হয়ে যায়। তার স্বামীর বোনরা শিশুদের ফুফু হয়ে যায়। তাদের সবার সঙ্গে বৈবাহিক অবৈধতা স্থাপিত হয়। বংশগত সম্পর্কের কারণে পরস্পর যেসব বিবাহ হারাম হয়, দুধপানের সম্পর্কের কারণেও সেসব সম্পর্কীয়দের সঙ্গে বিবাহ অবৈধ হয়ে যায়।

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যাদের বিবাহ করা অবৈধ : প্রথমত, স্ত্রীদের মাতারা (শাশুড়ি) স্বামীর জন্য হারাম। শব্দের ব্যাপকতায় স্ত্রীদের নানি, দাদি সবার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য।

দ্বিতীয়ত, নিজ স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহের পর সহবাস করার শর্তে ওই স্ত্রীর অন্য স্বামীর ঔরসজাত কন্যাকে বিবাহ করা হারাম।

তৃতীয়ত, পুত্রবধূকে বিয়ে করা হারাম। পুত্র শব্দের ব্যাপকতার কারণে পৌত্র ও দৌহিত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা যাবে না।

চতুর্থত, দুই বোনকে বিবাহের মাধ্যমে একত্র করা অবৈধ, সহোদর বোন হোক কিংবা বৈমাত্রেয়ী বা বৈপিত্রেয়ী হোক, বংশের দিক থেকে হোক বা দুধের দিক থেকে হোক- এ বিধান সবার জন্য প্রযোজ্য। তবে এক বোনের চূড়ান্ত তালাক ও ইদ্দত পালনের পর কিংবা মৃত্যু হলে অন্য বোনকে বিবাহ করা জায়েজ।

5523 views Answered

খালাকে বিয়ে করা জায়েজ না এটা ইসলামে নেই ।

5523 views Answered

উত্তর হলো হ্যা, সেটা অবশ্যই জায়েজ। কারন তারা আপন খালা নয়। আপন বোন (সৎ বোন, দুধ বোন সহ) ছাড়া যেমন অন্য যেকোন ধরনের বোনকে বিবাহ করা যায়, ঠিক তেমনিভাবে আপন খালা ছাড়া অন্য যেকোন ধরনের খালাকে বিয়ে করা ১০০℅ জায়েজ। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তবুও যদি আপনার মনে কোন প্রকার সন্দেহ রয়ে যায়, তাহলে আপনি বড় কোন আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করলেই সঠিক উত্তরটি পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।

5523 views Answered

Related Questions

Next steps