আমার বন্ধু ২য় বিবাহ করছে প্রথম স্ত্রীর এক সন্তান আছে। ২নাম্বার স্ত্রী সন্তান নাই নতুন বিবাহ করছে সে এখন ২নাম্বার স্ত্রীকে  নিয়ে সংসার করতে চায় আর ১ম স্ত্রীকে তালাক দিতে চায়। এখন শরিয়াহ মোতাবেক কি ভাবে তালাক দিতে হবে। সে মুখে তালাক দিয়েছে কয়েক বার এখন কি তালাক হয়ছে।। ছেলের এখন কি করতে হবে। সহজ ভাষা বুজিয়ে বলুন
3330 views

2 Answers

হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী জায়েজ কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হল তালাক দেওয়া। কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তালাকে যাওয়া উচিত নয়। কারণ ছাড়াই তালাক দেওয়া বিকৃত মস্তিষ্কের কাজ। নতুন বউয়ের মজা পেয়ে প্রথম বউকে ছেড়ে দেওয়া কোনো বিবেকবানের কাজ নয়। সে কি একথা ভাবছে যে, এতদিন যাকে নিয়ে সংসার করল, যে তার সুখ দুঃখের সাথী হয়ে রইল, সেই মেয়েটা তালাক দেওয়ার পর কোথায় যাবে? কী হবে তার? যাইহোক, শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কথা হল- তালাক শব্দ মুখে উচ্চারণ করলেই তালাক হয়ে যায়। এজন্য তালাক নোটিশ পাঠানো কিংবা লিখিত তালাক দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই সে যেহেতু মুখে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ফেলেছে, তাই তাদের মধ্যে তালাক হয়ে গেছে। এখন তারা পৃথকভাবে বসবাস করতে হবে। তাদের দেখা সাক্ষাত এবং স্বামী স্ত্রী সুলভ আচরণ জায়েজ নেই। স্ত্রীর জন্য ইদ্দত পালন করা আবশ্যক। ইদ্দতের পর স্ত্রী অন্য জায়গায় বিবাহ বসতে পারবে।

3330 views

আপনার বন্ধু যদি ১ম স্ত্রীর লিখিত অনুমোতি ছাড়াই ২য় বিয়ে করে তাহলে প্রচলিত আইনে সেটা সম্পুর্ন অবৈধ বিয়ে ও দন্ডনীয় অপরাধ। এখন যদি ১ম স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় তাহলে যথাযথ কারনও থাকতে হবে, না হলে সেটাও প্রচলিত নারী নির্যাতন ও পারিবারিক আইনে আরেকটি মারাত্মক অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

তালাক দেয়ার বিস্তারিত নিয়মঃ

স্ত্রী‌কে তার ঋতুমুক্তির পর পবিত্র অবস্থার শুরুতে মিলন ছাড়াই স্বামী প্রথমে এক তালাক দিবে। অতঃপর সহবাসহীন অবস্থায় তিন ঋতুর ইদ্দত অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে রাজ‘আত করতে পারে। অর্থাৎ ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরে ফেরত নিতে চাইলে তাকে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফেরত নিতে হবে। ইদ্দতকালে স্ত্রী স্বামীগৃহে অবস্থান করবে। অবস্থানকালে স্বামী স্ত্রীকে খোরপোষ দিবে। এটিই হ’ল তালাকের সর্বোত্তম ইসলামিক পন্থা।

প্রচলিত আইনে তালাক কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরাস‌রি মুখে উচ্চারণের পাশাপাশি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত নোটিশ পাঠাতে হয়। চেয়ারম্যান বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে— ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, সেনানিবাস এলাকায় এই অধ্যাদেশের অধীনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারের নিয়োগ করা ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অথবা সিটি কর্পোরেশনের স্থগিত (suspended) থাকলে অধ্যাদেশের অধীনে চেয়ারম্যানের কাজ সম্পাদনকারী সরকারের নিয়োগ করা ব্যক্তি।

চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো তালাক নোটিশের একটি অনুলিপি তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পাঠাতে হবে। তারপর এই নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষের পুনঃমিলনের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান সালিশি কাউন্সিল তৈরি করে দুই পক্ষের পুনঃমিলনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

যদি দুই পক্ষের মধ্যে কোনোভাবেই পুনঃমিলন সম্ভব না হয় তবে তালাক নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। এই ৯০ দিন পর্যন্ত স্ত্রীর ভরণপোষণ ও অন্যান্য খরচাপাতি বহন করবেন স্বামী।

তালাকের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, যদি তালাক দেওয়ার সময় স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে থাকে তবে তার গর্ভাবস্থার পরিসমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না। আর যদি সন্তান থাকে তাহলে তালাকের পর সন্তান মায়ের কাছে থাকবে। এক্ষেত্রে ছেলে সন্তান ৭ বছর পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তান বয়ঃসদ্ধিকাল পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে৷ তবে তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবা বহন করবে৷ যদি বাবা দায়িত্ব পালন না করে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান সালিসীর মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করতে পারেন অথবা স্ত্রী পারিবারিক আদালতে অভিযোগ করতে পারবে। আইনত তালাকের পর সন্তানরা মায়ের কাছে থাকবে এবং উল্লেখিত নির্দিষ্ট বয়সের সময় সীমা পার হওয়ার পর পিতা তার সন্তানদের নিজের কাছে রাখার দাবি করতে পারবে আর তখন সন্তানের ইচ্ছা অনুযায়ী যে কারো সাথে থাকতে পারবে।

3330 views

Related Questions