1 Answers

‘হিজড়া’ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Hermaphrodite’ যার আভিধানিক অর্থ উভয়লিঙ্গ। শব্দটির আবিধানিক অর্থ নিহিত আছে একটি পৌরানিক কাহিনীতে। ‘Hermaphrodite’ শব্দটি এসেছে হেলেনিষ্ট যুগের গ্রীক পুরান থেকে। দুটো নাম ‘হার্মেস’ (Hermes) এবং ‘আফ্রোদিত’ (Aprodite) গ্রীক উপকথার চরিত্র। এই দম্পত্তির সুদর্শন পুত্র হার্মাফ্রোদিতাসকে দেখে প্রেমে পড়ে বর্ণার উপদেবী। প্রেম কাতর এই উপদেবী দেবতার কাছে প্রার্থনা করে যেন সে চিরতরে হার্মাফ্রোদিতাসের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। তার এই আবেদনের ফলে ঐ উপদেবী এবং হার্মাফ্রোদিতাসের সংমিশ্রনে তৈরি হল অর্ধনারী এবং অর্ধপুরুষ বৈশিষ্ট্যের এক মানব। সে সময়ে একেই ‘হিজড়া’ বলে অভিহিত করা হয়। ‘হিজড়া’র প্রতিশব্দ হিসেবে ইংরেজিতে Eunuch শব্দটি বেশি প্রচলিত। বাংলায় ‘হিজড়া’র প্রতিশব্দগুলোর মধ্যে ক্লীব, নপুংশব্দ, খোজা, বৃহল¬না, চিন্নমষ্ক উল্লেখযোগ্য। ‘হিজড়া’ কারা এ নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা বিজ্ঞানীর কথা থেকে যা জানা যায় তার একটি সাধারণ সংজ্ঞা হলো ক্রোমোজোমের ত্রুটির কারনে জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যাদের জন্মের পর লিঙ্গ নির্ধারনে জটিলতা দেখা যায় তারাই ‘হিজড়া’। ‘হিজড়া’ শিশু জন্মের কারন নিয়ে আমাদের সমাজে উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত অনেক কুসংস্কার ও কল্পকাহিনী প্রচলিত ছিল। বিজ্ঞানীরা উনিশ শতকের শেষ দিকে ক্রোমোজোম সম্পর্কিত গবেষণার অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেন। এই সাফল্যই নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারনের পথকে বৈজ্ঞানিক ভাবে হোয়াইটিং(whitting), মন্টোগোমারি (montogomery), ব্রিজেস (Bridges), স্টিভেন্স (Stevens) প্রমুখ বিজ্ঞানী ক্রোমোজোমের ওপর বিশেষ গবেষণা করে লিঙ্গ নির্ধারণে গুরুত্বর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মানুষের শরীরে মোট তেইশ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া ক্রোমোজোড় লিঙ্গ নির্ধারন করে একে বলে স্ত্রী সেক্স ক্রোমোজোম। দেহ কোষের লিঙ্গ নির্ধারন ক্রোমোজোমের মধ্যে দুইটি X ক্রোমোজোম অপরদিকে পুরুষের একটি X ও অপরটি Y। যদি বাবা ও মা উভয়ের কাছ থেকে একটি করে X অর্থাৎ X X যৌন ক্রোমোজোম পায় তাহলে শিশুটি মেয়ে হবে এবং মায়ের কাছ থেকে X এবং বাবার কাছ থেকে Y অর্থাৎ X Y ক্রোমোজোম পেলে ছেলে হবে। ছেলে বা মেয়ে শিশু জন্মের এই রহস্য আমাদের অনেকেরই জানা কিন্তু আমরা জানি না কেন হিজড়া শিশু জন্মে। অনেক সময় ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিক মিলনের ফলে লিঙ্গ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। লিঙ্গ অনির্ধারিত এই শিশুটিই তথাকথিত ‘হিজড়া’ সন্তান। বিজ্ঞানী “মুরী এলবার” মানবদেহ কোষে সেক্স ক্রোমাটিন (Sex chromatin) আবিষ্কার করেন। তার সম্মানে সেক্স ক্রোমাটিনের নাম রাখা হয় বারবডি (Barrbody)। মহিলাদের শরীরে পজেটি বারবডি এবং পুরুষের শরীরে নেগেটিভ বারবডি থাকে। কোষে বারবডির সংখ্যা নির্ণয় করে সহজে বলা যায় যৌন লিঙ্গ অস্বাভাবিক আছে কিনা। ক্রোমোজোমের ত্রুটি ও বারবডির সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ছয় ধরনের ‘হিজড়া’ চিহ্নিত করতে পেরেছেন।

3602 views

Related Questions