1 Answers
প্রত্যেক মানুষকেই মনী তথা বীর্য হতে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটিই সত্য কথা। আল-কুরআন আমাদেরকে এই সংবাদ দিয়েছে। পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেও তা প্রমাণিত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ( أَلَمْ نَخْلُقْكُمْ مِنْ مَاءٍ مَهِينٍ ) “আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করি নি? (মুরসালাতঃ ২০) আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ ( فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِق) “অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে”। (সূরা তারিকঃ ৫-৬) সুতরাং উপরোক্ত আয়াত দ্বয়ে যেই পানির কথা বলা হয়েছে, তা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মিলনের মাধ্যমে নির্গত মনী বা বীর্য। এটি পবিত্র না অপবিত্র, আলেমদের থেকে এ ব্যাপরে দু’টি মত পাওয়া যায়। সঠিক কথা হচ্ছে এটি পবিত্র। এই পানি পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে অনেক দলীল রয়েছে। ১) সহীহ মুসলিম শরীফে আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي أَفْرُكُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرْكًا فَيُصَلِّي فِيهِ “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাপড় হতে হাত দিয়ে ঘষে মনী (বীর্যী) পরিস্কার করতাম। তিনি সেই কাপড় পরে নামায আদায় করতেন”। (সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং- ২৮৮) এটি জানা কথা যে ঘষাঘষি করে মনী পরিস্কার করলে তা সম্পূর্ণরুপে পরিস্কার হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাতে দাগ থেকে যাবে। আর তা সহ নামায পড়া প্রমাণ করে যে মনী অপবিত্র নয়। ২) এই পানি দিয়েই নবী, রাসূল অলী-আওলীয়া ও আল্লাহর সৎ বান্দাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ সমস্ত প্রিয় বান্দাদেরকে আল্লাহ্ তাআলা অপবিত্র উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করবেন, তা হতেই পারে না। (দেখুনঃ আশ্ শরহুল মুমতিউ, (১/৩৮৮) সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ কাপড়ে মনী লাগলে কি তা নাপাক হয়ে যায়? (মনী কি নাপাক?) উত্তরে তারা বলেনঃ মনী পবিত্র। তা অপবিত্র হওয়ার কোন দলীল আমাদের জনা নেই। (দেখুনঃ ফতোয়া নং- ৬/৪১৬) শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া (রঃ) বলেনঃ সঠিক কথা হচ্ছে মনী পবিত্র। এটিই ইমাম শাফেঈ এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্মালের প্রসিদ্ধ মত। ইমাম আবু হানীফা (রঃ) বলেনঃ তা অপবিত্র। তবে ঘষাঘষির মাধমে তা দূর করাই যথেষ্ট। ইমাম মালেক (রঃ) বলেনঃ ধৌত করা আবশ্যক। এ সমস্ত মতের মধ্যে প্রথমটিই সঠিক। এটি সকলের জানা কথা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে সাহাবীদেরও স্বপ্নদোষ হত। তাদের শরীরে ও কাপড়ে বীর্য লেগে যেত। আর এটি এমন বিষয়, যা সকলেরই হয়ে থাকে এবং তা গোপন থাকার বিষয় নয়। তা যদি অপবিত্র হত, তাহলে তিনি তাদের কাপড় ও কাপড় থেকে সসম্পূর্ণরূপে দূর করার আদেশ দিতেন। তিনি পায়খানা ও পেশাব শরীর ও কাপড় থেকে দূর করার এবং পরিস্কার করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি কাপড় থেকে হায়েযের (মাসিকের) রক্ত ধৌত করার আদেশ দিয়েছেন। কারণ এগুলো অপবিত্র। মাসিকের রক্ত কাপড়ে ও শরীরে লাগার চেয়ে মনী বা বীর্য কাপড়ে ও শরীরে আরও অধিক শক্তভাবে লেগে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন সাহাবী থেকে সহীহ সূত্রে এ কথা বর্ণিত হয়নি যে, তিনি কাউকে শরীর ও কাপড় থেকে বীর্য ধৌত করার আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং অকাট্যভাবে জানা গেল যে, বীর্য পবিত্র বলে তা ধৌত করা ওয়াজিব নয়। (দেখুন মাজমুআয়ে ফতোয়া, ২১/৬০৪) আল্লাহই ভাল জানেন। লেখকঃ আব্দুল্লাহ শাহেদ