283364 views

1 Answers

#9 আত্মহত্যা মানে নিজেকে নিজে হত্যা করা। এর সাথে মৃত্যু এবং আত্মার সম্পর্ক বিদ্যমান। যেহেতু এই দুটি ব্যাপারে আমাদের বিজ্ঞান খুব বেশি কিছু বলতে পারেনা, তাই ধর্মীয় দিক থেকে আত্মা এবং আত্মহত্যার ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করতে হবে।

প্রথমে জানি আত্মা কি?
আত্মা হল সকল কার্যকলাপের মূল হাতিয়ার, হোক সে মানুষ বা অন্য কোন প্রাণী। আত্মা ছাড়া দেহ অচল। দেহে যতসময় আত্মা থাকে, তত সময় দেহটি সচল থাকে। আর সে মারা গেলেই আত্মাটি দেহ থেকে বের হয়ে যায়, যার কারনে দেহ অচল এবং মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

আত্মা হল এক প্রকার শক্তি। যার কোন ক্ষয় নেই। আর আমাদের বিজ্ঞানও শক্তির অবিনশ্বতা অসম্পর্কে বলে, “শক্তির কোন ক্ষয় নেই। কেবল এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে রূপান্তর আছে মাত্র।”। ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের আত্মাও এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

মানুষ আত্মহত্যা করলে আত্মা কোথায় থাকে?

আসুন, প্রথমে একটি কোরআনের আয়াত শুনি:

وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُم حَفَظَةً حَتَّىَ إِذَا جَاء أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لاَ يُفَرِّطُونَ
অনন্তর তাঁরই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমাদেরকে বলে দিবেন, যা কিছু তোমরা করছিলে। তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর প্রবল। তিনি প্রেরণ করেন তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।
(সূরা: আল আন-আম | আয়াত: ৬১)

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন, যখন কোন ব্যাক্তি মৃত্যু বরন করে তখন আল্লাহ্ প্রেরিত ফেরেশতাগণ সেই ব্যাক্তির আত্মা হস্তগত করে। অর্থাৎ, মৃতব্যাক্তির আত্মা আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়। এটি তখন আর পৃথিবীতে বিরাজ করে না। আমরা মৃত ব্যাক্তির উদ্দেশ্যে যে জানাযা আদায় করি, সেটি আসলে সেই আত্মাকে ধর্মীয় নিয়মে বিদায় জানানো। তাই হোক সে স্বাভাবিক মৃত্যু বা অস্বাভাবিক (আত্মহত্যা বা অন্য কিছু), আল্লাহ না চাইলে মৃত ব্যাক্তির আত্মা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না বা অবস্থান করে না।

যেহেতু পৃথিবীতে আত্মাটি বিরাজ করে না, তাই তার পক্ষে মানুষকে ভয় দেখানোর কোন উপায়ও নেই। তাছাড়া মৃত্যুর পরপরই তার শাস্তি বা শান্তির বিষয়টিও চলে আসে। যারা দাবি করে যে মৃত ব্যাক্তির রূপে কাউকে দেখেছে, সেগুলি দুষ্ট জিন ছাড়া আর কিছু নয়।

283364 views

Related Questions