1 Answers

University of Wisconsin-Madison এর বায়োকেমিস্ট্রির অধ্যাপক অ্যান পালমেনবার্গ এর নেতৃত্বে একদল গবেষক সর্দি-কাশির জন্য দায়ী একটি ভাইরাসের ক্যাপসিড বা প্রোটিন আবরণ সম্পর্কে বেশ নিখুঁত টপোগ্রাফিকাল মডেল উপস্থাপন করেন। এই ভাইরাসের ব্যপারে ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা তেমন কিছু জানতেন না। ধারণা করা হয়, শিশুদের যে জ্বর-সর্দি হয়, তার অন্তত ৫০ ভাগের জন্য দায়ী rhinovirus C নামের এই ভাইরাস। এছাড়া শ্বাসকষ্টজনিত রোগ যেমন হাঁপানির জন্যও এই ভাইরাস দায়ী।

image

সর্দি-কাশির জন্য দায়ী ভাইরাসগুলোকে Family A ও B তে ভাগ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হত এদেরকে গবেষণাগারে খুব সহজেই জন্মানো যায় ও এদের ব্যপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। কিন্তু rhinovirus C এর ব্যপারে এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হল। এই ভাইরাসটি ২০০৬ সাল পর্যন্ত গবেষকদের চোখকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়া এটিকে গবেষণাগারে জন্মানোও সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে gene chips ও উন্নততর জিন সিকুয়েন্সিং এর মাধ্যমে দেখা গেল, নতুন এই ভাইরাসটিও অন্যান্য ভাইরাসের সাথে মানবদেহের কোষগুলোতে লুকিয়ে ছিল।

rhinovirus C এর জিনোমের ৫০০ জিন সিকুয়েন্স আর উন্নত বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহার করে নতুন এই ভাইরাসের মডেল তৈরি করেন গবেষকরা, যেটি ভাইরাসটির ক্যাপসিডের একটি ত্রিমাত্রিক উপস্থাপন প্রদান করে। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী A ও B প্রজাতির ভাইরাসদের বিরুদ্ধে ওষুধ উদ্ভাবিত হলেও এই রাইনোভাইরাসকে এখনো প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না, যেটি কিনা সর্দি-কাশির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

কিন্তু কেন এর কোন প্রতিষেধক নেই এখন পর্যন্ত? কারণ এই ভাইরাসটির মানুষের দেহের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে দেহের ভেতর ঢুকে পড়া ও দেহের কোষের সাথে সংযুক্ত হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনো অজানা। এর সাথে A ও B প্রজাতির ভাইরাসগুলোর কোন মিল নেই। যেকারণে কার্যকর ওষুধ উদ্ভাবন করা যাচ্ছে না। গবেষণাপত্রটি Virology জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

3365 views

Related Questions