1 Answers

বয়স হলে ত্বক হারায় স্থিতিস্থাপকতা, নমনীয়তা, ঔজ্জ্বল্য। ঝুলে পড়ে ত্বক, তাতে দেখা দেয় ভাঁজ - একেই বলে রিঙ্কল বা বলিরেখা। ত্বকের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন গ্রন্থির তৈলাক্ত নিঃসরণ এ সময় কমে আসে। তাই ত্বক হারায় তার উজ্জ্বলতা এবং নমনীয়তা। ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন ফাইবার যা ধরে রাখে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা। বয়স বেড়ে গেলে এই স্থিতিস্থাপকতা একেবারেই কমে গিয়ে ত্বক ঝুলে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন হরমোন, যেগুলো ত্বককোষের নানা উপকারে লাগে সেগুলোও কমে যাওয়ার ফলে ত্বকের ঠিক নিচে চর্বির সঙ্গে যে একটা টানটান ভাব থাকে তাতেও দেখা দেয় অভাব। পুষ্টির অভাবে এবং দীর্ঘদিন দীর্ঘ সময় ধরে রোদে পুড়লে অকালে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন ফাইবার ভেঙে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে পারে। কোনো বয়সে কতটা বলিরেখা পড়বে তা নির্ভর করে নানা বিষয়ের ওপর।

কারণ

জিনগত কারণ: রোগা ও কালো মানুষদের বলিরেখা কম হয়।

মুখের মাংসপেশী: যারা অতিরিক্ত হাসেন তাদের বলিরেখা আগে দেখা যায়। অতিরিক্ত মাসাজ এবং মুখের ব্যায়াম থেকেও এটা হতে পারে।

ওজন হ্রাস: ডায়েটিং করে বা অসুখের ফলে কারো ওজন কমে গেলে, শরীরে ফ্যাটের পরিমাণও কমে যায়। ফলে দেখা দেয় বলিরেখা।

অতিরিক্ত ধূমপান: অতিরিক্ত ধূমপান যারা করেন তাদের দেহের অন্যান্য অংশের সাথে মুখেও রক্তসঞ্চালন কমে যায়। ত্বক হারায় তার স্বাভাবিক জৌলুস, দেখা দিতে পারে বলিরেখা।

উন্মুক্ত দেহাংশ: অতিরিক্ত তাপ, ঠাণ্ডা এবং বাতাসের সংস্পর্শে দেহের যেসব অংশ বেশি আসে সেসব জায়গায় বলিরেখা বেশি পড়ে। এ কারণেই মুখ, হাত-পায়ের ত্বক যত তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যায়, পিঠ বা কোমরে তা হয় না।

স্থিতিস্থাপকতা কমলে: বার বার বেশি ক্ষারীয় সাবানে হাত ধুলে, বিশেষ করে গরম পানিতে, হাতের ত্বকের কোলাজেন ফাইবার অকালে ছিঁড়ে যায়, ত্বক হারায় তার স্থিতিস্থাপকতা বা টানটান ভাব।

সাধারণত চার বা পাঁচের ঘরে পা দেয়ার পর ত্বকের নানা পরিবর্তন হতে শুরু করে। দেহের যেসব জায়গার ত্বক খুব পাতলা, যেমন চোখের পাতা, গলা, চিবুক - এসব জায়গায় বলিরেখা আগে পড়ে। ত্বকের নিচের চর্বি কমে যাওয়ার ফলে ত্বক ঝুলে পড়ে।

2938 views

Related Questions