1 Answers

 আসলে  সূরা ফাতিহাকে সুরাতুর রুকিয়া سورة الرقية বা ঝাড়-ফুঁকের সূরা বলা হয়। কারণ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবু সাঈদ খুদরী রা. এ সূরা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করে সাপ/বিচ্ছুর বিষ নামিয়েছিলেন। এটিকে শাফিয়া বা রোগমুক্তির সূরাও বলা হয়।

 এটি দ্বারা রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) করার নিয়ম হল, এটি পড়ে রোগীর গায়ে ফুঁ দেয়া। নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা-যেমন, ৭ বার ৪০ বার, ৪১ বার ইত্যাদি- হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই সংখ্যা নির্দিষ্ট না করে যথাসাধ্য এটি পড়ে পড়ে ফুঁ দিতে থাকবে। যতবার সম্ভব ততবার দিবে। 

অনুরূপভাবে তা নির্দিষ্ট কোন সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন ফজরের পরে, সন্ধ্যার সময়, ঘুমানোর আগে ইত্যাদি। বরং যে সময় রুকিয়া করা যায়।

তবে সূরা ফাতিহা পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা রোগীকে পান করতে দেয়া ও গোসল করতে দেয়া যেতে পারে বলে বিজ্ঞ ওলামাগণ মত দিয়েছেন। সালাফদের থেকে এর আমল পাওয়া যায়।

 উল্লেখ্য যে, সূরা ফাতিহা ছাড়াও সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ইত্যাদি সুরাগুলোও রুকিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সুন্নাহ দ্বারা সু প্রমাণিত। সুতরাং উপরোক্ত সূরাগুলো পড়ে রুকিয়া করা যেতে পারে।

রোগী নিজেও উপরোক্ত সূরাগুলো পড়ে শরীরে হাত মাসেহ করতে পারে অথবা যে কোন নেককার ভালো মানুষ যে শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে জানে তাকে দিয়ে করানো যেতে পারে।

 তৎসঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা-পথ্য ও ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করাও দোষিণীয় নয়। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন ঝাড়ফুঁকের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন তিনি নিজেও বিভিন্ন ডাক্তারি পদ্ধতি অবলম্বন করেছন ও তার উম্মতকে পরামর্শ দিয়েছেন। যা ত্বিব্বে নববী বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চিকিৎসা পদ্ধতি নামে পরিচিত।

তবে মনে রাখতে হবে আল্লাহ তাআলাই প্রকৃত শিফা দানকারী। তাই তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখতে হবে। নিশ্চয় তিনি সকল রোগের আরগ্য দানকারী।

1666 views Answered

Related Questions

Next steps