1 Answers
প্রভু যীশু তাঁর প্রচারজীবন শুরু করেন ঐশরাজ্যে প্রবেশের আহবান জানিয়ে। দীক্ষাগুরু যোহন কারাগারে বন্ধী হওয়ার পর তিনি তাঁর সুসমাচার এই বলে ঘোষণা করেন, সময় পূর্ণ হযেছে, ঐশরাজ্য এখন খুব কাছে এসে গেছে। তোমরা মন পরিবর্তন করুন ও সুসমাচারে বিশ্বাস করুন। প্রভু যীশু জগতে এসেছেন তাঁর পিতার ইচ্ছা পালন করে এই জগতে ঐশরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে। তাঁর পিতার ইচ্ছাই হচ্ছে, মানুষকে জীবন দান করা, যাতে মানুষ তাঁর ঐশ জীবন সহভাগিতা করতে পারে। এই কারণে তিনি তাঁর চারপাশের মানুষকে সমবেত করেন। তিনি তাঁর বাণীর দ্বারা, ঐশরাজ্যের প্রতীক স্বরূপ বিভিন্ন চিহ্ন ও তাঁর শিষ্যদের প্রেরণ করার মধ্য দিয়ে মানুষকে তাঁর চারপাশে সমবেত হতে আহবান করেন। সর্বোপরি প্রভু যীশু তাঁর ক্রুশ মৃত্যুবরণ ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঐশরাজ্যের প্রকাশকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যান।
প্রভু যীশু তাঁর ঐশরাজ্যে সবাইকে আহবান করেন। যদিও ঐশরাজ্যের কথা প্রথমে ঈশ্বরের প্রিয় জাতি ইস্রায়েল সন্তানদের কাছে ঘোষণা করা হয়েছে, তথাপি তা সকল জাতির, সকল মানুষের জন্য। সবাই এই ঐশরাজ্যের নাগরিক হতে আহূত।
যদিও ঐশরাজ্য সবার জন্য তথাপি এই রাজ্যে প্রবেশের বা এর নাগরিক হওয়ার অগ্রাধিকার পাবে দরিদ্র ও বিনম্ররা। যীশু নিজেই বলেছেন যারা অন্তরে দীন ধন্য তারা কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই। তাঁরা তাঁর বাণী বিনম্র অন্তরে শোনে, গ্রহণ করে ও সে অনুসারে জীবন যাপন করে। ঐশরাজ্যের মর্মসত্য জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানদের কাছে গোপন রাখা হয়েছে কিন্তু প্রকাশ করা হয়েছে নিতান্ত দীনতম ও ক্ষুদ্রতমদের কাছে। প্রভু যীশু তাঁর পার্থিব জীবনে দীনদরিদ্রদের পক্ষ সমর্থন করেছেন, তাদের সাথে থেকেছেন, তাদের ভালোবেসে তাদের সমব্যথী হয়েছেন। সেই কারণে তিনি ঐশরাজ্যে প্রবেশের পূর্বশর্ত হিসেবে ভালোবাসাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন।
তথাপি ঐশরাজ্যের নাগরিক হওয়ার জন্য যীশু ঐশরাজ্যকে একটি ভোজসভার সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর এই ভোজসভায় তিনি পাপীদের নিমন্ত্রণ করেন। কারণ তিনি তো ধার্মিকদের জন্য এই জগতে আসেননি, এসছেন পাপীদের আহবান করতে।
ক্লাস সেভেন এর বৌদ্ধধর্ম বইয়ের সপ্তম অধ্যায় থেকে সংগ্রহীত