1 Answers

শরীরের বিভিন্ন পেশী, ধমনী এবং বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রন্থির ও সন্ধিগুলি মুক্ত ভাবে ঘোরানো এবং বিভিন্ন দিকে চালানো ও নড়াচড়া করানোর ক্ষমতাকে নমনীয়তা বলা হয়। যে কোন ব্যায়াম এর জন্যই শুধু না, হাঁটাচলা সহ যে কোন কাজের জন্যই এই নমনীয়তা থাকা জরুরী। স্ট্রেচিং শরীরের এই নমনীয়তা বাড়িয়ে শরীরকে স্বাভাবিক কাজ ও কষ্টসাধ্য ব্যায়ামের উপযোগী করে তোলে। স্ট্রেচিং দুই ধরণের : ১) Dynamic stretching অর্থাৎ গতিশীল স্ট্রেচিং ২) Static stretching অর্থাৎ স্থির স্ট্রেচিং। ১) ব্যায়ামের আগে ওয়ার্ম আপের সময়ে হাত, পা, কোমর বিভিন্নভাবে বাঁকানো ও ঘোরানো। এগুলি হল গতিশীল স্ট্রেচিং। ২) শরীরের একটি বিশেষ অবস্থানে বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাখার মত ব্যায়ামকে স্থির স্ট্রেচিং বলে। এই স্ট্রেচিং ব্যায়ামের শেষে করা উচিৎ। কারণ শরীর ঐ সময় পুরো গরম থাকে ফলে বিভিন্ন পেশীগুলিকে টেনে বাড়ানো বা সংকুচিত করতে সুবিধা হয়। অর্থাৎ সব সময় মনে রাখবেন ব্যায়াম শুরু করার সময় অবশ্যই ওয়ার্ম আপ আর ব্যায়াম শেষ করেই অবশ্যই কুলডাউন করতে ভুলবেন না"। তাহলে শুরু করি কিছু স্ট্রেচিং? দু তিনটি বলছি; সবতো বলা সম্ভব নয় তাই অবশ্যই পুরো জানতে প্রশ্ন করুন। স্ট্রেচিং ১ :ক্যাট স্ট্রেচিং - হাঁটু ভেঙ্গে দুটো হাত এবং হাঁটুর উপর ভর দিয়ে উপুড় হয়ে বসুন। কাঁধ দুটো হাতের সোজাসুজি থাকবে, এবং হিপ হাঁটুর সোজাসুজি উপরে থাকবে। শ্বাস নিন এবং কাঁধ পিছন দিকে ঘোরান। পেট ও তলপেট পিছন দিকে টানুন। এবার থুতনি কাত করে উপর দিকে তাকান। শ্বাস ছাড়ুন এবার ভঙ্গীটাকে উলটান। পেটের অংশ ভিতর দিকে টানুন। সম্পূর্ণভাবে শ্বাস বাইরের দিকে ছাড়ুন। থুতনি বুকের উপরে রাখুন (ভিতরের দিকে) নিচে পায়ের দিকে তাকান। এবার আস্তে আস্তে ৫ বার শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এই স্ট্রেচিং প্রথম প্রথম ৫ বার করবেন এর পর দুদিন অন্তর বাড়াবেন দুটো করে। স্ট্রেচিং ২: সাইড স্ট্রেচিং - শ্বাস নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান, পা জোড়া করে। এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের সঙ্গে লক করুন। হাত দুটো লক অবস্থায় মাথার উপর তুলুন। এবার ডানদিকে শরীরটাকে হাত সমেত যতটা সম্ভব নিয়ে যান। কিছুক্ষণ থেকে নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার শ্বাস নিয়ে বাঁ দিকে হাত সমেত শরীর নিয়ে যান। থাকুন নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে সোজা হন। এইভাবে ১০ বার করবেন। স্ট্রেচিং ৩: ক্রাঞ্চ - সোজা হয়ে শুয়ে, পা জোড়া করে সোজা করে উপরে তুলে ধরুণ। ডান হাত মাথার তলায় রাখুন। বাঁ হাত দিয়ে প্রথমে বাঁ পায়ের হাঁটু ধরুণ মাথা তুলে। আবার শুয়ে পরুন, এবার মাথা তুলে বাঁ হাত দিয়ে ডান পায়ের পাতা স্পর্শ করুন। পা স্পর্শ করার সময় শ্বাস নেবেন আর ছুঁয়ে ফিরে আসার সময় নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শোবেন। এবার ডান হাত দিয়ে একই পদ্ধতিতে করুন, প্রথম ডান পায়ের হাঁটু তার পর বাঁ পায়ের পাতা এইভাবে ১০ বার ডান দিকে আর ১০ বার বাঁ দিকে। ১ বার আস্তে আস্তে আর ১ বার জোরে করতে হবে। স্ট্রেচিং এর উপকারিতা - শরীরকে যে কোন চোট আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্ট্রেচিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্ট্রেচিং এর মাধ্যমে পেশিগুলি লম্বা হয় এবং তাঁর নমনীয়প্তা বাড়ে। আর পেশী লম্বা হওয়া মানে পেশী শক্তিশালী হওয়া। আর শক্তিশালী পেশী শরীরকে আরো শক্তিশালী করে। আর সেই কারণে মেটাবলিজম বাড়িয়ে শরীরকে সুগঠিত হতে সাহায্য করে। সুত্র ইন্টারনেট

2687 views Answered

Related Questions